স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবী ভোলার অভিভাবক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের

 

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ২০২০ সালের মার্চ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাঝখানে খুলে দিয়ে আবার বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবী জানিয়েছে ভোলার শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শিক্ষকরা। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি তাদের।

দীর্ঘ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা বইয়ের জগত ছেড়ে ফেসবুক বা পাবজি গেম ও নেশার জগতে আসক্ত হয়ে পড়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট আদান-প্রদান চলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট ভালোভাবে বুঝতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় বা সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিনের জন্য হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট বুঝতে সুবিধা হবে বলে মনে করেন ভোলার শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি বুঝে অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস চালু করা যেতে পারে বলে জানান তারা।

ভোলা ফজিলেতুনেছা মহিলা কলেজ এর শিক্ষার্থী উম্মে সালমা রত্না বলেন এ ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে আমরা যেমন বই থেকে দুরে সরে যাবো তেমনি শিক্ষকদের সাথেও দৃুরুত্ব বেড়ে যায় এতে পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবী তুলেন এই ছাত্রী।

ভোলা কালেক্টর স্কুল এন্ড কলেজ এর অভিভাবক দৈনিক ভোলার বাণীর সম্পাদক মাকছুদুর রহমান বলেন, স্কুল খোলা থাকলে শিক্ষার্থীরা সচেতন থাকে এবং করোনা সম্পর্কে তারা বেশি সচেতন থাকে কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের গাইড না পেয়ে শিশুরা যেমন শিক্ষায় পিছিয়ে যাচ্ছে আবার তেমনি বাহিরে ঘুরাফেরা করার কারনে করোনায় ঝুঁকি বেশি রয়েছে।

নাজিউর রহমান ডিগ্রী কলেজ এর ইংরেজি বিভাগের প্রধান কামাল হোসেন শাহীন বলেন, শিক্ষার্থীরা এমনেই এখন অনলাইনে আসক্ত, তারা দীর্ঘদিন যে ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাহিরে এ ভাবে চলতে থাকলে তাদের স্কুলমুখী করতে কষ্ট হবে।

তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই শিফট করে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবী জানান কামাল হোসেন শাহীন।

গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোর্শেদ আলম নোমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে তো আর শিক্ষার্থীদের ঘরবন্ধী করে রাখা সম্ভব না তাই টিকা নিশ্চিত করে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভোলার সাবেক এক জেলা শিক্ষা কর্মকতা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাবক, ছাত্র-শিক্ষক সবাই উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক এই জেলা শিক্ষা কর্মকতা।

বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদাররেছীন এর ভোলা জেলার সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোবাশ্বিরুল হক নাঈম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এটা এখন গণদাবী, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দেশের সব খোলা থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি সমস্যা? তিনি আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে আমরা শিক্ষার্থীদের করোনা সম্পর্কে আরো সচেতন করে তুলতাম কিন্তু এখন কোন জবাবদিহিতা না থাকায় মাঠে বাজারে চলাফেরা করে শিক্ষার্থীরা আরো করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবী জানান মোবাশ্বিরুল হক নাঈম।

ভোলা কালেক্টর স্কুল এন্ড কলেজ এর সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহনেওয়াজ (চন্দন) বলেন, করোনা মহামারী একটি কঠিন ব্যাধি, আমরা অবশ্যই মেনে চলতে হবে তবে এই ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে করোনার চেয়ে শিক্ষায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এখন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খোলার বিষয়ে তাগাদা দিয়েছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এক বিবৃতিতে বলেন, স্কুল খোলা রাখুন। স্কুলগুলো পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬১ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত। কোভিড-১৯-এর ওমিক্রন ধরনটি সারা বিশ্বে যখন ছড়িয়ে পড়ছে, এটি যাতে শিশুদের পড়াশোনাকে ব্যাহত করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে আমরা সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই। পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিপর্যয় এড়াতে এবং শিশুদের তাদের শেখার পথে ফিরিয়ে আনতে ইউনিসেফ কিছু সুপারিশও করেছে। এরমধ্যে অন্যতম শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের অবিলম্বে টিকা দিতে হবে। প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মী ও উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে কোভিড-১৯-এর টিকাদানের পরপরই এই টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের সম্পূর্ণরূপে সমর্থন ও অগ্রাধিকার দেয়ার কথা জানান।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।