মধ্যরাত : পর্ব-০২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : এবার তোমার কথা বল। তখন কেবল কারে বেড়ানো আমাদের শেষ হয়ে এল। আমি বললাম এবার আমাদের নামতে হবে। চল আমরা সাবমেরিনে যাই। সেখানে গল্প হবে। ডোরা আমার সাথে সাথে পথ অনুসরণ করল। আমরা দু’জনে সাবমেরিনে চড়লাম। সাবমেরিন সমুদ্রের নীচে ডুব দিল। সমুদ্রের অতল তলে ঝিনুক, কত কুড়ি, কত কাঁকড়া, কাছিম, কুমির, ঝিনুক এর কণার মুক্তোর মত থাকতে পারে। কত বন-জঙ্গল, কত শেওলা, বলে শেষ করা যায় না। আমি ও ডোরা অবাক হয়ে দেখতে লাগলাম জলের নীচে কত অবাক অবাক জিসিন।
সাবমেরিনে চড়ে আমার ডোরার কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। কোনদিন আমরা দু’জনে কেউ-ই সাগরের নীচে যাইনি। আজ দিয়ে বিস্মিত, অবাক হয়ে ভাবছি। আর দেখিছি, কখন মনের অজান্তে ডোরার হাত আমার হাতের মুঠোর ভিতর এসে গেল তা আমরা কেউ-ই উপলব্ধি করতে পারিনি। সাবমেরিন ভর্তি লোক সকলেই হতবাক হয়ে জলের নীচের জিনিস দেখার জন্য ব্যকুল। হঠাৎ বাতি জ্বলে উঠল। সাবমেরিন পানির উপরে উঠে এল, ডোরা লজ্জ্বা পেল। আমিও ডোরাকে নিয়ে সিনডারেলা ক্যাসেলের পাশে পার্কের বেঞ্চিতে বসে কিছু খাবে কিনা জিজ্ঞাসা করলাম। ও বলল কিছু খাবে না। ডোরা বলল, প্রশান্ত তুমি কি করছ ? এতদিন কোথায় ছিলে ? বল, আমার শুনতে ইচ্ছে করছে। আমি বললাম ডোরা। সেত অনেক দিনের কথা। তোমার সাথে বি.এ. পাশ করার পর ঢাকায় গিয়ে আমি এম. এ. পাশ করি। বাবা বরিশালের প্রাকাটিশ ছেড়ে কোথাও যেতে চাইলেন না। আমার দাদা মশায় সকলেই এই সোনার বাংলায়, এই ভারত বর্ষে জীবন আত্মহুতি দিয়েছেন। আমার দিদিমা এখানকার চিতায় পুরে ভস্ম হয়ে গেছেন। বাবা বরিশালেই পড়ে থাকতে চাইলেন। বড়দিও ওখানে এক আইনজ্ঞ লোকের ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে। আমি আর বড়দি, এই দু’জনই ছিলাম বাবার নয়নের মনি। বাবা বেশ ছিলেন কোর্টে যেতেব, ক্লাবে যেতেন, রাজনীতি করতেন। আমি এম. এ. পাশ করার পর ঢাকায় কিছুদিন পর্যটন কর্পোরেশনে কাজ করেছিলাম। তারপর ছেড়ে দিয়ে কানায়ায় চলে আসলাম। বাবাকে স্পন্সর করেছিলাম। বাবা এসেছিলেন, তারপর বছর দুই হল বাবা মারা গেছেন। এখন বেশ আছি।
ডোরা বলল বিয়ে করনি ? বললাম না ডোরা, এই বেশ আছি। শুধু শুধু একটা মেয়েকে এনে কষ্ট দিয়ে লাভ কি ? যাকে ভালবাসতে পারবনা। ডোরা বলল, কেন ভালবাসতে পারবে না ? আমি হাসলাম। আচ্ছা ডোরা তোমার মনে পড়ে বরিশাল বি.এম. কলেজে একবার সিরাজ-উদ-দৌলা হয়েছিল। আমি সিরাজের অভিনয় করেছিলাম। তুমি আলেয়া হয়েছিলে ? প্রশান্ত বলল। কি আশ্চর্য্য এখনও যেন আমার কানে বাজছে। আলেয়া জীবনে বহুনারীর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। কিন্তু তোমার মত কাউকে দেখিনি। প্রথম যৌবনের উন্মাদনায় বারী চেয়েছি, পেয়েছিও। নারীকে দেখেছি শুধু ভোগের সামগ্রীর মত। আজ ? আজ আমার সেই উন্মাদনা নেই। আজ নারীর কাছে আমার নানা দাবী। রাজ্য যা দিতে পারে না। পরাক্রম যা দিতে পারে না। প্রভূত্ব যা দিতে পারে না। অথচ যা না পেলে জীবন মরুভূমির মত শুস্ক হয়ে যায়। তাই-তাই আজ আমি চাই নারীর কাছে।

(চলবে———)।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।