মধ্যরাত : পর্ব-০৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত সংখ্যার পর) : সমুদ্রে তখন জোয়ার এসেছিল। জলের উচ্ছলতা উদ্দমতা আরও অনেক বেড়েছিল। ডোরা বলল, প্রশান্ত এখন তোমার কাছে থকে আমাকে বিদেয় নিতে হবে। বহু বছর পরে দেখা জানিনা আবার কখন কোনদিন তোমার সাথে আমার আবার দেখা হবে। আমি বললাম, চল ডোরা আমিও তোমাদের সাথে ঐ পথেই ওয়াশিংটন যাব। সেই ডোরা যখন ভরা যৌবনা, তখন ডোরাকে ছেড়েছি, আর আজ ডোরা তরুণীর শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে, হয়ত বিয়ে করলে এখন দিদিমা হোত প্রায়। সেই ডোরা এখন তার যৌবনকে ধরে রেখেছে। এখনও হাসলে দুগালে টোল খায়। চোখ এখনও আবেশে নেমে আসে। লজ্জ্বায় লজ্জ্বাবতী লতার মত সংকুচিত হয়। ঠোট দুটি কমলা লেবুর কোষের মত টলমল করে। নিখুঁত শরীরের বাঁধন, এখনও তার কাছে মৌমাছি গুণ গুণ করে মধু লোভে। এখন ওকে ভালবাসা যায়, ভালবাসতে ইচ্ছে করে।
আবার গাড়ী ষ্ট্রাট দিলাম দীর্ঘ পথ চালিয়ে ডোরা ভার্জিনিয়ায় চলে গেল আমি ওয়াশিংটনে একরাত থেকে নায়াগ্রার পথে পাড়ি জমালাম। দুপাশে আকাশ ছোঁওয়া মেঘের মত পাহাড় যেন আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল, কখন উচু, কখনও নীচু, কখন ঢালু, ডেউ খেলানো পাহাড়ের সীমানা আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতে লাগল। পাহাড়ের গায়ে বড় বড় গাছে ফুটে থাকা নাম না জানা বেগুনি লাল নীল ফুল। কৃষ্ণচূড়া ছাড়া একটাও আমি চিনতে পারিনা। পাহাড়ের বুক চিরে আসা যাওয়ার পায়ে চলার পথ। যে পথ আমাকে মন ভুলায়, যে পথ আমাকে বাইরের জন্য আকর্ষণ করে।
¯িœগ্ধ সমীরণে আমি একা একা গাড়ী ড্রাইভ করছি। ডোরা নেই। অনেক কথা অনেক স্মৃতি আমার মনকে ভীষণ ভাবে দোলা দিচ্ছে। ডোরা যখন আলেয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেছিল প্রফেসাররা পর্যন্ত অবাক হয়েছিল। ডোরার তখন অল্প বয়ষ মাত্র ফাষ্ট ইয়ার আই.এ. পড়ছিল। যৌবনে সবে মাত্র পা দিয়েছে। তন্নী কিশোরী কচি লাউয়ের ডগার মত তার দেহ। চোখ দুটি ভাসা ভাসা অর্থপূর্ণ। তখনই বি.এম. কলেজে সিরাজউদ্দৌলা অভিনয়ে আমি সিরাজ, ডোরা আলেয়া। সিরাজ আলেয়াকে বলেছিল, এমন মিষ্টি হাসি তুমি কেমন করে হাস ? আলেয়া বলছিল, হারেমে কি এমন হাসি কখনও শোনেননি জনাব ? কোন নর্তকীর। কোন বেগমের ?

 (চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।