এ কেমন পাষন্ড বাবা ॥ গরম পানি ঢেলে পোড়ালেন নিজ মেয়ের শরীর (!)
(বাবার পাষবিক নির্যাতনের শিকার অবুশ শিশু। ইনসেটে অভিযুক্ত বাবা)

টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলা হবিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা: কল্পনা আক্তারের মেয়ে সিনথিয়াকে তার পাষন্ড পিতা গায়ে গরম পানি ঢেলে দিয়ে পুড়িয়েছে। কারণ, তার দ্বিতীয় বিয়ে, প্রথম স্ত্রী (কল্পনা আক্তার) মেনে না নেওয়া এবং প্রতিনিয়ত এসব বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হওয়ায়। মেয়েটির বয়স সাড়ে তিন বছর। এ রকম বুঝি বাবা হয়। কতটা ভয়ঙ্কর হলে এমন কাজ করতে পারে পিতা ! পিতা সম্রাট এখন পলাতক আছে।
ঘটনাবলী ২৯ জুন কল্পনা আক্তারের বাসা থেকে তার শিশু সন্তান সিনথিয়াকে নিয়ে যায় সম্রাট (পিতা)। কল্পনা আক্তার নিজেও যেতে চাইলে সে বলে, আমি মেসে থাকি তোমাকে নেওয়া যাবে না। সিনথিয়াকে নিয়ে যায়। মা রাজী হয়, কিন্তু এরপর কল্পনা আক্তারও পিছু নেয়। তাতে কোন লাভ হয় না। ভিন্ন পথে সিনথিয়াকে নিয়ে যায়। এরপর ৩০জুন সিনথিয়াকে তার মায়ের কাছে নিয়ে আসে এবং ছোট বাচ্চা (আড়াই বছর) ছোঁয়াকে নিয়ে যেতে চায় ; এতে কল্পনা রাজি হয় না। সিনথিয়া তখনও বাসার গেটের বাইরে দাঁড়িয়েছিল। তার মা তাকে ডেকে রুমে নিতে গিয়ে দেখে, মেয়ের শরীরের ভয়ঙ্কর অবস্থা। সাথে সাথে কান্নাকাটি শুরু করে ইতোমধ্যে পিতা সম্রাট পালিয়ে যায়। এরপর তারা থানায় যায়, থানায়ও কেস নেয়নি। বাচ্চার অবস্থা ক্রিটিক্যাল দেখে কালিয়াকৈ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে থানায় একটি মামলা হয়। যে মামলাটিও অসম্পূর্ণ।
সিনথিয়ার খালা খাদিজা বেগম জানান, তিনি ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার ছোট ভাগ্নেটার অবস্থা দেখার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি নিজেই দৌড়াদৌড়ি করে সব করিয়েছেন। এখন তিনি ওই পাষ- পিতা সম্রাটের উপযুক্ত বিচার চান। শিশু নির্যাতনের যে আইন আছে তার সত্যিকারের প্রয়োগ তিনিই দেখতে চান।
ঘটনা জানতে কল্পনা আক্তার কে কল করা হয়। তিনি তখন ইউএনএর অফিসে গিয়েছেন বলে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সিনথীয়ার নানী খুব আকুতির স্বরে বলেন, আপনারা দেখেন আমার ছোট্ট নাতনিটার কি অবস্থা করছে। এর জন্য যা করা দরকার করেন। এখন পোড়া জায়গায় মাংস বাইর হইয়া গেছে, সারাক্ষণ কান্দে; আমাদের তো টেহা পয়সাও নাই, কিছুই করার নাই। এরপর তিনি সবিস্তারের ঘটনার বর্ণনা জানান। সম্রাটের বাড়িও টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানায়। সে এখন পলাতক রয়েছে। তার পরিবার কিছুটা আপোষ (রফা-দফার) চেষ্টা চালাচ্ছে। সিনথিয়ার মা কল্পনা আক্তার খেয়ে না খেয়ে এক অফিস থেকে আরেক অফিসে দৌড়াচ্ছেন সুষ্ঠু বিচারের আশায়।
