মধ্যরাত : পর্ব-৩২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : সেদিনের ম তবাইর থেকৈ এসে বাসায় দোলার চিঠি পেলাম। ওর নাকি ইন্টারভিউর ডেট পড়েছে। শুনে খুব খুশী লাগল। তবুও একজন আপন কেউ আমার কাছে আসবে। ভাবতে যেন খুব ভাল লাগল। ডোরা বলল কার চিঠি ? আমি বললাম আমার নাতনীর, সকলেই হেসে উঠল। বিয়েই করেনি, তার আবার নাতনী ? আমি বললাম, বড়দি’র ছেলের মেয়ে দোলা।
আমি বললাম এ কয়েক দিনের হৈ-চৈ-তে তোমাদের আমার এ কথাটা বলা হয়নি। দোলাকে আমি স্পন্সার করেছি, আমার নাতনী। ওর ইন্টারভিউর ডেট পড়েছে, যাক কানাডিয়ান সরকার যদি ভিসা দেয় তবে আমার খুব ভাল হবে। ও এখানে পড়াশুনা করলে আমাকে একটু দেখা-শুনা করতে পারবে। আমার নিজকে মাঝে মাঝে বড় অসহায় বোধ করি। তোমরা সকলেই চলে গেলে আমি আবার সেই একা। ডোরার সাথে আবার সেই চোখেল বিনিময় হল।
সুশান্ত বলল, এখনো সময় আছে ঘর বাঁধ-না ? আমি বললাম, দুর পাগল। এ বয়সে ঘর বেঁধে কবে ছেলে-মেয়ে মানুষ করবো ? এখন নাতনী আসবে, তার আদও গ্রহণ করব। জানিস সুশান্ত, এখন আর বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে না। এখন খুব বাইরে ঘুরে ফিরে বেড়াতে ইচ্ছে করে। আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে গল্প করতে ভাল লাগে। সেদিন যে তোকে শ্যামবেলী নিয়েছিলাম, ওখানেই গিয়ে বসে সময় কাটাই। ওজায়গাটা আমার স্বপ্নের মত মনে হয়। সেই আদি যুগে হয়থ এত চাকচিক্য ছিল না। কিন্তু সে জীবনের সৌরভ ছিল সর্বত্র। ছোট ছোট রাস্তায় ঘোড়ার পায়েল শব্দ, এখানে ওখানে শিশুদের চীৎকার। রেস্তোরায় আড্ডা বাজদের হাসির দুরন্ত কল্লোল এবং মসলা বা মনোহরী দোকানের সামনে কত লোকজনের আওয়াজ। সব কত ঘনিষ্ট, কত নিবিড় ছিল। উপরে নীল আকাশ রাস্তায় চলতে চলতে পাশের দোকান থেকে ভেসে আসা রান্না মাংসের সুগন্ধ ছিল কত লোভনীয়। আর সে কথা স্মৃতির পটে উকি দেয়। বিভিন্ন দেশের জাহাজ যেত হয়ত এ পথ দিয়ে, বিভিন্ন দেশের নাবিকরা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলত। তোমরা আমরা সকলেই মন্ট্রিল শহরের কথা শুনেছি। কিন্তু সেই আদি অধিবাসীদের কথা তোমরা শোননি।
রাত হয়ে এল। আকাশে সেদিন বড় করে চাঁদ উঠেছিল। অনেকক্ষণ টিভি দেখলাম, বারান্দায় বসে আকাশের পানে চেয়ে ছিলাম। অসংখ্য তারায় ভরা আকাশ যেন সোনার বুটির মত ঝকঝক করছে। আমি যেন সেই স্বপ্ন মর্মরিত আকাশের হাতে ধরা দিলাম। সেই রিমুগ্ধ বিষ্ময়কর আকাশ আমাকে মাটির পৃথিবীতে নিয়ে এল। যে পৃথিবীর জন্য সকল যুগের মানুষ স্বপ্ন দেখে থাকে আবাহমান কাল থেকে। হঠাৎ সুশান্ত এসে কাঁধে হাত রাখল। কিরে ঘুমুবি না ? আমি চমকে উঠলাম। তাইত আমি ঘুমুব তাড়াতাড়ি উঠে পড়লাম। বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম। রাজ্যেও ঘুম এসে চোখে ভিড় করল। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে টিভি দেখছিলাম। সুশান্ত তখন ঘুমিয়ে ছিল। উমা এসে চা খাওয়ার জন্য তাগাদা দিয়ে গেল। ডোরাও পরিপাটি হয়ে চায়ের টেবিলে হাজির। আমি সুশান্তকে বললাম, এই উঠনা, মেয়েরা নাস্তা তৈরী করে টেবিলে বসে আছে। আর তুই শুয়ে ঘুমুচ্ছিস। সুশান্ত তখনও বসে বসে ঝিমুচ্ছে। বলল, দেখ ভাই কয়েক দিনের ছুটিতে একটু ঘুমিয়ে নেই। বললাম, তোর যদি এত ঘুমের নেশা হয়ে থাকে তবে চা খেয়ে আরও ঘুমিয়ে নে। আজকের খাওয়ার টেবিলে প্রচুর খানা হাজির। খিচুড়ি, তা আবার ভুনা খিচুড়ি। আলুর দম, ডিম মামলেট। মাংস ভুনো।
(চলবে————)
