শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-০৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : আর আমাদের মরহুম মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় কু হয়ে মরহুম মেজর জেনারেল খালেদ মোশারেফ মারা গেছেন। তার লাশ তিন দিন সি.এম.এইচ প্রাঙ্গনে পড়েছিল। লেখা ছিল, নিমক হারামের কি পরিনতি। জানি না কি নিমক হারামি তিনি করেছিলেন। মরহুম জিয়া সাহেব বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে পদার্পণ করলেন সগৌরবে তার পর বঙ্গবন্ধুর হত্যার নায়কদের এক এক জনকে বড় বড় পোষ্টের গদিতে বিদেশে প্রেরণ করলেন। আর নিজে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসলেন আর আর আরম্ভ হল সৈনিক হত্যা, মানুষ হত্যা।
এরকম আঠার বার কু হয়ে কত লোকের ছেলে, জামাই যে কু’য়ের নাম দিয়ে নিধন হয়েছে আজ আমি তা লিখে শেষ করতে পারব না। রাজনীতির তিনি কি জানেন, আমি জানি না। তিনি স্কুলে-কলেজ বানিয়েছেন, কিছু রাস্তা ঘাটও বানিয়েছিলেন। তা একটা কিছু ত করতেই হবে।
রাজনীতি বড় শক্ত জিনিস। রাজনীতি শৈশবকাল থেকে করেও একজন মানুষ পাকা রাজনীতিবিদ হতে পারে না। যাকে বলে ঝানু রাজনীতিবিদ আমার বয়স অনুপাতে আমি যা দেখেছি, তা লিখে গেলাম। যার বংশধরগণ সব চাকুরীজীবী বা কেউবা আর্মির উচ্চ পদের অধিকারী, রাজনীতির নামগন্ধও তার ম্যামিলির মধ্যে নেই। সে লোকটি ক্ষমতার লোভে এসে রাজনীতির নামাবলি গায়ে গলায় ঝুলিয়ে দিলেন।
শেখ সাহেবের হত্যার পর তার সব নাম মুছে দিয়ে তিনি বি.এন.পি. নামে এক রাজনীতিক সংগঠন করলেন। মীর জাফরের দল, তার দলে এসে ভিড় করল ক্ষমতার লোভে। ক্ষমতা লোভীরা চলল দুর্দান্ত গতিতে, নগরে, বন্দরে, শহরে, মহানগরে, গ্রামে-গঞ্জে, থানায়, মহকুমায় বি.এন.পি’র রাজনীতির খেলা। মহিলা সংস্থা, মহিলা বি.এন.পি. গঠিত হল। মহকুমায়, জেলায় এসেমব্লিতে, তার প্রতাপে পার্লামেন্টে সংবিধান রচিত হল বঙ্গবন্ধুর হত্যার কোন বিচার হবে না। ইনডেমনিটি আইন। পৃথিবীর কোন দেশে এরকম আইন আছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশে বা সব দেশেই চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, খুন, সব কিছুরই বিচার আইনমাফিক হয়।
তুমুল আন্দোলন দেশে। আওয়ামীলীগ বার বার এই সংবিধানের আইন বাতিল করার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার কেন বিচার হবে না ? দীর্ঘ ২১ বছর এই আন্দোলন সভা, সমিতি, মিছিল চলল। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়া তার ক্ষমতা থাকাকালীন কু-র নামে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর জান নিয়ে ছিনি-মিনি করা হল। অতঃপর সেনাবাহিনীর আক্রমনে চিটাগাং সর্কিট হাউজে তার মৃত্যুর পরোয়ানা হাজির হল। তাকে ব্রাশ ফায়ারে শেষ করে দিল। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়া কিছু কিছু ভাল কাজ করেছিলেন বটে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর। সবচেয়ে খারাপ কাজ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের সাহায্য করে। আর ইনডেমনিটি আইন সংবিধানে রচিত করে। জিয়া বঙ্গবন্ধুর একটি ফটোও রাখতে দেননি। বাংলার আনাচে, কানাচে, অফিসে, আদালতে, কোর্ট-কাচারীতে বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি ছিল না।
(চলবে——-)।
