সর্বশেষঃ

শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-১০

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

 (গত পর্বের পর) : প্রধানমন্ত্রী বি.ডি.আর, পুলিশ, আর মিলিটারীর সহায়তায় বহু ছেলেকে হত ও আহত করে মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে বাংলা একাডেমীতে এলেন। প্রত্যেক বৎসর ১লা ফেব্রুয়ারী এই বই মেলার উদ্বোধনে ভিতরে, বাইরে, অনেক বইয়ের সমারোহ ও হরেক রকম চুরি, ফিতা, বেলু, দাও, বঠি, ছুরি, কাচি, নানা বিখ্যাত গায়ক, গায়িকার গানের ক্যাসেটের দোকানের সমারোহ হয়। হাজার হাজার নর-নারী, যুবক-যুবতীর আবির্ভাব হয়। মাটির ফুলের টব, মাটির নতুন ডিজাইনের হাড়ি। আর এবার কোন জনমানবের সাড়া শব্দ নেই। যেন এক মৃত শ্বশ্মান পুরী। এমনকি বাংলা একাডেমীর সদস্য-সদস্যা, জীবন সদস্যরাও উপস্থিত থাকেন নি। বি.ডি.আর, পুলিশ আর মিলিটারীরা কাঁধে রাইফেল ঝুলিয়ে ঠ্যাং ছড়িয়ে দর্শকের চেয়াওে বসে তার ভাষণ শুনেছেন। মুখে ছিল তার আত্মগরিমার হাসি। শিফনের পাতলা শাড়ীতে তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শোভা পাচ্ছিল। চুল ফুলিয়ে শ্যাম্পু করে তার শোভা বর্ধন করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। আর বাহিরে, গোলা-গুলির আওয়াজে কান ফেটে যাচ্ছিল। ছেলেরা গুলি খেয়ে আর্তনাদ করছে, তাদের আর্তনামে আকাশ-বাতাশ ব্যথিত।
প্রধানমন্ত্রী একজন মা হয়ে, সন্তানের মা হয়ে, কেমন করে এতগুলো ছেলেকে গুলি করে তাদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত করে বাংলা একাডেমীতে গেলেন, ওনি ক্ষমতার এত অপব্যবহার করলেন। পনেরো জানুয়ারী রেজার মধ্যে ওনি জনসাধারণের হাজার নিষেধ সত্ত্বেও নির্বাচন করলেন। নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য বুদ্ধিজীবী, গায়ক, গায়িকা, কবি, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের হাজার বাধা উপেক্ষা করলেন। কত প্রহসন চলল, কত অনুনয়-বিনয় হল। কত শিল্পী, গায়ক, গায়িকার অনুনয়-বিনয় রাখলেন রোজার মধ্যে নির্বাচন বন্ধ করার জন্য। গ্রামে-গঞ্জে, থানায়-মহকুমায়, শাখা-প্রশাখায়, নগরে-মহানগওে, কোন জোটের বাক্স গিয়ে পৌঁছাতে পারেনি। ভোট কেন্দ্রে কোন প্রিজাইডিং অফিসারও যায়নি। শুনেছি ভোটের বাক্স যাওয়া মাত্রই গ্রামের লোকেরা কুপুরের পানির মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে। ছেলেরা প্রিজাইডিং অফিসারদের বলেছে, চাচা, বাড়ী গিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমান।
২৮ শে জানুয়ারী আমাদের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৭টায় এক ভাষণ পিশ করলেন। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য দেশবাসীকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানালেন। আরও বললেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান, মরহুম ভাসানী ও শহীদ জিয়ার কথা। জিয়া কখন শহীদ হয়েছিলেন ? সে মরহুম জিয়া না বলে শহীদ জিয়া বললেন। এত বড় মিথ্যা কথা বলা দেশবাসীর কাছে প্রবঞ্চনাকারী ও শঠ বলে পরিগনিত হলেন।

(বলবে————)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।