সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-২৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : কোন মেয়ে আমার মধ্যে এমন একটি অনুভূতি, মায়া ছড়িয়ে দিতে পারে এটা ছিল আমার কল্পনার অতীত। কোন মেয়ের জন্য আমার মন এতটা অস্থির হয়ে উঠবে এটা ছিল আমার কাছে অচিন্তনিয়। আমি তাড়াতাড়ি সরে এলাম, ও কি খাবে, ঘরে কেনা কাটা করাও ছিল না। সপিং এ গেলাম অনেক কিছু কেনা-কাটা করলাম। অনেক ফলও কিনলাম। অনেক ভেজিটেবল ও মুরগী কিনলাম। অনেক টফি নিয়ে এলাম। দু’হাতে টাকা ছড়াতে কেন জানি আমার খুব ভাল লাগল। এত ভালোবুঝি এর আগে আমার কোনদিন লাগেনি। এসে দেখি ও কিচেনে ঘোরাঘুড়ি করছে।
আমি বললাম, সেকি এই শরীরে এখানে কেন ? ঘরে গিয়ে বিশ্রাম করো। আবার জ্বর বেড়ে গেলে রাত জেগে পাহারা দিতে হবে। ও মৃদু হাসল, ডাগর ডাগর চোখ দু’টি মেলে কতক্ষণ অনিমেঘ নয়নে তাকিয়ে দেখল। আমি কাগজের বড় বড় ঠোঙ্গা থেকে জিনিস-পত্র বের করে পরিপাটি করে ফ্রিজে গুছিয়ে রাখলাম। আমি বললাম কি কি খাবে ? ও বলল, তুমি সর আমি সব করব। আমি বললাম, তোমার শরীর একদম ভাল না। তুমি পারবে ? বলল মেয়েরা সবকিছু তোমাদের চেয়ে অনেক ভাল পারে। ওর চোখে চোখ রেখে আমি মুচকি হাঁসলাম। বললাম তাতো দেখেতেই পাচ্ছি। ও মুখ নীচু করে থাকল, মাথা তুলল না। আমি ঘরে এসে নিউজ পোপারটা দেখলাম। হঠাৎ বাইরে লেটার বক্স নড়ার শব্দ পেলাম। দেখি পিয়ন চিঠি দিয়ে গেল। তাড়াতাড়ি চিঠি নিয়ে এলাম, দেখি সুশান্তর চিঠি। সুশান্ত উমাকে নিয়ে দু’সপ্তাহের জন্য এখানে বেড়াতে আসছে। সামনের শনিবার দুপুরে মন্ট্রিল আমার এখানে এসে পৌছবে। আমি চিঠি হাতে করে ভাবতে লাগলাম ডোরার খুব অসুবিধে হবেনা তো ? আবার ভাবলাম উমার হাতের পাক খুব ভাল ও আসলে সকলের যতœ হবে।
ডোরাকে গিয়ে বললাম আমার বন্ধু ও বন্ধু পতœী আসছেন সামনের সপ্তাহে। ও হাসল খু-উ-ব ভাল। আমার ভাল হবে। বেশ গল্প করা যাবে। হৈ-হুল্লোর করা যাবে। আমি ইউনিভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলাম। দু’টো ডাল ভাত পেলে ভাল হয়। না হয় ওখানেই রেষ্টুরেন্টে খেয়ে নেব। ডোরাকে বললাম, শোন আমি ইউনিভার্সিটি যাচ্ছি। তুমি খেয়ে নিয়ে বিশ্রাম করো। বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালাম। পাঁচ মিনিটের ভিতর বাস এসে গেল। সারা পথে সকালকার ব্যাপারটা যেন একটা স্বপ্নের মত মনে হল। ভাবতে খুব ভাল লাগে, যেন কতদিন ধরে আমার মনের অগোচরে বাসনার ফুল হয়ে আত্মগোপন করেছিল। আমার ইচ্ছার মজ্জায় মজ্জায়। ইউনিভার্সিটির কিছু দুরে বাস থেমে গেল যেন। কত আনন্দ, কত পূর্ণতা নিয়ে কমন রুমে পা দিলাম। বুক ভরা কত কথা, কত ভাষা, আমার হৃদয়ের নিভৃতে বাসা বেঁধে আছে। তা কাউকে বলতে পারছি না। বসে বসে একটি নিউজ পেপারে চোখ বুলিয়ে গেলাম। মন আমার ডোরার কাছে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। আর তিন চার দিন পর ইউনিভার্সিটি মাত্র এক সপ্তাহের জন্য ছুটি হয়ে যাবে তখন বসে বসে ওদের সাথে গল্প করা যাবে। ডোরা, আমি, উমা, সুশান্ত।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।