মধ্যরাত : পর্ব-২০

ড. তাইবুন নাহার (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : বড়দি, প্রণাম নেবে। অপ্রত্যাশিত ভাবে তোমার চিঠি খানা পেয়ে আছি খুব খুশী হলাম। বড়দি, তুমি তোমার ছেলে, ছেলে বউ, নাতি-নাতনি নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছ। এই হতভাগ্য ভাইটার কথা কখনও মনেও করনা। তোমার নাতনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় ? এ এমন আর কি অলীক কল্পনা। আমি কেনেডিয়ান হাই কমিশনে গিয়ে স্পনসার করে এসেছি। শীগগীর স্পনসারশিপের ফরম পাবে। সবকিছু ভাল করে পাঠিয়ে দেবে। বার্থ সার্টিফিকেট লাগবে। প্রশান্ত।
আমার অশান্ত মনটা যেন একটু একটু করে শান্তির গভীরে নেমে আসছে। কেমন যেন একটু স্থিও হতে চায়। কারও একটু ¯েœহ, আদর যতœ, ভালবাসা, আন্তরিকতা পাওয়ার আশায় বুক বাঁধে। বড়দি’র ছেলে-মেয়ে শুনেছি চারটি। দুটি ছেলে, দুটি মেয়ে। ছেলে দু’টি দাদুর জায়গায় প্রাকটিস করে। বেশ জাকিয়ে বসেছে। ছেলেরই মেয়ে হবে বোধ হয়। দোলা দেখতে জানি কেমন ? বোধহয় বড়দি’র মতই হবে। বড়দি’র নাতি আসতে চায়না অথচ নাতনি আনতে চায়। এ কেমন কথা, ছেলেরাইত সাধারণত বিদেশে ডিগ্রি নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। জামাই বাবু কিছু দিন আগে মারা গেছেন। তাই বড়দি’র জন্য আমার খুব সহানুভূতি হচ্ছে।
বড়দি’র যখন বিয়ে হয় জামাই বাবু তখন এম. এ. ‘ল’ পড়ছিলেন। ওর বাবার ইচ্ছে ছিল, ছেলে আইন পাশ করে বাবার স্থানে প্রাকটিস করবে। কিন্তু জামাই বাবু ‘ল’ পাশ না করে বাপের টাকা ওড়াতে লাগলেন। বড়দিকে অনেক ধৈর্য্য ধরে শ্বশুরের সংসার পরিচালনা করতে হয়েছে। একটি ননদ ও একটি দেবর ছিল। তাদেও লেখা পড়া শিখিয়ে দেবরটাকে ব্যবসার ক্ষেত্রে লাগিয়ে দিয়ে ননদটাকে সুপাত্রে বিয়ে দেন। নিজের ৪টি ছেলে মেয়ে। মেয়ে দু’টিকে বিয়ে দেন ভাল ঘরে। ছেলে দুটিকে অনেক ধৈর্য্য, অনেক কষ্টে ‘ল’ পাশ করিয়ে শ্বশুরের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেন, এটুকু পর্যন্ত জানি। ছেলেদের বিয়ের নিমন্ত্রণ পত্র পেয়েছিলাম। মেয়েদের বিয়ের সময় পেয়েছিলাম। কিন্তু এতদুর থেকে শুধু আশির্বাদ পাঠিয়েছিলাম। ছেলেদের বৌ শুনেছি খুব সুন্দরী। ভাল রবীন্দ্র সঙ্গিত গাইতে পারে। এটুকু পর্যন্তই আমার জানা আছে। বড়দি’র নাতিরা বোধ হয় লেখা পড়ায় তেমন ভাল না। না হয় নাতি রেখে নাতনী দোলার কথা লিখেছে কেন ? জানিনা।
আমি নিতান্তই ইউনিভার্সিটির পড়াশুনার ব্যাপারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। গরমের ছুটি প্রায় বাইরে কাটিয়ে এলাম। পড়াতে গেলে আবার সাবজেক্টগুলো ভাল করে পড়তে হয়। বন্ধু বান্ধবদের চিঠি পত্রের উত্তর দিতে হয়। সুশান্তের চিঠি পেলাম বড়দিনের ছুটিতে। উমাকে নিয়ে কদিনের জন্য বেড়াতে আসবে। শুনে ভাল লাগল। একা একা খারাপ লাগে। উমা আসলে খুব ভাল ভাল খেতে পারব। সুন্দর রাখতে জানে, উমার রান্না খেলে মা-কাকিদের কথা মনে পড়ে।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।