ভোলার পূর্ব ইলিশায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়াডের গুপ্ত মুন্সি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ জানুয়ারি বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ২ জন ভোলা সদর হাসপাতালে এবং অপর ১ জন মোহনা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় মামলা করার উদ্দেশ্যে ভোলা সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগকারী মোহাম্মদ হানিফ বলেন, আমার একই এলাকার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদেক এর সাথে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। মোহাম্মদ সাদেক এবং তার ছেলেরা জোর জুলুম বাজ, দুষ্ট, দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারি পরবিত্তলোভি ও খারাপ প্রকৃতির লোক বটে। মোহাম্মদ সাদেকের সাথে আমার খরিদকৃত ও মাতার ওয়ারিশকৃত জায়গা জমির বিষয় নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসতেছে। উক্ত সম্পত্তি আমার বাড়ি হইতে দূরবর্তী হওয়ার কারণে আমি ঠিকমত গিয়ে দেখাশুনা করতে পারছিনা। একাধিকবার উক্ত সম্পত্তির চাষাবাদকৃত ফসল সাদেক গংরা জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমি সাদেক ও তার ছেলেদের এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা আমাকে মারধর সহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করতো। পরবর্তীতে আমি উক্ত বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানাইলে তারা আমাদের মধ্যকার বিরোধ একাধিকবার মীমাংসা করার চেষ্টা করে। কিন্তু সাদেক ও তার ছেলেরা খারাপ প্রকৃতির লোক হওয়ার কারণে এলাকার কারো সালিশ বিচার মানে না। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে সাদেক গংদের বিরুদ্ধে ভোলার বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলাম। উক্ত মামলাটি বর্তমানে চলমান অবস্থায় আছে।
মামলা করার পর থেকেই সাদেক ও তার সন্তানেরা আমি সহ আমার ছেলে ও আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার জন্য পাঁয়তারা করে থাকে। উক্ত বিরোধের জের ধরে গত ১২ জানুয়ারি দুপুর অনুমান দেড়টার সময় সাদেকের নেতৃত্বে মোহাম্মদ হানিফ মোঃ সোহাগ, নয়ন, বিল্লাল একত্রিত হয়ে আমার দখলীয় সম্পত্তির মধ্যে জোরপূর্বক বেআইনিভাবে জনতা বদ্ধ হয়ে অনধিকার প্রবেশ করিয়া পাওয়ার টিলার ধারা গম চাষাবাদ করা শুরু করে। আমি উক্ত ঘটনাটি লোক মারফত জানতে পেরে আমিসহ আমার ছেলে জুয়েল, সোলেমান, লিটন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে চাষাবাদ করার কারণ জিজ্ঞেস করলে সাদেক ও তার ছেলেদের সাথে আমার কথা কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়। তর্কবিতকের এক পর্যায়ে সাদেক ও তার ছেলেরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি সাদেক গংদের কে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে এক পর্যায়ে সাদেকের হুকুমে তার ছেলে হানিফ আমার জামার কলার ধরে টানা হেচরা করে মাটিতে ফেলে দেয়। তখন হানিফ, শোহাগ, নয়ন বিল্লাল সবাই একসাথে আমাকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। তখন আমার ছেলে জুয়েল, সোলেমান, লিটন হামলাকারীদের হাত থেকে আমাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে হানিফ, সোহাগ, নয়ন ও বিল্লাল চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আমার তিন ছেলেকে এলোপাথারি কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা জখম করে। হানিফের হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে জুয়েলকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ মারলে উক্ত কোপ তার ঠোঁটে লাগে। সোহাগ এর হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আমার ছেলে সোলেমানের ডান পায়ের গোড়ালির উপরে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। নয়নের হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে লিটন কে লক্ষ করে কোপ মারতে গেলে আমার আরেক ছেলে সোলেমান ডান হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে। তখন তার হাত রক্তাক্ত হয় এবং লিটনের ডান হাতের আংগুলে কোপ লাগলে রক্তাক্ত জখম হয়। আমাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সাদেক ও তার ছেলেরা চিৎকার করে বলে যে যেকোন উপায়ে আমার খরিদকৃত ও মাতার ওয়ারিষ কৃত সম্পত্তি হইতে আমাকে উৎখাত করিবে এবং আমাকে উক্ত সম্পত্তি ভোগ করিতে দিবে না। আমাকে পুনরায় পথে-ঘাটে মারপিট করবে ও আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবে এবং আমাদের খুন-জখমের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে আমি ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ফোন করলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা আমাদেরকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন।
এ হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাদেক বলেন, তার এবং তার ছেলেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।
এ হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।