মধ্যরাত : পর্ব-৩০

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

 (গত পর্বের পর) : সুশান্ত বলল, তুই লিখিস জানতাম। কিন্তু আবার কবি হলি কবে থেকে ? আমি বললাম, বন্ধু বড় দুঃখে মানুষ কবি হয়, না হয় খুব সুখে। এখন তুই যে টা মনে করিস। বিকেল হয়ে এল, বরফ ঝরা দিন। আকাশ অন্ধকার, অন্ধকার। আকাশের ফাঁকে শুক্ল পক্ষের ক্ষীণ চাঁদ দেখা যাচ্ছে। দু’একটা তারাও উকি দিচ্ছে। সন্ধ্যা আগত, বাসায় ফিরাই মনস্থির করে ফেললাম।
বাসায় এসে রাতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে টিভির সংবাদ শুনলাম। কাগজটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম। ডোরা আমার পাশে বসে ধির স্থিও হয়ে কিছুক্ষণ টিভির সংবাদ শুনছিল। উমাও ডোরার পাশে বসে কাগজের পাতা উল্টিয়ে মন্ট্রিলের খবরা খবর সম্বন্ধে জ্ঞাত হচ্ছিল। সুশান্ত এমনিই চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজে কি যেন ভাবছিল। আমি খবর শোনার ফাঁকে ফাঁকে ডোরার সাথে কয়েকবার আমার চোখের বিনিময় হল। রাত ১২টা বোজে গেছে, সকলেই শোয়ার জন্য বিছানা নিলাম।
খুব ভোরে উঠে ডোরার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। তখন উমা ও সুশান্ত উঠেনি। তখন ডোরা ¯œান সেরে রাশিকৃত চুল ছড়িয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসেছে মাত্র। প্রস্ফুটিত গোলাপের মত সুন্দর মুখ খানা থেকে কপালের উপরে কুমকুম এর টিপটা এখনও মুছে যায়নি। ডোরা তোয়ালে দ্বারা ঘসে ঘসে মুছবার চেষ্টা চালাচ্ছে। চুল থেকে ঝর ঝর করে জল ঝরে পড়ছে। যেন মুর্তিসতী উষা। আমি সামনে গিয়ে ওর হাত থেকে তোয়ালে নিয়ে মুছতে গেলাম কুমকুমের টিপ। ওকে নিবির করে কাছে টেনে এনে ওর কপালে সিক্ত অধর রাখলাম। ও বলল এই সর সর কেউ দেখে ফেলবে। আমি বললাম, দেখুক আরও জোরে ওকে বুকের কাছে চেপে ধরে ওর ঠোটে আমার ঠোট রাখলাম। ওঃ সেকি মূহুর্ত আবেগ আবেশ। হঠাৎ যেন কার পদধ্বনি শুনতে পেলাম। আমি চমকে দূরে চলে গেলাম।
উমা, ডোরা দি তুমি কোথায় ? ডোরা বলল, এইত আমি বাথরুম থেকে ¯œান সেরে বের হলাম। উমা বলল, ওমা খুব ভাল অভ্যাস ? সকালেই ¯œানটা সেরে ফেলছ ? তাহলে আমি আমার ¯œান সেরে ফেলি। ওই বলে উমা তোয়ালে কাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢুকল। ডোরা তখন আয়নার সামনে চুল আচড়াচ্ছিল। আমি পিছন থেকে গিয়ে ডোরাকে আবার দু-বাহু দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। চুম্বনে চুম্বনে ওর অধর সিক্ত করে দিলাম। কপালে, গালে চুমুতে ওকে প্লাবিত করে দিলাম। যেন ওকে আমার ছাড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল না। ডোরাও খুশী মনে সব গ্রহণ করছে, যেন ওর মনে বহুদিনের ইস্পিত বাসনা ছিল। ওর মুখ, গাল, ঠোট সব লালে লাল হয়ে যাচ্ছিল। এবার আমি ওকে ছেড়ে দূরে সরে দাঁড়ালাম। ও তাড়াতাড়ি কিচেনে গিয়ে মুখ চোখে জল দিয়ে ধুয়ে এসে মুখে ক্রীম লাগাল।
চুল আচড়াল, সুন্দর করে শাড়ী পড়ল। ও ডাইনিং রুমে এসে টেবিল সাজাল। যেন ওর উপর দিয়ে এতক্ষণ যে ভালবাসার ঝড় বয়ে গেছে। দেখলে মনে হয় কিছুই হয়নি। আমি সুশান্তকে ডেকে তুললাম। এই ঘুম থেকে কি উঠবিনে ? ও তাড়াতাড়ি উঠে বসে চোখ কচলাতে লাগল। আমি বললাম, বাব্বা এত ঘুমুতে পারিস ? সুশান্ত হাসল। তোদের খবর কি ? তোরা খেয়েছিস-ত ? আমি বললাম, তোদের রেখেই খাব ? তাহলে কি করে অতিথি পরায়না হব। টেবিলে অনেকক্ষণ নাশতা দিয়ে ডোরা উমা বসেছিল। পরটা, ডিম মামলেট, ভাজি, চা, খান কয়েক লুচি। এরি মধ্যে সুশান্ত আমি উপস্থিত হয়ে টেবিল সব গরম করে তুললাম। খেতে খেতে অনেক গল্প হল। দেশের কথাই তুললাম। সুশান্ত আমি দু’জনেই বাংলাদেশী। দেশের প্রতি দু’জনের গভীর নাড়ীর টান। দেশকে নিজের মাতৃভূমিকে সকলেই ভালবাসে।

(চলবে———-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।