মধ্যরাত : পর্ব-০৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত পর্বের পর) : ডোরা বলল, প্রশান্ত আশ্চর্য্য তুমি একটুও ভুলনি। আমরা দু’জনে অনেক অনেক তরাই উৎরাই করলাম। এক আর্টিফেশিয়াল বিরাট একবট গাছের মত গাছ। কত শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে, কতদিকে কত ভাগে ছড়িয়ে আছে। জীবন্ত পাতাগুলো যেন স্মরণ করিয়ে দেয় সত্যি সত্যি কচি কচি সবুজ পাতা। ডাল পালার নীচে সত্যি ছনের ছাউনি দেওয়া ঘর, তার মধ্যে বালিশ, চৌকিতে বিছানা পাতা, দোয়াত কলম সাজান, ছোট্ট হেরিকেন জ্বালান। বাঁশের মাচা করে দিয়েছে একদিকে ওঠার পথ অন্যদিক দিয়ে সিঁড়ি করে দিয়েছে নেমে যাওয়ার জন্য। গাছের গায়ে কত আর্কিড ফুটে রয়েছে। বিচিত্র এই পৃথিবী, বিচিত্র মানুষের মন। মানুষের মনের চাহিদা। গাছের উপর থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্য আরও সুন্দর লাগছিল। গাছটা যে কত বড়, কত সীমাহীন শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে, কত জায়গা জুড়ে গিদ-দিগন্ত ছড়িয়ে আছে। গাছের শাখা-প্রশাখার মধ্যে ছোট ছোট ঘর, তার মধ্যে লাইব্রেরীর মত বই সাজিয়ে রেখেছে।
গাছ দেখার কাজ শেষ করে আমার ছোট ছোট লোকের মত। আমাদের বাংলাদেশে বলি খাল। ঐ রকম জায়গায় গিয়ে লঞ্চের মত ছোট লঞ্চে উঠলাম। আশ্বর্য্য সেই লঞ্চ খালের বুক এঁকে বেঁকে ঝোঁপ-ঝাড়ের ভিতর দিয়ে আমাদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। খালের দু’পাশের ষ্টাচুগুলো গান গাচ্ছে। বীণা বাজাচ্ছে কে যেন পাশের থেকে রোমান থিউড়িগুলো বলে যাচ্ছে। ষ্টাচুগুলির চোখের পাতা পর্যন্ত নড়া চড়া দেখা যায়। জীবন্ত মানুষের মত হাত পা নাড়া চাড়া করছে। ক্লিউপেট্রার ছবি দামী গালিচার মধ্যে বিছিয়ে পেচিয়ে রাজাকে উপহার দিচ্ছে।
গৌতম যুদ্ধ গাছের নীচে বসে ধ্যান করছে। তার অঙ্গ-প্রতঙ্গ বেয়ে গাছ গাছের শিকড় উঠে যাচ্ছে। সাপ মাথার উপরে ফণা ধরে আছে। তবু তবু তার চেতনা নেই। যেন ব্যকুল হয়ে দেখছিলাম। কত রাজ রাজড়ার ছবি। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে। হাতি পানির মধ্যে ডুবে ডুবে শুড় দিয়ে পানি ছড়াচ্ছে। বাঘ হুঙ্কার দিয়ে আক্রমন করতে আসছে। দস্যুরা আমাদের লঞ্চ দেখে আক্রমন করতে আসছে। হৈ-চৈ চিৎকার যেন সত্যি সত্যি পরীরা রাজবাড়ী থেকে রাজকুমারীকে চুরি করে নিয়ে উড়ে চলে যাচ্ছে। এসব দেখে দেখে ক্রমে ক্রমে আমাদের লঞ্চ কূলে এসে ভিড়ল।
ডোরা ভয়ে বিস্ময়ে এতটুকুন হয়েছিল। আমি বললাম, ডোরা তুমি এখন এত ছেলৈ মানুষ। কোন ভয় নেই, নেমে এস। হাত ধরে ওকে নামিয়ে নিলুম। ক্রমে ক্রমে গোধুলী লগ্নের সময় হয়ে এল। লাল নীল হলুদ বিজলী বাতি ঝকঝক করে জ্বলে উঠল। আকাশে প্রকান্ড বড় চাঁদটা উঠে তারায় ঢাকায় আকাশ ছেঁয়ে গেল। গরমের ¯িœগ্ধ বাতাস সুশীতল হাতের শান্ত ছায়া বুলিয়ে গেল।
ডোরা বলল, দেখেছ প্রশান্ত আকাশে কেমন রাম ধেনু উঠেছে। বোধ হয় বৃষ্টি নামবে। আমি বললাম, নামুকনা, তাতে কি আসে যায়। আমি ডোরাকে চাঁদে যাওয়ার জন্য চার-পাঁচ তলার সিঁড়ি বেয়ে উপওে উঠে চাঁদে যাওয়ার গাড়ীতে আসন নিলাম। সমস্ত গাড়ীটা লোকে ভরে গেল। গাড়ী ছলতে আরম্ভ করল। যাচ্ছে-ত যাচ্ছেই। ময়ূর পঙ্খীর মত গাড়ী উড়ে চলল। দু’পাশ থেকে কত দৈত্য দানব আক্রমন করল। কত চাঁদ তারা আমাদের আক্রমন জানাল। হাতছানি দিয়ে কাছে ডেকে দু’টো কথা বলতে চাইল। অন্ধকার, দিগ-দিগন্ত আমবশ্যার রাতের মত ছেয়ে আছে। আমি ডোরাকে কি সান্তনা দেব, আমি নিজেই ভয়ে আতঙ্কে বিমুঢ় হয়ে থাকলাম। আমার কানের কাছে ডোরা মুখ নিয়ে বলল, আস্তে আস্তে বলল, আমরা কি আবার ফিরে যেতে পারব না ? আমি বললাম, ডোরা তুমি কেন এত অবুঝ ?

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।