মধ্যরাত : পর্ব-৪০

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : উমা তাড়াতাড়ি সরুচাল মুগের ডালের খিচুরী, ডিম মামলেট। আলুর দম, রাতের ভুনা মাংস ছিল। ওদিয়ে ডাইনিং খানা হাজির করে দিল, ডোরা খেতে এল। আমি সুশান্তও বসে পড়লাম। তাড়াতাড়ি খেয়ে উঠলাম। এয়ার পোর্টে যেতে হবে, উমা সুশান্ত ও আমাদের সাথে এয়ার পোর্টে যেতে চাইল। ডোরা কাপড় চেঞ্জ করে ফিট ফাট হয়ে এল, বলল প্রশান্ত তাড়াতাড়ি কর। আমি বললাম, আমি প্রস্তুত।
ডোরার বড় বড় চোখ দুটো ঘরের চারদিকে ঘুরে ঘুরে কি যেন দেখল। চোখ দুটো ছল ছল করে উঠল, চাঁপা একটি বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কাউকে কিছু বুঝতে দিলনা। মনের দুঃখ ব্যথা নিজের মনের ভিতর ঘুমিয়ে রেখেছে। বাইরে সিগ্ধ সুন্দর কোমল মসৃন হয়ে সকলের সাথে সামাজিকতা রক্ষা করে চলেছে। বই পুস্তকে পড়েছি, নারী রহস্যময়ী, কবিরা কেন-এ কথা লিকে গেছেন জানিনা।
আমি ডোরার মাত্র দু-চারটি জিনিস ছিল তা চট করে তুলে নিলুম। বললাম ডোরা চল, সুশান্ত আয় ভাই, তাড়াতাড়ি গাড়ি ষ্ট্রাট দিলুম। এই এয়ারপোর্টটা কাছে, বড়টা আরও দূরে, এয়ারপোর্টে এসে গেলুম, কত লোক আসছে। ডোরা টিকেট চেক করে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হল। দুটো জল ভরা চোখ নিয়ে আমার পানে তাকাল। বলল, প্রশান্ত আসি, বেড়াতে এস। সুশান্তকে বলল, বৌদিকে নিয়ে বেড়াতে আসছেন-ত ? ডোরা চলে গেল। আমার যেন বুকটা ফাকা হয়ে গেল। কে এই ডোরা ? নিজের মনকে শুধোলাম, ক্লাশ ফ্রেন্ড ? পাঠ্য জীবনে পরিচয় ছিল, ভাল লেগেছিল বোধহয় মনে মনে ভালও বেসেছিল।
প্লেনটা আকাশে মিলিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। ডোরাও দূর থেকে প্লেনে ওঠার সময় হাত নেড়ে সুস্বাগতঃ জানিয়ে গেল। জানিনা আবার কবে দেখা হবে বিধাতা জানেন। সুশান্ত খুব চুপচাপ দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিল। উমা কেঁদে ফেলল। মেয়েরা খুব সহজে কাঁদে, এটা মেয়েদের সরলতা-সহজতা।
বাবায় ফিরে এলাম, ডোরা চলে যাওয়াতে বাড়ীটা কেমন নিরব, নিস্তব্ধ হয়ে গেল। বিকাল গড়িয়ে গিয়ে সন্ধ্যা হয়ে এল, রাতে কিছু খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লাম। ছুটি শেষ হয়ে এল, আর একদিন মাত্র বাকি। সুশান্ত যাওয়ার জন্য মন স্থির করার চেষ্টা করছে, আমি বললাম- যাবি ? তা আরও কদিন ছুটি বাড়ানা ? ও বলল একি মামা বাড়ীর আবদার নাকি ? বলেই খালাস হলি ? আবার সামারের ছুটিতে তুই আয় না ? আমি বললাম, দেখি দোলা আসবে। ওকে ওর পড়াশুনো ব্যাপারে কতটুকু কি সাহায্য করতে পারি। সুশান্ত বলল চল না ডিজনীতে যেতে চাই, মায়ামিও ঘুরে আসার ইশ্বরের কৃপায় আশা রাখি।
আমি যেন কি ভাবলাম, উত্তর দিলাম না। একটু বেরুবার জন্য চেষ্টা করলাম। দেখি অমিয়র ওখান থেকে ঘুরে আসি। অমিয়র বাসায় গিয়ে কলিং বেল টিপলাম। বেল বাজছে বাজছে, কিন্তু কেউ নেই। আমার ফোন করে যাওয়া উচিত ছিল। দেবতোষ এর বাসায় গেলাম, ওরা বাসায় ছিল। বৌদি আমায় দেখে খুব খুশী হল। ও-মা ঠাকুরপো তুমি ? ডোরাদি চলে গেল ? আমি বললাম- হ্যাঁ। সত্যি খুব আনন্দে কাটলো দিনগুলি। ক’দিন আমি চুপ করে শুনছিলাম দু’চারটা কথা বললাম না বললে নয়। তাই অমিয় গল্প জুড়ে দিল। ডোরার কথাই তুলি, মিস ডোরা এখনও দেখতে খুব সুন্দর। সত্যি তোর ভালবাসার প্রশংসা না করে পারছিনা প্রশান্ত, চমৎকার। তোরা বিয়ে করছিস না কেন ? ডোরা চায়না বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে।
(চলবে—————)
