হেফাজতের নতুন কান্ডারী, কে এই মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ?

(ফাইল ছবি)

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন আমির নির্বাচিত হয়েছেন মুজাহিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। হেফাজতের সদ্য প্রয়াত আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। এর আগে সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ।
হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলামের ছেলে মোরশেদ বিন নুর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংগঠনের শুরা মিটিং হয়নি, ফোনে ফোনেই আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর উত্তরসূরি জুনায়েদ বাবুনগরী বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রয়াত হন। এরপর নতুন আমিরের নাম ঘোষণা করে হেফাজতের উপদেষ্টা পরিষদ। এদিন রাতেই নিজ কর্মস্থল হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে জুনায়েদ বাবুনগরীকে। তার জানাজায় ইমামতি করেন নতুন নির্বাচিত আমির। মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দুজনে সম্পর্কে আপন মামা-ভাগ্নে।
২০২০ সালে হেফাজতের আমির হয়েছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী। আমৃত্যু এই পদে ছিলেন তিনি। আর গত ৭ জুন হেফাজতের ঘোষিত কমিটির ১৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী : শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহাসিক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা আরেফে রব্বানী আল্লামা শাহ হারুন বাবুনগরী। তিনি বাবুনগর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা। মুহিব্বুল্লাহর শৈশব কাটে সম্পূর্ণদ্বীনি পরিবেশে। বেশীরভাগ সময় তিনি পিতার সঙ্গে মাদরাসায় কাটাতেন। মাদরাসার ধর্মীয় পরিবেশেই থাকতেন।
শিক্ষা জীবন : মুহিব্বুল্লাহ নাজেরা খানা থেকে জামাতে চাহারুম (৮ম শ্রেণি) পর্যন্ত জামিয়া বাবুনগরে পড়াশুনা করেন। অতঃপর তিনি দারুল উলুম হাটাহাজারীতে ভর্তি হন। সেখানে ৯ম শ্রেণি (হেদায়া আওয়ালাইন) সম্পন্ন করেন।
এরপর উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের জন্য তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে গমন করেন এবং দেওবন্দে পুনরায় হেদায়া আওয়ালাইন জামাতে ভর্তি হন। এরমধ্যেই তিনি ১ বছর ফুনুনাতের কিতাব পড়েন এবং হাদীস শিক্ষা করেন। ১৯৫৯ ইংরেজিতে কৃতিত্বের সহিত দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর কাছে হেদায়া আখেরাইনের সর্বশেষ দরস গ্রহণ করেন এবং সৈয়দ মাওলানা ফখরুদ্দীন রহ. এর কাছে বুখারী শরীফ, আল্লামা ইবরাহীম বালইয়াবীর কাছে মুসলিম শরীফ ও তিরমিযী শরীফ এবং আল্লামা ফখরুল হাসান সাহেবের কাছে আবুদাউদ শরীফ, মাওলানা জহির আহমদ সাহেবের কাছে ত্বহাবী শরীফ ও মাওলানা বশির আহমদ সাহেবের নিকট মুয়াত্তা মুহাম্মদ পড়েন।
কর্মজীবন : দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে দেশে ফিরে পর পিতা আরেফে রব্বানী আল্লামা শাহ হারুন বাবুনগরীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগরে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে আল্লামা হারুন বাবুনগরী (রহ.), মাওলানা মুছা (প্রকাশ বুযুর্গ) সাহেব (রহ.), মাওলানা সুফী আব্দুল জব্বার রহ. ও আল্লামা আব্দুল হক রহ. প্রমুখের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শক্রমে জামিয়া বাবুনগরের নায়েবে মুহতামিমের পদে অধিষ্ঠিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির মুরুব্বীদের মাঝে অন্যতম এবং জামিয়া ইসলামিয়া বাবুনগরের মহাপরিচালক হিসাবে দাত্বি পালন করছেন।
রাজনীতি : ইসলামবিদ্বেষী শক্তি ও নাস্তিক্যবাদের মোকাবিলায় ইসলামী রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি চরমোনাইর মরহুম পীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম রহ. এর জীবদ্দশায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। মুফতি আমিনী রহ. এর জীবদ্দশায় তিনি ইসলামী ঐক্যজোট এবং ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এরপর তিনি হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর ছিলেন। পরবর্তীতে গত ৭ জুন হেফাজতের ঘোষিত কমিটির ১৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। সর্বশেষ হেফাজদের আমির নিযুক্ত হলেন বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
পারিবারিক জীবন : ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ফটিকছড়ি থানার ধর্মপুরের মরিয়ম বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাদের সংসারে ৩ ছেলে ও ৮ মেয়ে রয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।