শিক্ষার্থীর ভিড়ে শিক্ষক সংকট, ব্যহত হচ্ছে কাঙ্খিত পাঠদান 

একজন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা দিয়েই চলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। এক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই বিদ্যালয়টিতে। তিনজন সহকারী শিক্ষক ছিলেন, তাদের দুইজন নেই বেশ আগে থেকেই। মাত্র একজন সহকারী শিক্ষিকা দিয়েই চলছিলো ভোলার রাজাপুরের ৬৩নং উঃ চরশীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস (পাঠদান)।

গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ভোলা – ইলিশা সড়কে মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহারুল ইসলাম (জসিম) ইন্তেকাল করেন,সেই থেকে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক পদটি শুন্য। মৃত্যু জনিত কারনে প্রধান শিক্ষকের পদটি শুন্য রয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা রাবেয়া সুরাইয়া । ২০১৯ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে নেই দুজন সহকারী শিক্ষক। জানাযায় ঐ শিক্ষক দুজন প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে স্থানান্তর আদেশের অনুবলে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তবে জানাযায়নি প্রতিস্থাপিত স্থানান্তরিত শিক্ষক দুজন কামাল হোসেন, ও রাবেয়া আক্তার এর পরিবর্তে এই বিদ্যালয়ে দুজন সহকারী শিক্ষক যোগদান করার বিধান থাকলেও তারা কোন বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন তা জানেন না বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষীকা সুলতানা সুরাইয়া । উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, এমনি অবস্থায় এ বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক অন্যত্র স্থানান্তর হয়েছে। তারা অন্য বিদ্যালয়ে যোগদানও করেছেন বটে। প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে স্থানান্তরের বিধি মোতাবেক তাদের স্থানে যে দুজন শিক্ষক ৬৩নং উঃচরসীতারাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার কথা তারা কেন আজো যোগদান করেন নি এমন প্রশ্নই তুলছেন বিদ্যালয় ক্যাসমেন্ট এরিয়ার অভিবাবক সাধারণ । প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক না থাকায় পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে সময় দিতে হচ্ছে একমাত্র শিক্ষিকা সুলতানা সুরাইয়াকে । এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন শিক্ষার্থির অবিভাবকেরা।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষীকা সুলতানা সুরাইয়া বলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। তবে শুন্য পদে রিনা আক্তার নামে একজন শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে যোগদান করার পরপরেই সে চলে যান পি টি আই প্রশিক্ষনে । তার পর থেকে এ বিদ্যালয়টি চলেতে থাকে একজন শিক্ষিকার পাঠদানে।
৬৩ নং উঃ চরসীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন চর মোহাম্দদ আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষীকা সুমা বেগম। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষীকা অফিসকক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছেন। শিক্ষক না থাকায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করছে।
এ সময় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভোলার বাণীকে বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন দুজন তাদের একজন আবার আসেন চর মোহাম্মদ আলি স্কুল থেকে। শিক্ষার্থীরা বলেন সুমা আপা একসঙ্গে দুই শ্রেণিতে পড়ান। এতে শিক্ষার্থীরা পড়া ঠিকমতো বুঝে নিতে পারে না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষীকা সুলতানা সুরাইয়া বলেন, বিদ্যালয়টিতে ১৫১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পড়াতে অন্তত ৪ জন জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও আছেন মাত্র একজন,শিক্ষা অফিশের আদেশ মোতাবেক সে আসেন পার্শ্ববতি স্কুল থেকে । বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে আমাকে প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ সময় একজন শিক্ষককে একসঙ্গে দুটি শ্রেণিতে পড়াতে হয়। এতে করে ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে না।
প্রতিস্থাপনে স্থানান্তরিত হওয়া বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা রাবেয়া বেগম,তিনি কোন বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন মুঠোফোনে জানতে চাইলে রাবেয়া বেগম প্রতিবেদককে বলেন এসব প্রশ্ন আপনি কেন করেন, আমার কর্মস্থল কোথায় তা আপনাকে বলতে হবে কেন? নিয়ম অনুযায়ী অফিস আমাকে যেখানে স্থানান্তর আদেশ দিয়েছেন আমি সেখানে কর্মরত আছি, এসব নিয়ে আপনারা বারাবারি করবেন না। সাহস থাকলে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে জানেন। অপর প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে স্থানান্তরিত হওয়া সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন বলেন আমি মেহেন্দীগঞ্জ এর নয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৯ সালের মে মাস থেকে কর্মরত আছি, তার পুর্বে আমি ৬৩ নং উঃ চরসিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলাম। তবে আমাদের স্থলে শিক্ষক দিছে কিনা বা যোগ দান করেছে কিনা আমি জানিনা।
এ ব্যাপারে পার্শ্ববতি চর মোহাম্মদ আলি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অমল কৃঞ্চ নন্দী বলেন প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভা, প্রতিবেদন তৈরি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। সহকারী শিক্ষকেরা পড়ান। প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকেরা এ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁদের একসঙ্গে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ ছাড়াও বিভিন্ন সভায় যোগ দিতে হয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে এবিদ্যালয়ে প্রতিম্থাপন সাপেক্ষে স্থানান্তরিত শিক্ষক দুজন যোগদান না করার বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না বলে জানান এই কর্মকর্তা ।
তবে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের অনেক পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। জানুয়ারী মাসেই এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসন করবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।