ভোলায় ছুটছে মানুষ, লঞ্চ, ফেরি, সি-ট্রাক ও সড়কে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হবে। ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে ভোলায় ছুটে আসছে ঘরমুখো মানুষ। যেন মানুষের ঢল নেমেছে। যেমনটা দেখা গেছে ঈদে। কেউ লঞ্চে উঠে আবার কেউবা সড়ক পথে ভোলার নিজ গ্রামে ছুটে আসছে তারা। এর মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ আসছে লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরী ঘাট হয়ে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট দিয়ে। এ অবস্থায় লঞ্চে, সি-ট্রাকে, ফেরিতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেক যাত্রী লঞ্চ না পেয়ে বিকল্প পথে আসায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। এ সময় অনেক যাত্রী সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনার সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কাও রয়েছে। (২৭ জুন) রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এমন চিত্র দেখা গেছে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাট ও বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালে।
সরেজমিনে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বেশিরভাগ যাত্রী ঘরমুখো। সড়কে গণপরিবহন কম থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি, ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে যাত্রীরা গন্তব্যের পথে রওনা হচ্ছেন। কেউবা পিক-আপে করে রওনা হয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ট্রাফিকের দায়িত্বে নিয়োজিত সালাউদ্দিন বলেন, লকডাউনের ঘোষণায় রোববার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রচুর যাত্রী ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসটার্মিনাল থেকে দক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, মনপুরা, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানে যাচ্ছেন। প্রতিটা বাসেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। দুপুর ১টার দিকে দৌলতখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিবি আয়শা নামে একজন যাত্রী বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তাফা কামাল বাসটার্মিনালে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি জানান, তার বাড়ি দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। গত এক সপ্তাহ আগে ঢাকা গেছেন বেড়াতে। লকডাউনের খবরে নিজ এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফেরি না পেয়ে সিট্রাকে উঠে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত এসেছেন। ফেরি পেলে ভাড়া হয়তো ১৫০ টাকায় আসা যেতো। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসটার্মিনালে আসেন। উদ্দেশ্য বাসে উঠে দৌলতখানের নিজ গ্রামে যাবেন। তবে, সিট্রাকে উপচেপড়া ভিড় আর অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আসায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।
বাসটার্মিনালের কাউন্টারে অবস্থিত জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহি কমিটির সদস্য মোঃ আজাদ ও বাস মালিক মোঃ নিরব পঞ্চায়েত বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। লকডাউনের খবরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক যাত্রী দক্ষিণের উপজেলায় গেছেন। তারা আরও বলেন, সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের ৪২ টি যাত্রীবাহী বাস চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এতে করে অন্ততঃ দেড় হাজার যাত্রী বাসে উঠে দক্ষিণের বিভিন্ন উপজেলায় পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু এর আগে তারা এ পর্যন্ত ৭০০ থেকে ৮০০ যাত্রী যাত্রীবাহী বাসে উঠে চরফ্যাশন যেতো।
ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তাফা কামাল বাসটার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা গেছে, উপচেপড়া ভিড়ের কারনে সামাজিক দূরত্ব মানছে না অনেকে। অনেক যাত্রী মুখে মাস্কও পড়েননি। এতে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।