মধ্যরাত : পর্ব-১৯

ড. তাইবুন নাহর রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : উমাকে কিন্তু আমার খুব ভালো লাগে। ঠিক যেন সদ্য¯œাত উষা। ভোরের শেফালির সাথে ওকে তুলনা করা যায়। তেমনি ¯িœগ্ধ কোমল পেলব মৃদুমন্দ সুবাসে হৃদয়ভরা। সুশান্ত খুব ভাগ্যবান ও আগেও যাকে ভাল বেসেছিল সেই ক্যামেলিয়াও খুব তন্বী তরুণী সুন্দর ছিল। ভাল ভজন গাইতে পারতো একে বলে ভাগ্য। আমার কোন সপ্নই জীবনে সফল হলো না। অথচ কত লোকেরই হয়। জীবনে যারা সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজ নিজ নেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের বলতে শুনেছি অনেককেই। আমি ছেলে বেলায় স্বপ্ন দেখতাম, আমি এ হবো, সে হবো। সুন্দরী তন্বী বিয়ে করবো। আজ তারা সত্যি নামজাদা লোক হয়ে সুন্দরী স্বাস্থ্যবতী স্ত্রী নিয়ে ঘর সংসার করছেন।
সুশান্তর বোনদেরও ভালো বিয়ে হয়েছে। অথচ ওরা খুব গরীব। নিজেদের পরিশ্রমে জ্ঞানে ও গুনে শুনেছি নিজেরাই নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভাইরাও পাবনায় প্রাকটিস করে বেশ দু’পয়সা বানিয়েছে। তার ছেলেরাও দু’একজন লন্ডনে আছে। যাকে ভগবান দেন, তার সবই দেন। যদিও মানুষ তার কর্মস্থল নিজেই ভোগ করে। সেদিন ইউনিভার্সিটি থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে এলাম। খবরের কাগজটা তাড়াতাড়ি হাতে নিয়ে দেখছিলাম। হঠাৎ বাংলাদেশের একটা চিঠি হাতে পড়ল। এ যে বড়দি’র চিঠি। খামটা তাড়াতাড়ি খুলে ফেলাম।
প্রশান্ত, আশির্বাদ নিস। তুই আমার কথা ভুলে গেছিস ? আমি আমার নাতি-নাতনি নিয়ে বস সময় ব্যস্ত থাকি। তবু তোর কথা আমার সব সময় মনে পড়ে। মা সেই ছেলে বেলায় চলে গেছেন। তোকে বুকে করেই, তোর মুখ পানে চেয়েই মায়ের কথা ভুলে ছিলাম। বাবার কাছেই চিল আমাদের সাধ-আল্লাদ। তোকে একটি কারণে লিখছি। আমার নাতনি দোলা এবার এম.এ. পাশ করল। ও উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পড়াশোনা করতে যায়। তুই যদি ওকে স্পনসার করসি, খুশী হব। চিঠি দিস আমাকে। ভুলে যাসনে। ইতি, বড়’দি।
বড়দি’র চিঠি পেয়ে আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বড়দি’র নাতি-নাতনির কথা আমার কল্পনায়ও আসেনি। তবে হ্যাঁ, বড়দিকে আমি খুব ভাল বাসতাম। কত বিরক্ত করেছি বড়দিকে। বড়দি’র কাছে ছোট বেলা লজেন্স, চকলেট, বিস্কুট খাওয়ার জন্য কত পয়সা নিয়েছি। না দিলে বড়দিকে ঢিল ছুড়তাম। বড়দি জানালা-কপাট বন্ধ করে রাখতেন। জানালার ফাঁকদিয়ে তবু ঢিল ছুড়তাম। যখন বড়দি’র বিয়ে হল, তখনও আমি ছোট। বড়দি’র চিঠি পত্র জামাই বাবুর কাছে লেখা সেগুলো বাইরের লোককে নিয়ে দেখিয়ে বেড়াতাম। বলতাম বড়দি পয়সা দাও, না হলে লোককে তোমার জামাই বাবুর কাছে লেখা সব চিঠি দেখিয়ে বেড়াব। বড়দি লজ্জ্বায় মরে যেত, কত কাকুতি-মিনতি করত বড়দি।
বাবা তখন কোর্টে থাকতেন। যখন বড় হলাম, বড়দি কত হাসি-ঠাট্টা করতেন। যখন কলেজে এলাম। বড়দি তখন বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ী চলে গেছে। শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার সময় বড়দি খুব কাঁদত। আমি বলতাম বারে তুমি কাঁদ কেন ? এখন শ্বশুর বাড়ী যাচ্ছ ? বড়দি বলতেন, প্রশান্ত তোকে ছেড়ে যেতে মন চায় না। সে কতদিন কতকালের কথা। বাবা মারা গেলেন। বাবা মারা যাওয়ার আগে বাবাকে মন্ট্রিলে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু বাবা থাকতে চাইলেন না। ভাবছিলাম বাবাকে নিয়ে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দেব। বড়দি’র কথা মত বাড়দির নাতনী দোলার স্পনসারশিপের ফরম পাঠিয়ে দিলাম। এমবাসিতে গিয়ে স্পনসার করে এলাম।
(চলবে——)
