আলতাজের রহমান কলেজের উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

ভোলায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কলেজের হল রুমে এ আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দেশের জন্মলগ্নে শহীদ হওয়া জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণ করা হয়।

আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাহানজেব আলম এর সভাপতিত্বে ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক তানভীর ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুর রশিদ খাঁন, ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌসী মুন্নি, কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ এনায়েত উল্লাহ, গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ, জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাবুদ্দিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোসাঃ জোহরা আকতার, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ আনোয়ার হোসেন, প্রভাষক হালিমা আকতার, দর্শন বিভাগের প্রভাষক রোকেয়া শারমিন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক দিলরুবা ফেরদৌস, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোঃ মাহাবুবুল আলমসহ কলেজের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অফিস সহকারী বৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাগ্রত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তান বাহিনী যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা সম্ভব না, তখন তারা নবগঠিত দেশকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে দূর্বল এবং পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানী বাহিনী তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিজ নিজ গৃহ হতে তুলে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। তাই ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে পাওয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে কেননা দেশকে উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের সকলের।

এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এসময় দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎস্বর্গকারী সকল শহীদদের স্বরণে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দেয়া বুদ্ধিজীবীসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মুহা. সিরাজুল আলম।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কলেজের শিক্ষার্থীদের দেয়ালিকা উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ জাহান জেব আলম।

প্রসঙ্গত ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিধনে মাঠে নামে। রাতের অন্ধকারে বাসা কিংবা কর্মস্থল থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে তারা শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। দেশের নানা জায়গায় হত্যাযজ্ঞ চললেও মূল হত্যাযজ্ঞ চলে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। সেই থেকে ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।