তজুমদ্দিনের মেঘনায় ইলিশের আকাল : হতাশ জেলেরা

ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনায় ভরা মৌসুমেও চলছে ইলিশের আকাল। রাত-দিন মেঘনায় জাল ফেলে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশা হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে। স্লুইজ ঘাট, চৌমহনী ঘাট, কাটাখালীসহ উপজেলার কয়েকটি মাছ ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, তেমন ক্রেতা বিক্রেতা নেই, অনেকটাই নীরবতা বিরাজ করছে ঘাটগুলো। উপজেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া তথ্যে- এ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৫শ ৫৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এদের অধিকাংশ জেলের আয়ের অন্যতম উৎস্য হচ্ছে নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করা।
সামছুউদ্দিন মাঝি, মফিজ মাঝি, ইয়াছিন মাঝিসহ একাদিক জেলের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, মার্চ এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা ঘরে বসেই বেকারত্ব সময় কাটিয়েছেন। টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামলেও যে পরিমান মাছ ধরা পড়ছে তাতে লাভের পরিবর্তে গুনতে হচ্ছে লোকসান। ফলে মাছ না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে এ অঞ্চলের মৎস্য পেশায় জড়িত জেলে পরিবারগুলো। ইতোমধ্যে কোন কোন জেলে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা যাওয়ার কথাও জানান তারা।

স্লুইজ ঘাটে আলমগীর মাঝি বলেন, প্রতি নৌকায় ৭ থেকে ৮ জন লোক থাকে। রাতে এবং দিনে দুইবার নদীতে জাল ফেলে। প্রতিবারে খরচ হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। এতে ৫ থেকে ৭ টির বেশি মাছ পাওয়া যায় না। মাছ বিক্রি করে যা পাই তাতে লাভের পরিবর্তে লোকসান হয়।
স্লুইজ ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হাসেম মহাজন বলেন, প্রতিদিন যে পরিমান মাছ পাওয়া যায় তাতে ২শ টাকাও আয় হয় না। ভরা এ মৌসুমে মাছ না পেয়ে চরম দুর্দিনে রয়েছে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আমির হোসেন বলেন, ইলিশ হলো গভীর পানির মাছ। একদিকে জলবায়ুর পরিবর্তন অন্যদিকে নদীতে ঘন ঘন চর পড়ার কারণে মাছ চলাচলে বাধা এবং মাছ বংশ বিস্তারের জন্য অনূকূল পরিবেশ না পাওয়ার কারণে ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও জেলেদের জালে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না।
