সর্বশেষঃ

শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-০৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন) :

(গত পর্বের পর) : বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতার জন্য যে ব্যক্তি সরা জীবন উল্কার মত ছুটে বেড়িয়েছেন, সেই বঙ্গবন্ধুকে, শেখ মুজিবকে এইরূপ আচরণ বাংলার জনগণ বরদাস্ত করতে চায়নি। আওয়ামীলীগ আন্দোলন করেছে, সভা সমিতি করেছে, কাগজে-কাগজে, সম্পাদকীয় মন্তব্যে কম্যান্ড করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবসে টিভি-রেডিওতেও কোন ঘোষণা করেনি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সেনাবাহিনীর এত দ্বিধাকার্পন্য, সেনাবাহিনীর নয়, বিএনপির। সেনাবাহিনীরা আমাদের ছেলে, আমাদের বাংলাদেশের লোক। তারা আমাদের দ্বারাই পরিচালিত। তারা চাকুরী করে, রাজনীতির কঠিন চক্রে পড়ে তারাও হিমসিম খেয়ে যায়।
এলেন মেজর জেনারেল এরশাদ। তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতিকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও মত পরিচালিত করেছিলেন। তার রাজনীতিতে কু-করা হয়নি। তিনি হত্যার রাজনীতি করেন নি। মায়া-মমতা, ¯েœহ-ভালবাসা দিয়ে সকলের মন জয় করতে চেষ্টা করেছেন। পথ-ঘাট, স্কুল-কলেজের অনেক উন্নতি করেছেন। বিশেষতঃ সাহিত্য সমাজের, সাহিত্য কেন্দ্রের, সাহিত্য পরিষদেও অনেক উন্নতির প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি নিজেও একজন কবি। অনেক অনেক সাহিত্যিক ও সাহিত্যিকা তার দ্বারা অনেক প্রশংসা ও টাকা পয়সা উপহার পেয়েছেন। বাংলার আনাচে-কানাচে, পথ হারা, পথ ভোলা মানুষদের, পথ ঘাটের অনাথ এতিমদের কুঁড়িয়ে এনে পথকলি নাম দিয়ে কাজের বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। তাদের ভালোবাসতেন, দয়া মায়া দাক্ষিণ্য দিয়ে তাদের পদমর্যাদায় ভূষিত করেছেন।
তিনিও জাতীয় পার্টির নাম দিয়ে রাজনীতিতে এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছেন। গ্রামে-গঞ্জে, নগরে-পল্লীতে, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন। বিশেষতঃ জেলায় মহকুমায় রাস্তাঘাট অনেক উন্নতি লাভ করেছে। পথহারাদের জন্য তার হৃদয় ব্যকুলিত হত। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা দু’বেলা দু’মুটো ভাতের জন্য পথের ইট পাথর ভাঙ্গার কাজ করে হাত গুলি ক্ষত-বিক্ষত করেছে। এরশাদ সাহেব তাদের ঘুরে ঘুরে দেখেছেন, ক্ষত-বিক্ষত হাতগুলি ধরে ধরে দেখেছেন, কত মায়া মমতা ¯েœহের কি আর্তি ছিল, সে যে না দেখেছে সে তো বিশ্বাস করবে না। তিনিও একজন মেজর জেনারেল ছিল। সৈনিকের পোষাকে সে চলালফেরা করত। কঠিন দৃঢ়তার ছাপ ছিল তার চোখেমুখে। শেষ পর্যন্ত তাকেও তার প্রেসিডেন্টের গদি থেকে জনগণের আন্দোলনে সরে দাঁড়াতে হল।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।