এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে: মেজর হাফিজ
লালমোহনে ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলের নেতৃত্বে আ’লীগ অফিস ভাংচুর, আহত-২৫

ভোলার লালমোহনের লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ছেলে জুলহাসের নেতৃত্বে হামলায় অন্তত ২৫ জনকে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও এমপি শাওনের ছবি সহ অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের মাদরাসা বাজারে ৩১ জুলাই রাত অনুমান ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ১১জন লালমোহন হাসপাতালে এবং ১জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
জানা যায় লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আঃ রহিম। আঃ রহিম জানান, আমার ছেলে জোবায়ের স্থাণীয় মাদ্রাসার ২০২১ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী। গত ৩১ জুলাই ২০২১ ইং শনিবার বিকালে জোবায়ের মাদ্রাসা থেকে স্থানীয় মাদ্রাসা বাজারে আসার পথে স্থানীয় শামীম এর সাথে তার দেখা হয়। শামীম জোবায়েরকে দেখে বলে তোর সাথে কথা আছে। কথা বলার জন্য শামীম জোবায়েরকে বাজারের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে বোরহানউদ্দিনের শামীম এসে জোবায়েরকে ফেইজবুকে বিভিন্ন লেখার ব্যাপারে কপিয়ত চান। ইউপি মেম্বার আঃ রহিম ঘটনা শোনার পর শামীমকে মোবাইলে এই ঘটনার কারন জিজ্ঞাসা করেন এবং বহিরাগত বলেন। এতে স্থানীয় শামীম ও বোরহানউদ্দিনের শামীমের একত্রিত হয়ে স্থানীয় টোকাই আরিফকে সাথে নিয়ে এশার নামাজের পর মাদ্রাসা বাজারে প্রায় এক দেড়শ লোক নিয়ে মিছিল করে ও উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তা বলে। তাদের মিছিল ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরন দেখে আমি তৎক্ষনাত লালমোহন থানার ওসিকে ফোন করে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তিনি এসআই সেলিম, এসআই অহিদসহ আরও একজনকে পাঠায়। মিছিলের মধ্যে হঠাৎ লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ছেলে জুলহাস ও তার ভগ্নিপতি এসে উপস্থিত হন। তারা এসেই উত্তেজিত হয়ে বলে ধর শালাগরে ধর। এ কথা বলার সাথে সাথে শামীম ও আরিফের নেতৃত্বে মিছিলকারীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রনিয়ে পুলিশের সামনে আওয়ামীলীগ অফিস আক্রমন করে। অফিসে আমিসহ স্থানীয় অনেক লোকজন অফিসে বসা ছিল। তারা আমাকে আক্রমন করতে চেয়েছিল কিন্তু পুলিশের কারনে আমাকে আক্রমন করতে পারেনাই। অফিস ভাংচুরসহ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও এমপি শাওনের ছবি ভাংচুর করে তারা এবং আমার মটরসাইকেসহ আরও ২টি মটরসাইকেল ভাংচুর করে। আওয়ামীলীগ অফিসে থাকা প্রায় ২৫ জনকে তারা কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তারা অফিস ভাংচুর করার পর তাদের অপরাধ ঢাকতে নিজেরা নিজেদের অফিস ভাংচুরের নাটক করে। এরপর পুলিশগণ রাতে আমাকে আমার বাড়ীতে দিয়ে আসেন। সন্ত্রাসীচক্র রাত ১২টার সময় আমার বাড়ীতে আসে আমাকে মারার জন্য। আমি ডাক চিৎকার করলে এলাকার মহিলা আমাকে বাচাঁনোর জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসলে তারা চলে যায়। তখন আমার বাড়ীতে এসআই শক্তিপদসহ আরও ৭/৮ জন পুলিশ ও ২/৩জন সাংবাদিক ঘটনা সম্পর্কে আমার কাছ থেকে জানেন। আহতদের মধ্যে ১১জন লালমোহন হাসপাতালে এবং ১জন ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় রয়েছে। মেম্বার আবদুর রহিম জানান, আমি নিজেও অসুস্থ এবং আহতদের বর্তমানে চিকিৎসা চলছে। আহতরা সুস্থ হলে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। রহিম মেম্বার আরও জানান জুলহাসগং রা নিজেদের অফিস ভাংচুরের নাটক করে শুনেছি তারা পাশ্ববর্তী চরফ্যাশন হাসপাতালে অসুস্থতার ভান করে ভর্তি হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের ছেলে জুলহাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। মাদ্রাসা বাজার হয়ে আমার নিজ বাড়ীতে যাওয়ার সময় মারামারি দেখেছি। আমি কোন ভাবেই এর সাথে জড়িন নয়।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, ঘটনা সম্পর্কে কেহ কোন অভিযোগ প্রদান করেনি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
