এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে: মেজর হাফিজ
শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-১৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : বঙ্গবন্ধুকে ২৫ শে মার্চ রাতেই করাচী বন্দী করে নিয়ে গেল। আমি সেদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী সাহেবের বাসায় গিয়েছিলাম। মনসুর আলী সাহেব আমাকে বললেন, রশীদ সাহেব কোথায় ? আমি বললাম, উনি তো মাস খানেক আগেই ভোলায় চলে গেছেন। ভোলায় গিয়েও থেমে থাকিনি, ভোলায় মহিলা আওয়ামীলীগ গঠন করে মেয়েদের রাইফেল ট্রেনিং দেই, হাসপাতালে নার্সিং ট্রেনিং দেই।
নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে হাজার হাজার, লাখো লাখে, ছেলে বঙ্গবন্ধুর আদেশে ভারত গিয়ে, তদানিন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির কাছে আশ্রয় ভিক্ষা করে ওয়েষ্ট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ট্রেনিং প্রাপ্ত হবার জন্য প্রার্থনা জানাল। জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে আমাদের বাংলাদেশের ছেলেরা ট্রেনিং প্রাপ্ত হল ও দারুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরী হল। আমরা গোপনে গোপনে সন্ধ্যাবেলা রেডিও-তে কাছে কান পেতে খোজ খবর পেতাম। বুকটা গর্বে আনন্দে দুলে উঠত নিজ দেশের ছেলেদের কৃতিত্বে। ২৫ শে মার্চ মঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে করাচীর কারাগারে আটক রাখল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী পরিষদ, সদস্যরা সকলেই ভারতে আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচাতে লাগল। আমিও শিশু মেয়েটিকে নিয়ে সেই ২৫ শে মার্চ ভোলায় গেলাম। ভাগ্যিস মনসুর আলী সাহেবের দেখা হওয়াতে কিছুটা আঁচ পেলাম। উনি বললেন, আস্তে করে বললেন, আমরা আর থাকছি না, শীঘ্রই চলে যান। আমি বললাম বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দেবার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী সাহেবের সাথে আমার স্বামীর পাবনায় মেজিষ্ট্রেট থাকাকালীন বেশ উনার বাসায় আসা যাওয়া ও গভীর আলাপ ছিল। উনি তখন পাবনায় একজন আওয়ামীলীগের নেতৃস্থানীয় লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজ্ঞ ছিলেন।
ওনার কথামত ভোলায় সেদিনই রাতে পাড়ি জমিয়েছিলাম। বাবার বাসায় বসে বসে আমি আওয়ামীলীগ করি। বাবা যেন তেমন পছন্দ করেননি। বাবা বললেন, আমি মুসলিম লীগের লোক। তুই আমার বাসায় ও আমার বৈঠক খানায় বসে আওয়ামীলীগ করিস ? আমি বললাম, বাবা, ভিন্ন লোকের ভিন্ন মতবাদ। আপনি মুসলিম লীগ করেছেন বলে আমাকে তা করতে হবে ? আপনি যেটা পছন্দ করেন করেছেন, আমি যেটা ভালবাসি সেটা করবো। বাবা রেগে গিয়ে বললেন তুমি তো একজন বড় বক্তা তোমার সাথে কথা বলে লাভ নেই। আমি বাবার বাসা থেকে চলে গেলাম। এদিকে কর্নেল বিগ্রেডিয়াররা আমাকে খুজছে, কাঁহা খান বাহাদুর কা বেটি। আমি ওদের ভয়ে ভোলা থেকে আমার স্বামী ছেলেরাসহ চল্লিশ মাইল দূরে আত্মগোপন করে থাকলাম।
দূরে যাওয়ার আগে ভয়ে আতংকে বাবার কাছে গিয়ে আশ্রয় ভিক্ষা চেয়েছিলাম। বাবা বললেন, তুই দূরে গিয়ে গ্রামে কিংবা চর অঞ্চলে থাক, এখানে টাউন এলাকায় মিলিটারী, আমার বাসায় এলে আমি তোকে বাঁচাতে পারব না। খুব দুঃখ পেয়ে অনেক দূর চর অঞ্চলে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। মিলিটারীরা পীস কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে জিজ্ঞাসা করল, এখানে খান বাহাদুর সাহেবের মেয়ে আওয়ামীলীগ করে ও মেয়েদের রাইফেল ট্রেনিং দেয় ? পীস কমিটির চেয়ারম্যান আমার বাবারই একজন ভক্ত উকিল। সে বলল, খান মাহাদুরের মেয়ে মহিলা সমিতি করে সে একজন বয়স্ক মহিলা, তবু তারা বিশ্বাস করল না, আমার পিছনে লেগে থাকল। কোন মৌলভী সাহেব নাকি আমার নাম বলেছিল।
(চলবে——-)
