জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৫৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন)
(গত সংখ্যার পর) : রাতের কুহেলি : শ্যামস্নিগ্ধ বর্ষার নব ঘনঘটা, অবিরাম বৃষ্টি হয়ে যে পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘরাশি উড়ে ছলছে দূর থেকে দূরান্তরে, দিন হতে দিগন্তরে, কোন বিরহিনীর বিরহ কাতরতা নিয়ে তরা উড়ে চলচে মেঘের কল্পলোকে। ‘জায়ী’ আকাশ পানে তাকিয়ে দেখছিল আর ভাবছিল পৃথিবীর এই অনন্তকালের অনন্ত লোকের কথা। এই বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ঋতু চক্র ঘুরে ঘুরে আসে, ঘুরে ঘুরে চলে যায়। মানুষের জীবনটাও তদ্রুপ। এত মান-সম্মান, প্রতিপত্তি, যশ, ঐশ্বর্য, যৌবন ধারাকে যারা জ্ঞান করে, তারপর হঠাৎ একদিন অলক্ষ্যে অগোচরে নিজের অজান্তে চলে অসীম অনন্তলোকে।
জায়ী, জায়ী, দরজায় মৃদু টোকা পড়ে। জায়ী চমকে উঠে। এগিয়ে দরজা খোলে। দেখে বৃষ্টি ভেজা গায়ে দরজায় মম দাঁড়িয়ে আছে। যেন কত অপরাধীর মত দু’টো অসহায় আঁখি মেলে ধরে তার পানে। জায়ী বলে এস, এস মম ভিতরে এস। মম ভিতরে আসে এ ঘরে, ওঘরে বেড়ায়। শোকেসে যে কত রকমারী খেলনা। তার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখে জায়ী এসে বলে, এ খেলনাগুলো কার মম ? মম বলে আমার। জায়ী শোকেস থেকে খেলনাগুলো বের করে চাবি দেয় কোনটা হামাগুড়ি দেয়, কোনটা দৌড়ে দৌড়ে ঘুরে বেড়ায়, কোনটা নাচে। এ রূপ বিভিন্ন রকমারী খেলনা। দেখে দেখে মমের সাধ মেটেনা আরো দেখতে ইচ্ছে করে। মোমের বয়ষ প্রায়ই ৩ বছর। ছোট পায়ে ছোট হেটে বেড়ায় চারদিক। বাড়ীতে চাচা, ফুফু, বড় ভাই, খাজা সাহেবের বাড়ীতে আসুক চায় না। এটা তবুও মম লুকিয়ে লুকিয়ে খাঁজা সাহেবের বাড়ী আসে। বড় ভাই চাচা, ফুফু ওরা জানতে পারলে শাস্তির আর অন্ত থাকে না।
বড় ভাইটা মমকে মেরে একদিন গলাটিপে ধরে ছিল, জিহ্বাটা অনেকখানি বের হয়ে গিয়েছিল। একবার মমের গায়ে আগুন লেগে মমের বুকের কিছু অংশ এবং চুল পুড়ে যায়। লোক মুখে শুনা যায় বড় ভাই নাকি সিগারেট খেয়ে সিগারেটের আগুন সহ ছুড়ে মেরেছে। মম ঘুমিয়ে ছিল সিগারেটের অংশ গিয়ে বালিশের কোনায় পড়ে মমের চুলে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনার এত বছর পূর্বে মমের বাবা-মা মারা গিয়াছে সে এক মর্মান্তিক ব্যাপার।
(চলবে———-)
