সর্বশেষঃ

পুলিশের সোর্সের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ জেলেরা

ভোলার জেলেদের গলার কাঁটা নৌ-পুলিশ

ভোলার মেঘনা, মাসকাটা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান পরিচালনা ও ঝাটকা অভিযানের বরাদ দিয়ে ইলিশা নৌ থানার এ,এস আই মহিন ও শরিফুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। মা ইলিশের রক্ষা অভিযানে মৎস শিকারী ও তাদের ব্যাবহৃত নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযানে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি চালিয়েছে তারা। ভোলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভিবিন্ন নৌযান চলাচলের স্থানে নৌ-থানার পুলিশ টহলের নামে বিশেষ ট্রলারে ও স্পীডবোটে চেপে বসে ৪ঠা অক্টোবর ২০২১ থেকে বেপরোয়াভাবে এই চাঁদাবাজি চালিয়েছিলেন এএসআই মহিন ও শরিফুল।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মেহেন্দীগঞ্জের আলিমাবাদ, আমিরগঞ্জ, শ্রীপুর সহ বেশ কটি ইউনিয়নের এলাকায় নৌ-পুলিশ প্রতিদিন গড়ে ৪-থেকে ৬ জন মৎস শিকারী আটক করেন। তবে আটককৃতদের ইলিশা নৌ থানায় না হাজির করে জনপ্রতি ১৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ উৎকোচ আদায় করে তাদের নদীতে ছেড়ে আসার মত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে ইলিশা নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল (বাদশা) এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
সরেজমিন ৫ অক্টোবর মঙ্গলবার মাসকাটা নদীতে নাসির, কালু, ইমাম ও জিহাদকে আটক করেন (নৌ-পুলিশের) এএসআই মহিন। নদীতে গিয়ে নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে মাসকাটা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দ্বায়ে তাদের আটক করেন। অতঃপর বিকাল ৫টায় ৫৫০০০ টাকা উৎকোচ আদায় করে তাদের মুক্তি দেন। একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ, নবি, হারেছকে আটক করেন ৬ অক্টোবর তাদেরকেও থানা হাজতে না এনে ৪৫০০০ টাকায় মুক্তি দেন এ এস আই মহিন ও শরিফুল। প্রকাশ থাকে যে শরিফুল ও মহিন কে নিয়ন্ত্রণ করেন মাঝি জসিম ও ইসমাইল মোল্লা। অপরদিকে এস আই তৌহিদ ও এ এস আই চন্দন কে নিয়ন্ত্রণ করতেন মনির মাঝি।
৭ অক্টোবর শ্রিপুরের সিদ্দিক নামে একজন মৎস শিকারীকে ২৫০০০ টাকায় মাসুদ ও জাকির নামে দুজনকে ১৫০০০ টাকায় ও রিয়াদ (১২) কে ১৫০০০ টাকায় মুক্তিদেন। ৮ অক্টোবর মেহেন্দীগঞ্জ সদর বাহাদুর পুরের ইউনুস, সিরাজ, জাকির, ইউসুপ, চাঁন পুরের কালা ইউনুছ, সহ ৫ জন মৎস শিকারীকে আটক করেন তাদেরকে ৮০০০০ টাকার বিনিময়ে মুক্তিদেন এএসআই মইন ও শরিফুল। ১৬ অক্টোবর রাত ১০টায় আমিরগঞ্জের বাক প্রতিবন্ধি জামালকে আটক করেন শরিফুল তাকেও রাত দেড়টার দিকে ২০০০ টাকা উৎকোচ নিয়ে মুক্তি দেন।
গত ২০/১০/২১ মল্লিক পুরের গনেশ সহ দুইজন মৎস শিকারীকে আটক করে ইলিশা নৌ থানায় এনে মামলা না দিয়ে ৩০০০০ টাকায় মুক্তি দিয়ে ১০০০ টাকা ফেরৎ দেন বলেও জানান আটকদের ছাড়াতে আশা হৃদয় নামের জৈনেক ব্যক্তি। হৃদয় বলেন, আমি ৩০০০০ টাকা টাকলু মাথা চিকন লাম্বা আকৃতির জসিম মাঝির নিকট দিলে সে আমাকে ১০০০ টাকা ভাড়ার জন্য ফেরৎ দেন।
মা ইলিশ রক্ষার অভিযান নামে নৌ-পুলিশের চলছে অভিনব কায়দায় মৎস শিকারী ধরা ওছাড়ার মধ্যদিয়ে রমরমা বাণিজ্য, সাথে রয়েছে অবৈধ জাল বিক্রিকরার বিস্তর অভিযোগ। অভিযান পরিচালনা কালীন সময়ে ধৃত জাল অগ্নিসংযোগে জনসম্মুখে পুড়িয়ে দেবার আদেশ থাকলেও তা রয়েছে কাগজে কলমে। আবার জব্দকৃত ইলিশ ভিবিন্ন এতিম খানায় প্রদানের আদেশ থাকলেও তা কাগজে কলমে রেখে নৌ-পুলিশের মাঝিরা বিক্রি করেন ও সংরক্ষণ করেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা তাদের সোর্সদের ফ্রিজে। এস আই মহিন বিপুল পরিমানের মা ইলিশ লবনাক্ত করে সংরক্ষণ করেছেন থানার ভিতরেই এমন অভিযোগও ছিলো বিস্তর।
বর্তমান ইলিশা নৌ-থানার এএসআই মহিন, এএসআই শরিফুল সহ তাদের অর্থের বিনিময়ে নিযুক্ত মাঝি ও পুলিশের উৎকোচ আদায় ও ধৃত জাল বিক্রয়ের অসংখ্য ডকুমেন্টস ইতি মধ্যে পৌছেছে প্রতিবেদকের হাতে। তাদের কল রেকর্ডে শুনা যায় নৌ-থানার সামনের একটি বিকাশ এর দোকানেই চলে নৌ-পুলিশের উৎকোচ আদায়ের লেনদেন। আমরা পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করবো ঐ বিকাশ দোকানে মা ইলিশ রক্ষা থেকে অদ্যপর্যন্ত ঝাটকা অভিযানে মোট কতটাকার লেন দেন হয়েছিল নৌ পুলিশের। ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে অনেক ডকুমেন্টস এসেছে। একটি ভয়েস রেকর্ডে শুনা যায় নৌ-পুলিশের নব নিযুক্ত মাঝি মনির নিজেই প্রকাশ করেন আমি লক্ষ টাকা ব্যায় করে মাঝি হয়েছি। টাকা তো তুলতে হবে সে অযুহাতে সে ধৃত ঝালের মুক্তিপনও দাবি করেন ৯০০০০ টাকা থেকে ১৫০০০০ টাকা পর্যন্ত। এমন কৌশলি মাঝিদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয় ইলিশা নৌ পুলিশের সকল ধরনের অভিযান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঘাট মালিক ও জেলে মাঝি বলেন মেঘনার পানি ও ব্লক বিক্রি করে দিতে পারলে তাও করতেন নৌ-পুলিশ ও তাদের মাঝিরা। তবে পানি ক্রয় ও ব্লক ক্রয় করার পার্টি নেই বলেই পারছেন না বলেই মত প্রকাশ করেন মাঝিরা।
এদিকে নদীর পাড়ে বসবাসকারী লেংগুঠিয়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করলে জানা যায়, ভোলার নৌ-পুলিশের টিম অনেক ভালো তারা অভিযান করতে আসলে কেউ ধরাপরলেও সমস্যা হয়না ১৫-৩০ হাজার টাকা দিলে ছেরে যায়। এ বিষয়ে নৌ-পুলিশের ওসি শাহজালাল বাদশার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিছিভ করেননি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।