সর্বশেষঃ

ভোলায় গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা

ভোলাবাসীকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ঘরে ঘরে জ্বালানি গ্যাস নিশ্চিত করতে হবে

“ভোলায় প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। (২৪ নভেম্বর) সকালে সামাজিক সংগঠন ব-দ্বীপ ফোরাম, ইয়ুথ পাওয়ার ইন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ও আইসিডিএফ এর সার্বিক সহযোগিতায় ভোলা সদর উপজেলা কৃষি অফিস মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ভোলায় প্রচুর পরিমান গ্যাস এর মজুদ রয়েছে। এই গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে ভোলায় গড়ে উঠতে পারে শিল্পকারখানা ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠান। ভোলার প্রতিটি বাসা বাড়ীতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা করতে হবে। ভোলার ঘরে ঘরে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের লাইন দিতে হবে। কিন্তু ভোলার প্রত্যেক উপজেলায় ঘরে ঘরে গ্যাস দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সার্ভের পর তা বাস্তবায়ন হয়নি। ভোলাবাসীর এই দাবীগুলো দ্রুত বাস্তায়বন করা সময়ের দাবী। ভোলা শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র থেকে বাপেক্সের মাধ্যমে উত্তেলিত গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন খুবই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার মাধ্যমে ভোলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। ভোলা এলাকায় বিদ্যমান সকল শ্রেণীর চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ সরবরাহ করার পরে ও ১৯.৩৮ এমএসসিএফডি গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকায় এবং ভোলা এলাকায় জাতীয় গ্যাস গ্রিড বর্হিভুত হওয়ায় ভোলার শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র হতে উত্তেলিত গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে ভোলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ভোলাবাসীর এই প্রাণের দাবী বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও জরুরী পদক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।
আলোচনা সভায় বক্তরা ৫ দফা দাবী তুলে ধরা হয়। দাবীগুলো হলোঃ ১। ভোলায় উত্তোলিত গ্যাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গৃহস্থালী কাজের জন্য সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। ২। ভোলার যানবাহনের জন্য সিএনজি গ্যাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক। ৩। ভোলার সকল উপজেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার পরে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হোক। ৪। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ৫। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ভিত্তিক সকল প্রতিষ্ঠানে জনশক্তি হিসেবে ভোলাবাসীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বক্তরা আরো বলেন, ২০১৩ সালে প্রাথমিক ভাবে বাসাবাড়িতে গ্যাস- সংযোগ পেতে শুরু করে ভোলাবাসী। সংযোগ দেওয়ার আগে পৌর সভায় ২০ কি.মি. এলাকায় গ্যাস পাইপলাইন টানার কাজ শেষ হয়। পরে আবার ২০১৬ সালে ভোলা-বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৪০ কি.মি. লাইন টানা হয়। পর্যায় ক্রমে সবাই গ্যাস সুবিধার আওতায় আনার কথা থাকলেও লাইন টানা ও রাইজার স্থাপনের মধ্যে সীমিত রয়েছে। ভোলাবাসী এখন সেই কাঙ্খিত গ্যাসের দেখা পাইনি। তাই দ্রুত বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান বক্তরা।
আলোচনা সভায় দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব মুহাম্মদ শওকাত হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গোলদার, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, বাংলারকণ্ঠের সম্পাদক এম হাবিবুর রহমান, ঢাকাস্থ ভোলা সদর উপজেলা সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া জাহাঙ্গীর, ভোলা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক স¤পাদক এনামুল হক, ভোলা জেলা কমিনিউস্ট পার্টির সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোবাশ্বের উল্ল্যাহ চৌধুরী, ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিন বিল্লাহ, ভোলা পৌরসভার প্যানেল মেয়র আসাদুজ্জামান জুম্মান, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী মনির চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মোকাম্মেল হক মিলন, ঘরে ঘরে গ্যাস চাই আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আবদুল জলিল নান্টু, ভোলা নাগরিক অধিকার ফোরামের স¤পাদক ও এসএটিভি জেলা প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট সাহাদাত শাহিন, ভোলা সদর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও যমুনা টিভি জেলা প্রতিনিধি এইচএম জাকির প্রমুখ। অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিগণ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তানভীর রনি, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম ভোলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসেন, ভোলা ব-দ্বীপ ফোরামের অন্যতম সদস্য রাজিব হায়দার প্রমুখ।
আলোচনা সভায় প্রবন্ধপাঠ করেন, ব-দ্বীপ ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী মীর মোশারেফ অমি। অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন, ইয়ুথ পাওয়ার ইন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী আদিল হোসেন তপু ও বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম শাহরিয়ার জিলন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।