মধ্যরাত : পর্ব-২৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : সন্ধ্যে হয়ে এল, তাড়তাড়ি বাড়ী ফিরে এলাম। আসতে আসতে অনেক অনেক কথা মনে হল। ছুটি নিয়ে ক’দিন বাহির থেকে ঘুরে আসি। আবার ভাবলাম থাক, এইত বিরাট ছুটি কাটালাম। এর অধৈর্য্য হলে চলেনা। সংযম, ত্যাগ, তিতিক্ষা, সংগ্রাম করে যে বাঁচে সেই-ত সত্যিকারের আসল মানুষ। রাতে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাত্রে একটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম। দেখি আমি ডোরা মিয়ামি সি-বিচের কাছে হাত ধরা ধরি করে ঘুড়ে বেড়াচ্ছি। কতলোক ¯œান করছে, কেউ চেয়ারে হেলাম দিয়ে কাগজ পড়ছে। হঠাৎ যেন দেখলাম সমুদ্রের একটা ঢেউ এসে ডোরাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।
হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখলাম ভোর হয়ে গেছে। বাইরে মেঘমুক্ত আকাশে হেমন্তের রোদ চিকচিক করছে। দিনটা বেশ ঝর ঝরে। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। ওকে আমি কাছে না পাই তাতে আমার এতদুঃখ বোধ হয় হবে না। তবু তাকে আমি সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে তলিয়ে যেতে দেখে ভীষণ মর্মাহত হয়ে গেলাম। কোথায় যেন বুকের মাঝে চিন চিন করে ব্যথা অনুভব করলাম। তাড়াতাড়ি ¯œান সেরে কিছু মুখে দিয়ে ইউনিভার্সিটির পথে রওয়ানা দিলাম। হঠাৎ দেখলাম পিয়ন বাইরের ডাক বাক্সে চিঠি রেখে গেল। ভাবলাম বোধহয় বড়দি’র চিঠি। হাতে নিয়ে দেখি ইনভেলাপের পিছনে ডোরার নাম। তাড়াতাড়ি খুলে পড়তে লাগলাম, কোন দুঃসংবাদ নয় তো। দম বন্ধ করে পড়লাম, ডোরা ভাল আছে বাঁচলাম। ও ভালো থাকুক এটাই আমি মনে মনে কামনা করি। ডোরা ছুটিতে আসতে চায় আমার এখানে। পড়ে খুব ভাল লাগলো। ডোরা আসবে, এযে আমার পরম আনন্দের কথা। এদিকে আবার সুশান্ত উমাকে নিয়ে এখানে ক’দিন ছুটি কাটাতে চেয়েছে। থাক বড়দিন আসুক-ত ? দেখা যাবে আমি ঘড়ি দেখলাম বাসের সময় হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি ঘরের বাইরে পা বাড়ালাম। বাস ভর্তি লোক, দাঁড়িয়ে থাকলাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইউনিভার্সিটির কাছে এসে নেমে পড়লাম।
আজ মুক্ত পায়রার মত আমার মন বড় হলকা লাগছে। নিজেকে বড় উদার মনে হলো। উজার হয়ে ক্লাশে ঢুকে ইকনমিকস পড়াতে লাগলাম। আমার যেন মনে হল এত ভালো করে এত সুন্দর করে যেন কোনদিন ক্লাশে পড়াইনি। ক্লাশের পর কমন রুমে কতক্ষণ ডিজনী ওয়ালর্ডের গল্প করলাম। বললাম যদি কোন দিন ভগবান দেন সময় পেলে ডিজনী ওয়ালর্ডে যাব। সত্যি যা সুন্দর কবির কল্পনার বাইরে। বিয়াল্লিশ মাইলব্যাপী এই ওয়ালট ডিজনী ওয়ালর্ড। মাত্র অল্প কিছু দেখেছি, সবটা ঘুরে দেখবার সখ আমার আছে। আরও অন্যান্য প্রফেসাররা যাওয়ার জন্য উৎসুক প্রকাশ করল। বলল, বড়দিনে বরফের মধ্যে এখানে সময় নষ্ট না করে দু’সপ্তাহ ফ্লোরিডা কাটিয়ে এসে মন্দ হয় না। হাঁসি-ঠাট্টার ভিতরে কথাটা সেদিন এখানেই চাঁপা পড়ে থাকলো।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।