মধ্যরাত : পর্ব-৩৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত পর্বের পর) : বাচ্চাদের এসব প্রোগ্রাম বেশ লাগে হাসিও পায়। বরফে শ্বশুর বাড়ী থেকে নতুন কাপড়-চোপড় দেওয়া হয়েছে। রাত প্রায় ১০টা বাজে এখনও মেয়ে জামাইর আদর আপ্যায়নের শেষ নেই। আমাদের খাওয়া-দাওয়া খুব মুখরোচক হয়েছিল। সকলের কাছ থেকে বিদায় নিল ডোরা। সকলেই ডোরাকে সুশান্ত ও উমাকে প্রীতি শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আজকের রান্না ও পরিবেশনের সকলেই সুখ্যাতি করেছে। অমিয়র স্ত্রী ও পবিত্রর বৌকে বহুদিন বহু বছর পর আমরা মন্ট্রিলের সকল বৌরা স্বামীরা এই আসরে একত্রিত হওয়ার জন্য সকলেই সকলকে ধন্যবাদ জানায়।
ডোরা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেয়। অনেক রাত হয়ে এসেছে, সেদিন আবার প্রচন্ড বরফ পড়েছিল। সেজন্য মন্ট্রিল শহরে শ্বেতশুভ্র তুষার কন্যার মত অপরূপ সাজে রূপসুধা বিতরণ করছিল। সেদিনের মত সকলেই হৈ হুল্লোর করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। সুশান্ত এসে কাপড়-চোপড় ছেড়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল। আমিও খুব ক্লান্ত বোধ করলাম। উমা, ডোরা ওরা দুজন অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করল। তারপর ওদের কোন সারা শব্দ পেলাম না। সেদিন সারা রাত খুব বরফ ঝরল, আমার যেন কিছুতেই ঘুম আসছিলনা, অনেক কথা মনের কোনে এসে ভিড় করল।
সেই স্কুল জীবনের কথা, কলেজের কথা, ইউনিভার্সিটির কথা, বাবা মায়ের কথা, শেষ পর্যন্ত বড়দির কথা। বড়দিকে কত জ্বালিয়েছি, সেই বড়দি কত ত্যাগ সংযম এর মাঝে সংসার চালাচ্ছে। আজ বৃদ্ধ বয়সে নাতনী দোলার স্পন্সার এর কথা বলল, অথচ বড়দি নিজের কথা বলল না। বড়দি আসলে খুব ভালো হত। আস্তে আস্তে রাত ভোর হয়ে আসছে। পূর্বের আকাশ ফরসা হয়ে এল। ডোরা খুব ভোরে উঠে। ¯œান সেরেছে। আলুলায়িত কুন্তল কেশ লম্বায় হাঁটু পর্যন্ত নুয়ে পড়েছে। কপালে কুমকুমের টিপ। বড় বড় ডাগর ডাগর চোখে কাজল পড়েছে। সাদা একখানা এমব্রডারী করা শাড়ীতে ওকে বেশ মানিয়েছে। উমাও তাড়াতাড়ি উঠে কিচেনে গেল। চা পাওরুটি ডিম মামলেট মাখন এদিয়ে সকালের নাস্তা সারা হল।
হঠাৎ দোলার চিঠি পেলাম। দোলা ভিসা পেয়েছে, শিঘ্রই আসছে। আমার প্রাণ যেন ময়ুরের মত নেচে উঠল। হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ময়ুরের নাচেওে, শত জনমের ভাব উচ্ছাস রবীঠাকুরের সেই কবিতাটি মনে পড়ল। ডোরা বলল, কি প্রশান্ত এত তন্ময় হয়ে কার চিঠি পড়ছ ? বললাম, নাতনী দোলার। বাহ, নামটা-ত ভারি সুন্দর দোলা। জান ডোরা, দোলা শিঘ্রই আসবে। তোমরা গেলে আমি বড় একা হয়ে পড়ব, যাক বাবা বাঁচলাম। সুশান্ত তখনই ঘুম থেকে উঠেছে, কিরে প্রশান্ত এত খুশী খুশী ভাব কি ব্যাপার ? বললাম, আমার বড়দিও নাতনী দোলার চিঠি এসেছে। ও শিঘ্রই মন্ট্রিল আসবে। ভিসা পেয়ে গেছে, তোরা গেলে আমি বড় একা হয়ে পড়ব। ভাবছি দিনগুলি কি করে কাটাব, এখন ওর চিঠি পেয়ে খুব ভাল লাগছে। যাক তবু কথা বলার, আমাকে দেখাশুনা করার একটা লোক থকবে।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।