মধ্যরাত : পর্ব-৪৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : আমার মা খুবই শান্তশিষ্ট, স্বল্পভাষী, ধীরস্থির। দিদিমা মাকে খুব পছন্দ করেন। দোলার কথা শুনতে শুনতে আমি যেন আমার সেই শৈশবে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই পড়াশুনো না করে খালি সারাদিন খেলাধুলো নিয়ে থাকতাম। বড়দি কত, প্রশান্ত পড়তে বোস। আজ তাহলে চকলেট, লজেন্স খেতে এক পয়সাও পাবিনে। সাবধান এ গরমের ভিতর রোদে বেরুবি না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শেলাই করতে বসতেন। বড়দি খুব ভাল শেলাই করতেন। তারপর বড়দি বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ী চলে গেলেন। আমার দুষ্টমী কমে গেল। বড়দি’র জন্য লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতাম। বড়দি যখন আসতেন আমার জন্য কত খেলনা, কত রকমের খাবার সবার সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন। জামাই বাবু খুব সৌখিন ছিলেন। জামাই বাবু আমাকে খুব আদর করতেন।
বড়দি’র শ্বশুরির মন বেশী ভাল ছিলনা। বড়দির দুষ্টু ননদ ছিল নীহারিকা, সাগরিকা। ওদুটু ছোট ছিল, আমার সাথে খেলাধুলা করতে এসে মারামারি করত। বলত বৌদি এই ছোরাটাকে আমাদের বাড়ীতে এননা, ওমা কি গুন্ডো। এই দেখ আমার চুল কেটে দিয়েছে। দেখ দেখ বৌদি, বৌদি তুমি ওকে বকনা কেন ? বড়দি বলত আমাদের-ত মা নেই, যখন আসি ওখুব কাঁদা কাটি করে, তাই সাথে করে নিয়ে আসি। আচ্ছা আমি ওকে বুঝিয়ে বলব, আর তোমাদের সাথে মারামারি করবে না।
শ্বাশুরুটি বলত কি ছোড়াবে বাবা। আমি জন্মেও এমন বজ্জাত ছেলে দেখিনি। এই তোরা ঘরে আয়, ওর সাথে খেলিসনে। আমি কাঁদতাম আর বলতাম, ও বড়দি আমি কার সাথে খেলব। ওদের আমি মারবনা। বড়দি বলত, সাগর নীহার তোরা আয় ভাই ওর সাথে খেলা কর। বড়দি’র শ্বাশুরি বলত না বাপু তোমার ভাই যেরকম মারামারি করে। বড়দি বলত মা আমাদের মা নেই। আপনাদের বাড়ী এসেছে আমাদের ভাইটা। আপনি একটু আদর করে, স্নেহ মমতায় কাছে ডেকে নিন। মা দেখবেন ও আর দুষ্টুমি করবে না। তারপর থেকে বড়দি’র শ্বাশুরি একদম বদলে গেল। আমাকে কাছে ডেকে রাজ্যের রাজা-বাদশা, ভুত-পেত্নীর গল্প করতেন। নিজের ছেলে-মেয়ের মত আদর করতেন। নীহার-সাগর খুব হিংসা করত। মা তুমি প্রশান্তকে আমাদের চেয়ে বেশি আদর কর।
কেন জানি আজ আমার বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত দুকূল ছাপিয়ে অনেক স্মৃতি বিজরিত দিনগুলি আমার মনের দুয়ারে আকুলি ব্যকুলি করে আমাকে অস্থির করে তুলছে। মায়ের কথা বেশী মনে পড়ছে না। বড়দি আমার বড়দি, তার কথাই আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। বললাম দোলা বড়দি’র ননদ দুটো কেথায় বিয়ে হয়েছে রে ? ওমা তাও জাননা, দিদিমা বলল, ওদের দুছেলে নিউইয়র্কে ভার্জিনিয়ায় আছে। এবং খুব সুখে আছে, সাগর-নীহার দুজনেই বেঁচে আছে। ওদের ছেলে-মেয়েদেরও নাকি খুব ভাল বিয়ে হয়েছে।

(চলবে——–)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।