অর্থনৈতিক উন্নয়ন-ই ছিল বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একটি অর্থনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন যাতে আপামর জনসাধারণ শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজব্যবস্থা পায়। তাই তো মানুষের জন্য মঙ্গল সাধনে ব্যাপৃত অর্থনৈতিক পরিকাঠামো তৈরির জন্য বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এই পরিকল্পনায় ছিল সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল পরিধায় মানুষের কল্যাণ। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের যে নির্বাচনী ইশতেহার ছিল সেখানে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছিল যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা যায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উৎসাহিত করা যায় এবং জনকল্যাণের লক্ষ্যে সর্বজনীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় ও উন্নয়নের ফল বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সমভাবে বণ্টিত হয়। দ্রুত মানুষের অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর ব্যাংক-বিমা, শিল্প-কলকারখানা জাতীয়করণ করেছিলেন, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুততার সঙ্গে ঢেলে সাজানো যায় এবং অর্থনৈতিক বিকাশকে মানবকল্যাণের কাজে লাগানো সম্ভব হয়।
বঙ্গবন্ধু সব সময় শ্রমজীবী, মেহনতী মানুষের কথা ভেবেছেন। কৃষিজীবীদের প্রতি তার ছিল সুগভীর ভালোবাসা। তিনি সব সময় চাইতেন ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত এবং নিরক্ষরতামুক্ত রাষ্ট্র গঠনের জন্য বলিষ্ঠ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে। তিনি অনুভব করেছিলেন কৃষি উন্নয়ন এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিকল্প নেই। এজন্য তিনি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, বাজার সম্প্রসারণ, কৃষিশিল্প ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষি জমির করও মওকুফ করেছিলেন। তিনি সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কর্মকান্ডের মাধ্যমে কৃষি শিক্ষা, গবেষণাকে বাস্তবমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শনের মূল কথা ছিল তিনি মানুষের মধ্যকার ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করবেন এবং মানুষকে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত করবেন। তিনি সম্পদের সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতা বিধানের প্রয়াস গ্রহণ করেছিলেন এবং উচ্চ ও নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করতে সচেষ্ট ছিলেন। পরসম্পদ লুণ্ঠনকারীদের প্রতি তার সহজাত ঘৃণা ছিল।
বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮) ঘোষণা করেন। এতে ৪৪৫৫ কোটি টাকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দুঃখজনক যে, বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পর পরবর্তী শাসকরা ইচ্ছা করেই প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অপতৎপরতা দেখান। অথচ প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি সুচারুরূপে বাস্তবায়ন করা গেলে তা দেশের মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনত।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।