মধ্যরাত : পর্ব-৪৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : রাত অনেক হল শোয়ার জন্য দোলাকে বললাম, যাও ঘুমোও গিয়ে। পরে তোর কাছে আরও শোনা যাবে। দোলা কি যেন ভাবল কতক্ষণ, তারপর আস্তে আস্তে ওর রুমের দিকে পা বাড়াল। আমিও শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম, কিভাবে ওকে আরও ভাল পড়াশুনার দিকে এগিয়ে দেওয়া যায়। তার পরের দিন ইউনিভার্সিটিতে গেলাম। কি ভাবে, কি প্রসেজে করলে, এম. এস, এ এডমিশন নিতে পারবে তাই বন্ধুদের সাথে আলাপ করলাম। দোলার ইকনমিক্সের রেজাল্ট খুব ভাল, তারপর দেখা যাক কম্বোডিয়ায় একটা পিটিশন করলাম, ম্যাগগিল একটা করা হল।
ওর ছোট্ট দুষ্টু ভাই ওরা নাকি ভুব ভাল লেখা পড়ায়। অথচ দোলার বাবা ছেলে মেয়ে লেখা পড়ার দিকে কম নজর দেন। ওদের দীদিমা, আমার দিদিই সব দেখাশুনা করেন। দোলার ব্যাপারেও বড়দিই আমার সাথে চিঠি পত্র যোগাযোগ করেছেন। আশ্চর্য্য ওর বাবা একখানা চিঠিও আমাকে দেননি। আশ্চর্য্য অথচ জামাই বাবু খুব ভাল লোক ছিলেন, তার ছেলে এমন বেখেয়ালী তা কি করে জানব। আজ হঠাৎ করে ডোরার টিঠি পেলাম। দোলা বলল কার চিঠি ? বললাম, আমার এক ক্লাশ ফ্রেন্ড (বান্ধবী)। দোলা কান্না করতে গেল, সুশান্ত ও উমার চিঠি পেলাম। ওরা অনেক কথা লিখেছে। খুব ভাল লেগেছে নাকি মন্ট্রিল। আবার কোন সময় বেড়াতে আসবে। নাতনী এসছে, নাকি ? সুশান্ত দাদুর কথা যেন বলা হয়, দোলাকে নিয়ে টরেন্টোতে বেড়াতে যাওয়ার কথা লিছেছে। উমা দোলাকে দেখতে চায়। তারপর অনেক অনেক কথা।
আমি খুব মনোযোগ দিয়ে ওদের চিঠিগুলো পড়েছি। সুশান্তর নিজের সন্তান হয়নি বলে ও বাইরের লোকের প্রতি খুব আকর্ষণ। প্রতিদিন ইউনিভার্সিটিতে যাই, ছাত্র পড়াই, ছাত্রী পড়াই, কত বিচিত্র লোকের সমাগম দেখি। কত হরেক রকমের লোকের সাথে আলাপ করি, বাসায় এসে খাই দাই ঘুমাই। এতদিন পর্যন্ত আদও যতœ, মায়া-মমতা, ভালবাসা যেন আপন করে পাইনি। রক্তের টান, রক্তের ডাক যেন আমাকে কাছে ডেকে আদর করে দুষ্টু আপনতার কথা বলেনি। আজ যেন কাছে কাছে দুষ্টু চোখ, দুষ্টু হাত আমাকে আদর করতে চায়। দোলা বলল, দাদু ¯œা করে খেতে এস। আমি অবোধ শিশুর মত ¯œান করে এসে খেতে বসলাম। দোলা কাছে এসে বসে অবুঝ বালককে যেমন করে মা বেছে বেছে খাওয়ায়, তেমনি আমাকে দোলা খাওয়াচ্ছিল। বলল দাদু যাও ঘুমুওগে।
দোলা ¯œান সেরে নিজে খেয়ে ড্রইং রুমে রাশিক্রিত বই এর মাঝে ডুবে গেল। ও খুব পড়াশুনো করতে ভালবাসে। স্বাধীন হিন্দুস্তানের পিতা মহাত্মা গান্ধীকে আলোচনা করছিল সেদিন। মহাত্মা গান্ধীর একখানী বাণী পড়ে, বলল দাদু তুমি গান্ধীর ছবি দেখেছ ? আমি বললাম না দেখিনি তো, দাদু তুমি কি ? গান্ধী দেখনি ? একজন একনিষ্ঠ কর্ষ্মিও বিশ বছরের শ্রম ও সাধনা সফল হয়েছে। স্বীকৃতি এসেছে পুরস্কারের মাধ্যমে। বলছিলাম রিচার্ড এটেন বোরো পরিচালিত গান্ধী ছবির কথা যখন অস্কার পুরস্কার ঘোষণা করা হল। তখন এক এক করে আটবার উচ্চারিত হল গান্ধী। শ্রেষ্ঠ ছবি অন্য সাতটি ক্ষেত্রে অস্কার পেয়ে গান্ধী নতুন করে সম্মান পেল।
(চলবে—–)
