সুষ্ঠু তদন্তের দাবী

ভোলা ইলিশার রুজিনার মৃত্যু নিয়ে রহস্য।। ফয়সালা না করায় চাচা ফুফুকে জড়িয়ে কোর্টে মামলা

নিহত রুজিনার শ্বশুড় রুহুল আমিন, শ্বাশুড়ী নুরজাহান, চাচা হারুন,জাকির,ফুফু নাছিমা।।ছবি ভোলার বাণী

ভোলা সদর উপজেলার ২নং ইলিশা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের তিন সন্তানের জননী রুজিনার মৃত্যু নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে।
গত ২৪ নভেম্বর সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
ঘটনার দিন পুলিশ ও সাংবাদিকদের রুজিনার বাবা আবদুল হক বলেন, আমার মেয়ে পেট ব্যাথা ছিলো সেই ব্যাথার যন্ত্রনায় কিটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
রুজিনার বড় মেয়ে বলেন, আমার মায়ের মাথায় সমস্যা ছিলো, তাই মা ঔষুধ খেয়েছে, নিহতের স্বজনদের এমন বক্তব্য হলেও রুজিনার প্রতিবেশিরা জানান, স্বামী শাহাবুউদ্দিনের সাথে ঝগড়া করেই কিটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে রুজিনা।
স্ত্রী’র মৃত্যুর পরই পালিয়ে যান পাষণ্ড শাহাবুউদ্দিন।
এদিকে মৃত্যুর কয়েকদিন পর পাল্টে যায় রুজিনার বাবা আবদুল হকের কথা, মা জাহানারা বাদী হয়ে কোর্টে ৮ জনের বিরুদ্ধে করেন মামলা।
এদিকে মেয়ের লাশ দাফন না করতেই দফায় দফায় বাণিজ্য করতে চায় বাবা আবদুল হক।
কিন্তু রোজিনার স্বামী শাহাবুউদ্দিন পলাতক থাকায় কেউ সুরাহা করতে পারেনি।
স্থানীয় খোকন জানান, বিয়ের পর থেকেই শাহাবুউদ্দিন আলাদা সংসারে থাকেন, তার বাবা মার বাড়ীর কাছে নয়, শ্বশুড় বাড়ীর কাছেই ঘর বাড়ী করে বসবাস করছেন, শাহাবুউদ্দিনের বাবা একজন দিনমজুর কিন্তু রোজিনা মৃত্যুবরণ করেছেন শাহাবুউদ্দিনের সাথে ঝগড়া করে বিষপানে, তাহলে বাবা মা, চাচা, ফুফুদের কি অপরাধ? রোজিনার বাবার কথায় কোন রফাদফা না করার কারনেই অযথা মামলা দিয়েছে।
নিহত রোজিনার শ্বাশুড়ী নুরজাহান বলেন, আমার দেবরের মেয়ে বিয়ে করছে, আমার ছেলে, বিয়ের পর থেকেই আমার ছেলে বৌ তার শ্বশুড়ের বাড়ীর কাছে, ঘর করে থাকতেন, যেদিন মৃত্যুবরণ করেছে রোজিনা, সেদিন আমি ঢাকায় কিন্তু সেই মামলায় আমাকেসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে নাকি মামলা করেছে।
রোজিনার ফুফু নাছিমা বলেন,আমার স্বামী নাই, কোন রকম কাজকর্ম করে খাই, আর এই মামলায় আমাকেও আসামী করেছে, আমার কি দোষ? রোজিনার চাচা জাকির, চান্দু, হারুন বলেন, রোজিনা আমাদের ভাতিজি আর শাহাবুউদ্দিন ভাতিজা, আমরা শুনেছি শাহাবুউদ্দিন এর সাথে ঝগড়া করে বিষপান করেছে রোজিনা, আমরা ও শাহাবুউদ্দিনের শাস্তি চাই কিন্তু আমার ভাই আবদুল হক কি জন্য আমাদের আসামী করে তার স্ত্রী কে দিয়ে কোর্টে মামলা করেছে, আমাদের জানা নাই।
স্থানীয় জামাল, আব্বাস, ইব্রাহীম বলেন,রোজিনার বাবা অযথা কিছু টাকা নেওয়ার ধান্ধায় তার ভাই বোনদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কেনো এই নিরপরাধ মানুষদের আসামী করলো? আজ বিধবা মহিলা তার ঘর রেখে মামলার কথা শুনে বাহিরে বাহিরে থাকে, তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবী করেন।
নিহত রুজিনার বড় ভাই ইব্রাহীম বলেন,আমার বোন মারা যাওয়ার পর তারা বলেছে দুইলক্ষ টাকা দিবে সেই টাকা দিলে আর মামলা হতো না তবে এই ২ লক্ষ টাকা কিসের? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন এগুলো আমরা পাবো শাহাবুউদ্দিনের কাছ থেকে তবে এই টাকা পেলে কি আর মামলা করতেন না? এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, না টাকা দিয়ে একটি সমাধান করলে আর মামলা করতাম না।
রুজিনার ভাবি বলেন,শাহাবুউদ্দিন রুজিনার মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে তবে শাহাবুউদ্দিনের সাথে তখন কি তার ভাই, বাবা, চাচা কেউ ছিলো এমন প্রশ্ন করলে তিনি অস্বীকার করেন।
তাহলে শাহাবুউদ্দিন ছাড়া অন্যরা আসামী হলো কেনো? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শ্বশুড় শ্বাশুড়ী জানেন।
রুজিনার বাবা আবদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম মনে করেছি, তারা আমার সাথে একটি সমাধানে আসবে কিন্তু আসে নাই বিধায় মামলা করেছি তবে আপনার ভাই এবং বোন কে আসামী দিয়েছেন কেনো? এসময় তিনি হাসি দিয়ে বলেন এমনেই দিসি, সমাধান হইলে আপনাদের ও কিছু দিবো।
মামলার বাদী জাহানারা বেগম বলেন,একটা সমাধান হলে, মামলা উঠাইয়া আনুম, আমার দেবর, ননদ কে আসামী দিসি ফয়সালা করার জন্য।
ভোলা সদর থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, হত্যা না আত্মহত্যা রিপোর্ট আসলেই বলা যাবে, অযথা কাউকে আসামী করা হবে না আর কেউ জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।