মধ্যরাত : পর্ব-৪৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : বললাম ভাল রাঁধুনি বনে গেছিস। যাক ভালই হল বিয়ে থা করিনি, ভাল গিন্নি পেয়েছি। দাদু এসব বললে কিন্তু আমি রাঁধবো না। নারে ঠাট্টা করলাম, কি ছেলে মানুষ ঠাট্টাও বুঝিস-না। খেয়ে দেয়ে এসে ড্রইং রুমে বসলাম। দোলা বলল, দাদু বাড়ীতে একটা তার করে দাও। মা দিদিমা ভাববে। হ্যাঁ, ভালো কথা মনে করেছিস। দোলা বলল, জান দাদু; আমার ছোট ভাই দুটু’র কথা মনে পড়ে। ওদের নাম স্বপ্ননীল, ইন্দ্রনীল। খুব কাঁদছিল দিদি’র সাথে যাব। মা বললেন, তোর দিদি তোদের জন্য অনেক দূরে থেকে অনেক অনেক খেলনা জামা-কাপড় নিয়ে আসবে। কাঁদলে আর আনবে না। আমার চোখ দু’টো জলে ভরে উঠল, মাথায় ওদের হাত রেখে আশির্বাদ করে এলাম। দিদিমা-ত চোখ মুছছেন। বাবা বললেন, দেখ বিপাশা এরকম করলে মেয়েকে বিদেশে পড়াতে সখ হয়েছিল কেন ?
দিদিমা বললনে, এতদিন কাছে ছিল তাই বড্ড মায়া হচ্ছে। বুকটা কেমন কেমন করে উঠে, হায়রে মায়ের মন। দিদি এসেছিল, বলল চিঠিদিস তোর কথা খুব মনে হবে। জামাই বাবু বললেন, কত চিঠি দেবে দোলা, সেখানে গিয়ে সব ভুলে বসে থাকবে। কত রঙ্গিন স্বপ্ন দেখবে, বড় বড় ইউনিভার্সিটি, কত দোকান-পাট, কত বাড়ী-গাড়ী। জামাই বাবু এসব বললে কিন্তু আর চিঠি লিখব না। তা তুমি যে চিঠি দেবে না-তা আমি হলপকরে বলতে পাড়ি। জান দাদু, জামাই বাবু কিন্তু খুব রসিক বা ঝগড়া করতে পারে। দোলের সময় যা মজা করে তা আর বলে শেষ করা যায় না। জামাই বাবু দোলের সময় না এলে দোলের উৎসবই আমাদের মাটি হয়ে যায়।
আমি বললাম, দোলা এখানে-ত সবাই পেন্ট পড়ে ঘুরে বেড়ায়। তুমি পেন্ট কিনবে না শাড়ী ? দোলা বলল আমার অনেক শাড়ী আছে। যখন লাগবে প্রয়োজন হলে বলব। এখন কিছুর দরকার নেই বরং পড়াশুনোর ব্যাপারটা দেখো দাদু চল না দোকান থেকে ঘুড়ে আসি। দোলাকে নিয়ে শাড়ীর দোকানে উমাতে গেলাম। বললাম দেখ কোনটা পছন্দ হয়। দোলা শাড়ী কিনতেই চায় না, বলে একি শাড়ী ? বাংলাদেশে কত শাড়ী, সবচেয়ে তাতের শাড়ী আর জামদানিই বেশী বৈশিষ্ট। তবু আমি নিজেই পছন্দ করে দুটু জর্জ্জেটের শাড়ী কিনে দিলাম। দোলা অনেক আপত্তি করলো। পথে আসতে অমিয়র বাড়ীতে গেলাম, ওরা বাসায়ই ছিল। দোলাকে দেখে খুশী হল। বৌদি দুপুরের লাঞ্চ করিয়ে তবে ছাড়ল। অমিয়কে বললাম, দোলায় এম.এস করার কথা, অমিয় শুনে খুশী হল। বাসায় এলাম। দোলা ঘরে এসে দেশ থেকে যে সব জিনিস এনেছিল সে সব সুন্দর করে পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখল। ঘি কাঁচের বৈয়ামে তুলে রাখল। আচার গুলু ভিন্ন ভিন্ন বৈয়ামে ভরে রাখল। খেজুরের পাটালি খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে রেখেছে। কুমড়োর বড়ি কৌটায় ভরে রাখল।
রাতের খাওয়ার জন্য নিজের রুচি অনুসারে রাঁধল। আমার ওকে কিছুই বলতে হয় না। যেন নিজের বাড়ীর মত, নিজের সংসারের মত করে সব করে যাচ্ছে। আমাকে যেন আপন করে নিজের মত একজন মনে করে। সংসারের সব দায়িত্ব গ্রহণ করল। কাজের অবসরে ড্রইং রুমে বসে বই পড়ে। শেলাই করে মেয়েটার যেন অসীম ধৈর্য্য। মহাত্মা গান্ধী, নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, লেলিন, কালমার্কস এসব বইগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করে, পড়াশুনা করে, গানেও তার খুব আসক্ত। যদিও আমি তার এখনও সব কিছু ভাল করে শুনিনি।
(চলবে———)
