সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-৪৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : সেদিন কার্লমার্কস এর বইটা হাতে নিয়ে ও বলছিল, জান দাদু আমার এক বন্ধবী ঢাকার উচু মহলে তার বেশ নাম ডাক আছে ও যোগাযোগও আছে। সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, দুবাই, লন্ডন খুব যাতায়াত করে। ও গল্প করল লন্ডনে হাইগেট মিমোট্রিতে সমাধিস্থ হয়ে আছেন মহা মানব কার্লমাকর্স। আন্ডার গ্রাউন্ড রেলপথ থেকৈ নেমে অনেক লোক জনকে জিজ্ঞাসা করে খুঁজে বের করেছে ঐ সিমোট্রি কবরস্থান। বেশ বড় কবরস্থান ঝোপ-ঝাড়, গাছপালায় ভর্তি এই কবরস্থান। গাছপালার মাঝ দিয়ে সরু সরু রাস্তা। সেই সরু রাস্তার গোলক ধাধার চক্রে কয়েকবার পাক খেয়ে অবশেষে সে উপস্থিত হয়েছে।
এহামানবের সমাধির সামনে। লক্ষ্য লক্ষ্য, কোটি মানুষের হৃদয়কে যে স্পর্শ করেছে। লক্ষ্য লক্ষ্য, কোটি মানুষকে যে মুক্তির সন্ধান দিয়েছে। জঙ্গলাকীর্ণ সরু রাস্তার ধারে সেই মহামানবের সমাধিস্থলে শুধু তার একটি প্রস্তর মুর্ত্তি স্থাপন করা হয়েছে। কোন বিশেষ আরম্ভর নেই। নেই তেমন লোকের আনাগোনা। আমার বান্ধবী বলল বৃটিশ জাতি এই সমাথিস্থলকে গোপন করার চেষ্টা করেছে। কোন টুরিষ্ট গাইড বা অন্য কোন বইতে কোথাও মহামানবের সমাথিস্থানের উল্লেখ নেই। এমনকি হাইগেট সিমেট্রির কাছেও কোন ফলক নির্দ্দেশ করে না, মহামানবের সমাধিস্থল কোন পথে বা কোন খানে।
আমি লন্ডনে দেখেছি কত অখ্যাত, অজ্ঞাত লোকের বিরাট বিরাট মুর্ত্তি মোড়ে মোড়ে স্থাপন করে। তাদের কীর্ত্তিকলাপ নিয়ে কত ঢাক-ঢোল পিটানো হয়। টুরিষ্টগাইডরা ঐ সব মুর্ত্তিও সামনে দাঁড়িয়ে বিদেশী পর্যটকদের জ্ঞান বৃদ্ধি করার জন্য কেমন আবেগ প্রবন ভাষায় বক্তৃতা করে। আর এই মহামানব কার্লমার্কসের বেলায় বৃটিশ জাতির কার্পন্য কেন ? কেন এমন অখ্যাত কবরস্থানে তার ছোট্ট একটি প্রস্তর মুর্ত্তি স্থাপন করে, বৃটিশরা তাদের কর্তব্য শেষ করেছে ? দোলা বলল জান দাদু ? আমার মেন হয় ঐ সব কিছুর একমাত্র কারণ বৃটিশরা পৃথিবীর যে কোন জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত এই মহামানবকে বেশী ভয় করে। এ জন্য যে, হয়ত এই মহামানবের চিন্তাধারা একদিন ঘুনে ধরা বৃটিশ পুজিবাদী সমাজ এবং সা¤্রাজ্যবাদী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।
আমি অবাক হয়ে ওর বন্ধুর হাইগেট মিসেট্রির কার্লমার্কস এর কবরস্থানের কথাগুলু শুনলাম। লাষ্ট কমাগুটুকু ওর মুখ থেকে শুনে বিশ্মিত হলাম। এই বিংশ শতাব্দীর এক নবীন চিন্তাধারার মূর্ত প্রতিভা আমার সামনে দিগ উন্মোচন করলো। যুগের প্রবর্তক ওরা, কার্লমার্কসের থিউরীকে লেলিন রূপ দিয়েছে। কাজে পরিণত করছে দোলার মত লাখো লাখো যুবক যুবতী। দোলা আবার বলতে আরম্ভ করল, আমার বান্ধবী বলল, হাইগেট সিমেট্রিতে এক পাগল ঘোড়াঘুড়ি করছি। সে কেমন করে বুঝেছিল জানিনা যে, আমি কার্লমার্কস নামের মহামানবের শেষ বিশ্রামের জায়গাটা খুঁজে বেড়াচ্ছি। বর্তমানে যেখানটায় কার্লমার্কসের মুর্ত্তি স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে কয়েকশ গজ দূওে এবং জঙ্গলের মধ্যে হল আসল কবরস্থান। ঐ খানটায় কার্লমার্কসের পাশেই সমাধিস্থ করা হয়েছে তার সহধর্মীনিকে, তার নাতিকে।

(চলবে——–)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।