বাংলা হবে আফগান, আমরা হবো তালেবান এটা জামায়াতে ইসলামীর স্লোগান : মেজর হাফিজ
মধ্যরাত : পর্ব-০৫

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : সাব মেরিনের নাম শুনে আমার আত্মা রাম খাঁচা ছাড়া। সাবমেরিন যদি সাগরের নীচে ডুব দেয়। যদি সাগরের নীচে থেকে সাবমেরিন আর ডুব দিয়ে আর না উঠে। সত্যি এই যে চাঁদে যাওয়া, এই চিন্তা শিশু কিশোরদের মনে এখন থেকেই দিয়ে দেওয়া হয়, তাহালে তারা আরও এক যুগ এগিয়ে যাবে। শিশু কিশোররা এসব দেখে শুনে পটু হয়। আগামী ভবিষ্যতে তাদের কাছে আমরা অনেক কিছু আশা করতে পারি।
আমি দোকানে বসে এসব ভাবছিলাম। ডোরা দোকানে কৃষ্টালের জিনিস পত্র নেড়ে চেড়ে দেখছিল। ভিউকার্ড দেখছিল। আর কত কিছু দেখছিল। ছোট ছেলে মানুষের মত কর। এত ছেলে মানুষ তুমি। চল ডোরা কিচু খেয়েনি, সারাদিনত কিছুই খাওয়া হলনা। আমরা দু’জনে একটা কাফেতে কেনটোকি আলু ফ্রাই চা খেলাম। এখন দুজনেই গন্তব্য পথের দিকে এগুতে লাগলাম। আমরা ঐখানকার গাড়ী করে বাইরে এলাম। যেখানে আমাদের ট্রান্সপোর্ট রয়েছে সেখানে নেমে পড়লাম।
অনেক অনেক ট্রান্সপোর্ট খুঁজে বের করতে দীর্ঘ সময় লেগে গেল। আমিও আমার গাড়ী খুজেই পাচ্ছিনা। ডোরারটা পাওয়া গেল। ডোরা বলল, প্রশান্ত তুমি কখন যাবে ? আমি পুলিশকে ইনফর্ম করলাম। পুলিশ বলল ১২টা কিংবা ১টার সময় পাওয়া যাবে। এটা একটা ম্যাজিক কিংডম। তখন সকলেই যার যার বাড়ী ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছে। হঠাৎ আমি আমার গাড়ী পেয়ে গেলাম। আমরা যেখানে খোঁজা-খুঁজি করেছি, সেখানেই আছে। এতক্ষণ চাঁদে গিয়ে, সাবমেরিনে চড়ে, সাত সমুদ্রে গিয়ে, মাথা এলোমেলো হয়েছে, তা ভেবে মনে মনে হাসলাম।
এর মধ্যে ডোরার সাথে ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির সব প্রফেসাররা এসে যার যার গাড়ীর পাশে জড হল। ডেরা ওদের সাথে আলাপ আলোচনা করছে, এতক্ষণ কে কোথায় ছিল তা নিয়ে বেশ বড় রকমের গল্প করছে। ডোরা ওদের সাথে আমার পরিচয় করে দিল। ডোরা বলল, প্রশান্ত বাই, কাল মিয়ামি দেখা হবে। আমি বিষন্ন মনে ক্লান্ত দেহে ডিজনী ওয়ালর্ড থেকে গাড়ী ড্রাইভ করে মোটেলে এলাম। রাত্রে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম।
পরদিন ঘুম থেকে খুব ভোরে উঠে দেখি ডোরা আর আমি একই মোটেলে ডিজিন এ আছি। ওর সাথীরাও এখানে ভিন্ন ভিন্ন কামরায় আছে। অথচ ডোরার সাথে এত গল্প করেছি, ও একবারও বললনা ফ্লোরিডা ও কোথায় উঠেছে, বা আমি কোথায় উঠেছি। আশ্চর্য ও একবারও জানতে চাইলনা। ডোরাকে দেখে আমার খুব আনন্দ লাগল। সকলে সকলেই হৈ চৈ করে আমরা ম্যাকডোনালে চা খেতে গেলাম। ওর সাথের প্রফেসাররা খুব আমোদী-রসিক। বয়সে তরুণ, যৌবনের উন্মাদনায় অধীর।
সকলেই চা খাচ্ছিল। আর ডিজনী ওয়ালর্ডের গল্প করছিল। মিষ্টার ব্যানার্জি ইকনমিকসের প্রফেসার, ওনি বললেন- কাল ডিজনী ওয়ালর্ডে আপনি মিস, দল ছেড়ে কোথায় যে হারিয়ে গেলেন, আমরা অনেক খুঁজে খুঁজে ভাবলাম মিসকে কি শেষ পর্যন্ত মিস করলাম ? ডোরা আমাকে দেখিয়ে বলল- আমার বাল্য বন্ধু প্রশান্ত। ওর সাথে দেখা হওয়াতে ওর সাথে সাথেই ঘুড়লাম। আমরা এক সাথে বরিশাল বি.এম. কলেজে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি নেই এবং দু’জনেই একদেশি।
(চলবে———)
