পাঠক না থাকলে, পত্রিকা বিক্রি করমু কার কাছে

ভোলায় চলছে কঠোর লকডাউন। শহরের সব দোকানপাট বন্ধ। ব্যবসায়ীরা দোকান খোলেননি। মানুষ আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) ঘর থেকে বের হয়নি। তাই, পত্রিকার পাঠকও নেই। পাঠক না থাকলে পত্রিকা বিক্রি করমু কার কাছে? এমন প্রশ্নই ছু্ঁড়ে দিলেন ভোলা সদর উপজেলার একজন পত্রিকার হকার মোঃ কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার সদর রোডে পত্রিকা বিক্রি করার সময় সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পত্রিকা হকার কামাল এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, পত্রিকা বিক্রি করে যা কমিশন পাই তা দিয়াই আমাগো সংসার চলে।
আমরা গরিব মানুষ। আমাগোরে কেউ কিচ্ছু দেয়না। করোনাকালীন এ সময়ে আমাগো সংসার খুব কষ্টে চলছে। হকার কামাল করোনাকালীন সময়ে পত্রিকার হকারদের জন্য সরকার থেকে সহযোগিতা চান।
প্রায় একই কথা জানিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পত্রিকার হকার মোঃ কামাল হাওলাদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন-
সরকারের ঘোষণা, লকডাউনের মধ্যে খোলা থাকবে সকল সংবাদপত্র গণমাধ্যম। সংবাদপত্র খোলা রেখে লাভ কি যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। যারা পত্রিকা কিনে, লকডাউনে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সংবাদপত্র বিপণন কারীরা। কারণ লকডাউনে আমরা কারো কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাইনি। তাই আমরা সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাইতেছি।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলা সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোখলেছুর রহমান সুমন ভোলার বাণীকে বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। তিনি বলেন, এক নম্বরে সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ। দু নম্বরে স্কুল-কলেজ বন্ধ। তিন নম্বরে দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় মানুষ বের হতে পারে না। আমরা পত্রিকা লইয়া কার ধারে যামু। তিনি আরও বলেন, এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে আমাগেোরে পঁচিশ শো টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। আমরা ভোলা সদরের ইউএনও’র কাছে ছবিসহ দরখাস্তও করেছিলাম। কিন্তু আজো কোন টাকা পাইনি। তিনি সরকারের কাছে ভোলার সব হকারদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা দাবি করেন।
