সর্বশেষঃ

শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-০৫

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন) : 

(গত পর্বের পর) : কেন তারা সেদিন চুপ করে বসেছিল। শেখ মুজিবের তাজা লাল রক্তের উপর পা রেখে মোস্তাক দেশের প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করল। মীর জাফরের কথা সিরাজের নাটকে শুনেছি। সেদিন কত মীর জাফরের মুখ আমি সোনার বাংলায় দেখেছি। আজও দেখছি, আরও দেখব। হে মহাকাল, আমাকে আর দেখিও না এই রাজনীতির ছলায় কলায় কওয়ায় এই অভিনয়কারীদের মুখ।
আওয়ামীলীগের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঢাকায় তখন অবস্থান করেছিলেন। জানি না আজ মনে হয় বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবারে হত্যার পর মনসুর আলী, নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, তাজউদ্দিন এই চার নেতাকে কেন লুকিয়ে রাখল না ? বা তারা কেন আত্মগোপন করে থাকলেন না ? ষড়যন্ত্রকারীরা এই চার নেতাকে জেলে পুরে কেন এক সময় গুলি করে মেরে রেখে এসেছিল।
মনসুর আলী ছিলেন অতি ন¤্র, বিনয়ী, ভদ্র ও এক জ্ঞানের প্রদীপ। বঙ্গবন্ধু তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দিয়েছিলেন। তার যে কত জ্ঞান ছিল, ঝানু রাজনীতিবিদ ও লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজ্ঞ, এক জ্ঞানের রাজনীতির জ্ঞান সমুদ্র। তাজউদ্দিন এক জ্ঞানের বটবৃক্ষ। জ্ঞানের প্রতীক। তিনিই মুজিবগরে স্বাধীন বাংলা সরকার প্রতিষ্ঠা করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন এক সীমাহীন রাজনীতির জ্ঞান সাগর। বঙ্গবন্ধু তাকে ভালবাসতেন ও বিশ্বাস করতেন।
কামরুজ্জামান একজন বড় রাজনীতির লোক ছিলেন। রাজনীতির প্রখর বুদ্ধিতে বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস রাখতেন। এই চার জন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন নেতাও যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে বাংলার ভাগ্যাকাশে নতুন সূর্যের উদয় হত। উদ্দেশ্যকারীরা, ষড়যন্ত্রকারীরা, তাদের নীল নকশা অনুযায়ী ও তাদের পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দিয়েছে। একেবারে সারা জীবনের তরে।
পৃথিবীতে কোন দেশে, কোন কালে এরকম নির্দয় হত্যাকান্ড হয়েছে কিনা আমরা শুনিনি। এরকম বঙ্গবন্ধুর মত একজন মহামানবকে স্ব-পরিবারে চিরতের লুপ্ত করে দিল। শেখ মনিকে আমি দেখেছি এক অল্প বয়স্ক তরুণ যুবক, তার চোখে-মুখে ছিল রাজনীতির এক চুম্বক। অতি সহজেই জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান রাজনীতির প্রজ্ঞা লোককে বা একজন একনিষ্ঠ কর্মীকে অনুভব করতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর ফ্যামিলির সকল লোককে আমি দেখেছি অসম্ভব বুদ্ধিসম্পন্ন ও জ্ঞানের শিখা।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।