ভোলায় ভিবিডি’র ‘নিরাপদ হোক পথযাত্রা’ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

‘নিজে সচেতন হলে বাঁচবে একটি প্রাণ’ কথাটি সড়ক দুর্ঘটনার সাথে জড়িয়ে রয়েছে। বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে সড়ক দুর্ঘটনার কথা শুনলে যেন মনে হয় মৃত্যুর মিছিল চলছে আর আমরা সকলে উঠে পড়ে লেগেছি সেই মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিতে। আমরা কেউ সচেতন নই, নেই কোন ড্রাইভারদের মধ্যে সচেতনতা। তাই সকলের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং নির্মাণটেক আর্কিটেক্টস এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স এর সহযোগিতায় ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ভোলা জেলা আয়োজন করে ‘নিরাপদ হোক পথযাত্রা’ নামক ক্যাম্পেইন।
রবিবার (৫ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস উপলক্ষে সকাল ৯ টায় ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তাফা কামাল বাসস্ট্যান্ড জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ভলান্টিয়াররা বিভিন্ন স্লোগান, ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে অর্ধ শতাধিক ভলান্টিয়ারদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালান।
বিগত দিনে ভোলা চরফ্যাশন রোডে অনেক মানুষ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এবং কেউ বা হাত, পা হারিয়েছে পঙ্গু হয়ে বাসায় বন্দী। চালকদের অসাবধানতা এবং মানুষের অসচেতনতার জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই সকলের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে-ই ভিবিডি ভোলা জেলার আজকের আয়োজন “নিরাপদ হোক পথযাত্রা”।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ভোলা জেলার সভাপতি মনিরুল ইসলাম, নির্মানটেক আর্কিটেক্টস এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স এর পরিচালক স্থপতি মোঃ পারভেজ রানা, ভিবিডি ভোলা জেলার প্রজেক্ট অফিসার খালেদ বিন কবির, মানব সম্পদ কর্মকর্তা আল জুবায়ের, প্রজেক্ট লিডার ফয়জুন, কো-লিডার ফাহাদ, কমিটি মেম্বার শাহিন, ইসরাফিল, ফাইয়া, স্বর্ণা, মারিয়া, রিয়াজ, রাব্বি প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, জীবনের তাগিদে আমাদের সকলের বাইরে বের হতে হয় আর দিনশেষে যদি আমরা প্রিয়জনের কাছে ফিরে যেতে না পারি তাহলে প্রতিমুহূর্তে আশঙ্কায় কাটতে হবে আমাদের পরিবারকে। আমাদের অসচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনাকে বড় আকারের সমস্যা হিসেবে তৈরি করেছে। সড়ক দুর্ঘটনার মত বড় সমস্যা গুলো ছোট ছোট কিছু ভুলের জন্য বৃহৎরূপ লাভ করে। চালকদের অসাবধানতা অন্যতম কারণ। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
বক্তারা আরো বলেন, যদি সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় কিছুটা হলেও সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। তবে শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়, এই জন্য সরকার এবং জনগণ দুজনের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সরকারকে একটি যুগোপযোগী মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। রাস্তার পাশে অবৈধ দোকান এবং অন্যান্য অস্থায়ী যত স্থাপনা আছে সেগুলো অপসারণ করতে হবে।
