পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ, নাকচ ওসির
নরসিংদীতে নির্বাচনী সহিংসতা ॥ গুলিতে নিহত-৩, আহত-৩০

নরসিংদীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নেকজানপুর এলাকার মো. আমির হোসেন (৪৫), আশরাফুল ইসলাম (২২) ও খুশি বেগম (৫০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল্লাহ মিয়ার দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে প্রতিপক্ষ আসাদুল্লাহ প্রথমে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে শেষ দিনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। বিষয়টি তাঁর সমর্থকরা ভালোভাবে নেয়নি।
এদিকে, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থক আবুল খায়ের এবং আসাদুল্লাহর সমর্থক রিপন মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবুল খায়ের সমর্থকদের ওপর প্রতিপক্ষ রিপনের সমর্থকরা দেশি ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালান। একপর্যায়ে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হন। নিহতরা আবুল খায়েরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধও রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, মেম্বার পদপ্রার্থী আবুল খায়ের ও রিপন গ্রুপের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ১০-১২ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর ৭-৮ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ, নাকচ ওসির : তবে এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ করেছে একটি পক্ষ। তাদের অভিযোগ হামলার আগেই পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়ছিল। তবে পুলিশ কর্ণপাত করেনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদশী আলোকবালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মামুন হাসান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে আমরা আগেই টের পেয়েছিলাম। তাই পুলিশকে জানিয়েছিলাম। তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশের জন্য আজকে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সক্রিয় থাকলে এই তিনটা লোক মারা যেত না। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু তারা আসেনি। পুলিশ আসাদুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে তার বাড়ি পাহারা দেয়। কিন্তু আমাদেরকে বাঁচায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘পক্ষপাতিত্বের কোনো প্রশ্নই আসে না। একপক্ষ এ ধরনের অপপ্রচার কিংবা দোষারোপ করছে। নির্বাচন নিয়ে আমরা সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
সুত্র : কালের কণ্ঠ।
