জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৮২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : নয়ন রহমানের সংবর্ধনায় বক্তব্য : (বনলতা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত) : বনলতা সাহিত্য পরিষদের লেখিকাবৃন্দ ও উপস্থিত সুধী মন্ডলী। আপনারা এই বনলতায় নয়ন রহমানের সংবর্ধনা সভায় আমাকে কিছু কথা বলার সুযোগ দিয়ে আমাকে গৌরব দান করেছেন। সেজন্য আমি আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ও অভিনন্দন জানাই। নয়ন রহমানের সংবর্ধনায় তাকে যে কোনটা রেখে কোনটা বলে অভিভাষণ জ্ঞাপন করব, সে ভাষাও আমি হরিয়ে ফেলেছি। সে এত মহত্বের অধিকারী যে, তার স্তর আকাশ ছোঁয়া। নয়ন রহমান একজন সু-সাহিত্যিক ও সু-লেখিকা। তাঁর লেখার ক্ষমতা অদ্ভূত। তাঁর রচনার সম্ভার অলৌকিক প্রতিভার দাবী রাখে।
আজ পঁচিশ বছর তাঁর সাথে আমার পরিচয়। পরিচয় বললে ভুল হবে- তাঁর সাথে আমার আত্মার আত্মীয়। তাঁর কয়েক খানা বই আমি পড়ে দেখেছি। একবার পড়লে বার বার পড়তে ইচ্ছে করে। এমন লেখনি শক্তি যে, মানুষের মনকে বইর মধ্যে ধরে রাখতে পারে। বিশ^ রহমান তাকে দিয়েছেন অপরিসীম লেখার দক্ষতা, প্রতিভার প্রতিভা।
আরো দিয়েছেন অপরিসীম রূপ লাবন্যের অধিকার। এই পঁচিশটা বছর তাকে আমি বসন্তের আগমনী বন কুসুমের মত লালিত্য ও সুষমা মন্ডিত ভরা যৌবনা দেখেছি। একটু ম্লান হয়নি তার দেহ বল্লরী। আমি আর্শিবাদ করি তাঁর লেখনির অপরিসীম প্রতিভা ও অনুরাগের প্রতি। সে বাংলাদেশের বুকে শ্রেষ্ঠ লেখিকা হিসেবে বিরাজ লাভ করুন।
এই বনলতা সাহিত্য পরিষদের নামটা কে রেখেছেন তা আমার জানার খুব কৌতুহল হচ্ছে। নিশ্চয়ই সে একজন সাহিত্য প্রেমী মন মাধূর্যের লালিত্য সুষমায় মন্ডিত। আমি বনলতা নাম শুনে প্রেমে, ভাল বাসার আবেগে, আবেশে বনলাতা সেনের সাথে তাঁর কর্মের ভূয়সী প্রশংসা করছি।
আমরা পৃথিবীতে ক্ষণস্থায়ী আছি, থাকব। কিন্তু আমাদের সৃজনশীকর্ম চিরদিন অনন্তকাল ধরে আমাদের পক্ষে কথা বলে যাবে। তাই আমি বলব আমরা এমন কিছু সৃজনশীল কর্মের উদ্ভব ঘটাব যা সর্ব যুগে ও সর্বকালে জাতির উপকারে আসবে। ঠিক নয়ন রহমানের সাহিত্যকর্ম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। সর্ব শেষ আমি সকলকে সাহিত্য চর্চা আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

ফরিদ রহমানের সাহিত্য সংবর্ধনায় লেখিকার বক্তব্য
(বনলতা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত)

বনলতা সাহিত্য পরিষদের সুধী মন্ডলী, আছছালামু আলাইকুম। আপনারা আমাকে বনলতা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক ফরিদা রহমানের সাহিত্য সংবর্ধনায় কিছু বলার জন্য যে সুযোগ দান করেছেন তাতে আপনাদের বনলতা সাহিত্য পরিষদকে আমি আন্তরিক অভিন্দন ও অভিভাষণ জানাই। আমি জানি না ফরিদা রহমানের এই সংবর্ধনায় বক্তব্য দিয়ে আমি আপনাদের কতটুকু খুশি করতে পারব।
ফরিদা রহমানের সাথে আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার আন্দোলনের সময় আমি যখন মুক্তিযুদ্ধে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম তখন পরিচয় হয়। আজও আমার কানে বাজছে – এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। তোমাদের যার যা আছে তা নিয়ে শত্রুর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ো, এ দেশকে মুক্ত কর।
তখন ফরিদা রহমান তরণী বনের হরিণের চঞ্চল চপল পায়ে মহানগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত গণমিছিল জনসভায় যোগদানে ব্যস্ত ও ক্লান্ত ছিলেন। তাঁর মাঝে এত লেখনী ও লেখার সম্ভার ছিল তা জানার সময় আমার হয় নি। কারণ তখন প্রায় ১০০ জনের মত মেয়েকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণে প্রশিক্ষণে ব্যস্ত ছিলাম। কত কবি, কত সাহিত্যিক দেশের বুকে ঝাঁপিয়ে দেশকে রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।
আজ ফরিদা রহমানকে এই বনলতা সাহিত্য পরিষদের সভানেত্রী পদে অলংকৃত দেখে আমি আনন্দে গৌরবে দিশেহারা। এরাই দেশের সম্বল। নবজাগ্রত এই বাংলাদেশ এদের লেখার মাঝে সজীব ও সঞ্জীব হয়ে আনাগত যুগের পৃথিবীতে নতুন আশার আলো ফুটাবে। অনাগত সুপ্ত সৌর্য যেন এই লেখিকাদের দু’চোখের মাঝে উজ্জ্বল হয়ে আছে। এরা শ্রেষ্ঠ লেখিকা হয়ে বিরাজ হোক আকাশের নক্ষত্রের মত সুনীল আকাশে।
সেই অনাগত যুগের জন্য আমি দোয়া করি। আমি যখন থাকব না। তুমি থাকবে না, এখানের কেউ থাকবে না। পৃথিবীটা অন্য রকম হয়ে যাবে।
বনলতা সাহিত্য পরিষদ নাম যারা রেখেছেন তাদের প্রশংসা না করলেই নয়। এই বনলতায় এসে আবেগে, আবেশে, প্রেমে, ভালবাসায়, ভাললাগায় আমি যেন আরো কবি হয়ে যাচ্ছি। এ জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বনলতা সাহিত্য পরিষদের দীর্ঘায়ু কামনা করে বক্তব্য সমাপ্ত করলাম, ধন্যবাদ সকলকে।

(চলবে——)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।