মধ্যরাত : পর্ব-৩৯

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : ডোরা কাল চলে যাচ্ছে। আমি নিজেই টিকেট কনফার্ম করে এনেছি। ওকে রাখতে গিয়ে রাখতে পারছি না। ভালবাসতে গিয়ে জোর করতে পারিনে। কিসের সংকোচ সংশয় দ্বিধা আমাকে দূরে দূরে বহুদূরে সরিয়ে রাখে। ও আমাকে গভীর ভাবে ভালবাসে। সে ভালবাসা আসমুদ্র হিমচল ব্যাপী কালের অতন্দ্র প্রহরীর মত সাক্ষ্য হয়ে থাকবে, কিন্তু ডোরাও জড়াতে চায় না- কেন ? কেন ? কেন ? এর কি কোন উত্তর নেই ?
আকাশের দূর নীলিমায় খন্ড খন্ড পুঞ্জ মেঘমালা অসংখ্য তারকা রাজি আধখানা বাকা চাঁদ ওরাকি কিছু মন দেওয়া নেওয়ার সাক্ষী হয়ে থাকবে ? আজ রাত আমি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবছি, ঘর ভরা বন্ধু-বান্ধবী। ডোরা উমা সব কি ভাববে। শুক তারাটা অনেকক্ষণ পর্যন্ত আমার পানে চেয়ে বিরহ বিধুর প্রেয়সীর মত আমাকে অভয় দিচ্ছিল। আকাশ রং বেরংয়ের খেলায় বিভোর জগতে সব কিছুই স্বপ্নের মত, কিছুই স্থির নয়। বন্ধুরা যে যার মত চলে গেল। উমা-সুশান্ত খেয়ে শুয়ে পড়ল। ডোরা ওর ঘরে ঘুমিয়ে পড়ল। আমি ? সারা রাত জানালায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের তারা গুনেছি। কাল ডোরা চলে যাবে। এই মধু রাত, মধু মাস, কি আনন্দে, কি তৃপ্তিতে, জীবন ভরে দিয়ে গেল, তা কালের গর্ভে স্মৃতির ময়ূর হয়ে থাকবে। আজ আমার বারবার মনে হচ্ছে, ডোরা এতদিন দূরে ছিল। তাই আমার ভল ছিল। আজ দু’দিনের জন্য কাছে এসে আমার মনকে জ্বালা ধরিয়ে দিয়ে গেল। এতে নিজেও পুড়ে মরবে, আমাকেও অহরহ স্মৃতির আগুনে পোড়াবে।
ঐাবে ও আমি যেন ভাবতেই পারছি না। ও আমাকে ছেড়ে চলে যাবে, কেন এসেছিল, কেন চলে যাবে ? গিয়ে কি ও সুখে থাকবে ? হয়ত না। অনেক রাত অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বড় ক্লান্ত বোধ করছিলাম। সুশান্ত ডেকে বলল, কিরে প্রশান্ত ঘুমুবিনা ? আমি চমকে উঠলাম। তাইত ঘুম বলে যে একটা জিনিস আছে তা আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম। ঘড়ে ঢুকে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। অনেক অনেক বথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। অনেক রাত অবধি উমাও ডোরার সুখ-দু:খের অনেক কথা বলতে শুনলাম। তারপর সব নিরব, নিঝুম নিস্তব্ধ।
খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ডোরা খুব ভোরেই ¯œান সেরেছে, রাশিকৃত এলো চুল হাঁটু অবধি ছড়িয়ে আছে। কপালে কুমকুমের টিপ। আজ ১০টায় ওর প্লেন, আমিও খুব ভোরে উঠে ডোরা সাথে নিভৃতে নিরবে দুটো কথা বলার জন্য সুযোগ খুঁজছিলাম। কিন্তু উমা আবার ডোরাকে কিছু খাইয়ে দিতে চায় বলেই ও খুব সকাল সকাল উঠে কিচেনে ঢুকেছে। বার বার ডাইনিং রুমে ঘোরা ফিরা করছে। আমি নিউজ পেপারটা হাতে নিয়ে ডাইনিং রুমে ঘোরা ফিরা করছিলাম। সুশান্তও উঠে পড়েছে, চা খেতে চাইল। সকলের খাবার এক সাথে টেবিলে দিচ্ছে। একটু দেরী কর, উমা বলল। সুশান্ত বলল, ঠিক আছে।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।