মধ্যরাত : পর্ব-৩৫

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : উমা লজ্জা পেয়ে মুখ নীচু করেছিল। এমনি করে গল্পে গুজবে সেদিনের রাতটা আমার জীবনে একটি স্বর্ণ রেখার মত দাগ কেটেছিল। খওয়াটা খুব মুখরোচক হয়েছিল। রান্না খুব ভাল হয়েছিল, খেয়ে সকলেই উমার খুব প্রশংসা করেছিল। নামেও উমা, কাজেও তা পরিচয় রাখল। আমার বন্ধুরা ডোরাকে নিয়ে খুব গল্পে মেতে উঠল। উমা খাওয়ার পর প্লেট গ্লাস ডিস এসব গোছাতে ব্যস্ত। এখানে আর ঠাকুর চাকর নেই, বেচারা হিমসিম খেতে লাগল। সুশান্ত আমি সাথে সাথে সাহায্য করলাম। ডোরা পড়াশুনো করেছে এতকাল, ওসব লাইনে ও ভালো এক্সপার্ট, ইকনমিক্স নিয়ে আলাপ করতে দাও সারা রাইত কাটিয়ে দেবে।
পবিত্র ওর সাথে ভিষণ তর্ক করছে। ডোরাও নাছোর বান্দা, ও কিছুতেই হারবেনা; জিতবে-ত তবে ঠান্ডা হবে। ওর বৌ বার বার বলছে, এই থামো আর বিদ্যের বাহাদুরি দেখাতে হবে না। খুব হয়েছে, এখন চল রাত কত হল দেখেছ ? পবিত্র বলল হোক, রাত একদিনে আর কত রাতই হবে, বস উমাদির সাথে গল্প কর। উমা ততক্ষণে কিচেনের কাজ সেরে আমাদের ড্রইং রুমে এসে শরিক হল। আমিয় বলল, পবিত্র বক-বকানি রেখে মিস ডোরাকে, বউদি-কে আমাদের ওখানে নিমন্ত্রণ করনা। পবিত্র বলল, তুই বলনা। তোর বাসায় বল। অমিয় বলল, প্রশান্ত ওদের সকলকে নিয়ে আমার বাসায় আয়, মিস ডোরা আপনিও আসুন ? আপনিত আমাদের সকলের গেষ্ট। সুশান্ত বাবু, বউদি আসুন। আমাদের বাসায় কবে আসবেন বলুন ? ডোরা বলল, যেদিন আপনি বলবেন, সেদিন। অমিয় পরশু রবিবার, বেশ যাওয়া যাবে।
দেখুন খাওয়া-দাওয়া ত বড় জিনিস না, আসল হল গল্প-গুজব করে সময় কাটান। মিস প্রফেসার এসেছেন, সুশান্ত এসেছেন, বৌদি এসেছে। এমন সৌভাগ্য আবার কবে হবে কে জানে। ডোরাকে যেন কেমন একটু অন্যমনস্ক দেখাচ্ছিল। সুশান্ত উমা দুজনেই অতিথিদের সাদর সম্ভাষণের জন্য প্রাণপণ খাটছিল। ওরা দুজনে না থাকলে আজকের এই অনুষ্ঠান আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল। উমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ জানাব তার ভাষাও খুজে পাইনা। উমা বড় বড় চোখ মেলে সকলের কথা শুনছিল। অতিথিরা এক এক করে সবাই চলে গেল। রাত প্রায় ১টা বাজে। আমরাও ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। অনেক রাত জেগে জেগে ডোরা ও উমা গল্প করেছিল। কি গল্প করেছিল ওরাই জানে ? তার পরদিন অনেক বেলা করে উমা ও ডোরা উঠেছিল। আমি আর সুশান্ত অনেক বেশী ঘুমিয়েছিলাম। সকালে খালি চা, বাসি লুচি ছিল। দুপুরে বাসি যা ছিল অলুভাত হয়েছিল, আজ আমরা ও দিয়ে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করলাম।
আজ তার কোন কাজ নেই। বসে বসে আকাশ দেখা। ড্রইং রুমে বসে কাগজ পড়ছিলাম ও টিভি দেখছিলাম। ডোরা এসে বসল, ও শীঘ্রই চলে যেতে চাচ্ছে। ওর নাকি কি কাজ পড়ে আছে। সুশান্ত বলল, যাবেন বৈকি ? আমরাত যাব, ও বলল না আপনারা আরও ক’দিন থেকে যান। প্রশান্তর মন খারাপ হবে। এক সঙ্গে সব গেলে আমি বললাম চিরদিন একা আছি, একা থাকব। দু’চার দিনে আর কি এসে যাবে।
(চলবে——————)
