টাকা খেয়েও পঙ্গুভাতা করলেন না সমাজসেবা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির

নাম বাবুল, পেশায় একজন হকার। রাজাপুর ২নং ওয়ার্ডের মেঘনার কোলে ছোট্ট কুটির ঘরে তার বসবাস। বাবুল নিজেও একজন প্রতিবন্ধীর মত চলাফেরা করেন। দুই মেয়ে বাবুলের এর মধ্যে উম্মে কুলসুম শারিরীক প্রতিবন্ধী।
বাবুল ভোলার বাণীর এই প্রতিবেদক কে বলেন, ভাই আল্লাহ্ দুনিয়াতে গরীবের জন্য কারো দরদ নাই। কি হয়েছে বিস্তারিত জানতে চাইলে বাবুল বলেন, আমাদের মেম্বার মাসুদ রানার পরামর্শে আমার মেয়ের প্রতিবন্ধী সনদ নিয়ে ভোলা সদর উপজেলার সমাজ সেবা অফিসের কর্মকতা নাসির স্যারের কাছে যাই। নাসির স্যার আমাকে সমাজ সেবা কর্মকতা হুমায়ুন স্যারের রুমে নিয়ে যান এবং আমার মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেওয়ার জন্য বলেন।
কাগজপত্র দেখে হুমায়ুন স্যার প্রতিবন্ধী কুলসুমকে ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতিবন্ধী কার্ড রেখে আমাকে হুমায়ন স্যার বলেন, খরচ দেও কিছু। তখন আমি প্রথমে ৫শ’ টাকা দেই। এরপর স্যারে কয় এটায় হবে না। তখন আরো ৫শ’ টাকা দেই। তখন স্যারে কয় এবার যাও।
হুমায়ন স্যাররে ১ হাজার টাকা দিয়ে আমি আর আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে ভাড়া দিয়ে যে বাড়ীতে যাবো সেই টাকাও ছিলো না। তখন ওই অফিসের পিয়ন বাবুল নামের একজনকে বলি ভাই আমার ভাড়া নাই স্যার থেকে কিছু টাকা নিয়ে দেন তখন তিনি ৫০ টাকা দিলে আমরা ভাড়া দিয়ে বাড়ীতে আসি। এরপরে অনেকবার গেলেও স্যারে আর ভাতা কার্ড করে দেয় নি বরং আমার মেয়ের প্রতিবন্ধী কার্ড চাইলে পরে স্যারে কয় সেটাও নাই পরে ফটোকপি দেখালে কার্ড খুঁজে দিয়েছে। কষ্ট করে টাকা দিলাম, কিন্তু হুমায়ুন স্যারে আমার মেয়ের ভাতা কার্ডটি করে দিলো না; আর টাকাও দিলো না।
এ সময় এই প্রতিবেদকের মোবাইল দিয়ে তখন প্রতিবন্ধী বাবুলের কাছে থাকা হুমায়ুন কবিরের নাম্বার নিয়ে বাবুলকে কথা বলতে দিলে বাবুল ফোন দিয়ে বলেন, স্যার আমি বাবুল। তখন ফোনের অপর প্রান্ত থেকে হুমায়ন কবির বলেন, ও বাবুল কি খবর ? বাবুল যখন বললেন, স্যার আমার মেয়ের ভাতা কার্ডটা যে এখনো করলেন না ? তখন হুমায়ন কবির বলেন, আপনি ৬ মাস আগে দিয়া এখন খবর নেন ? সোমবারে অফিসে আইসেন বলে ফোন কেটে দিয়েছেন হুমায়ুন।
এ বিষয়ে এই প্রতিবেদক হুমায়ুন কবিরের অফিসে গিয়ে তাকে না পেয়ে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি এখন ছুটিতে আছি। বাবুল কে চিনেন ? তার মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দিবেন বলে টাকা নিয়েছেন বলে বাবুল অভিযোগ করেছে এটা সত্য কিনা ? এসময় তিনি বলেন, ভাই নিউজ করার কি দরকার; সামনা-সামনি কথা বলবো।
ভোলা সদর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভাতা কার্ডে কোন টাকা নেওয়া হয় না। ভাতা কার্ড করে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখছি। যদি কেউ নিয়ে থাকেন তা হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।