মহান মুক্তিযুদ্ধ ॥ স্মৃতিময়-৭১, পর্ব-১

মাহাবুবুল আলম নিরব মোল্লা

পর্ব-১

একটি জাতির জীবনে স্বাধীনতার জন্য লড়াই, জাতরি জন্য মুক্তির জন্য যুদ্ধ করতে পারা এক মহান ও অন্যন্য ঘটনা। এর সাথে সংশ্লিট থাকতে পারা কোন ব্যক্তির জীবনে এক গৌরবজ্জ্বল অধ্যায়। আমার কৌশরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হতে পরা কাজ থেকে অনেক ইতিহাস প্রত্যেক্ষ করা সবচেয়ে গৌরবের ও সম্মানের অধ্যায়। এর সাথে জড়িয়ে আছে এক মহান আবেগপূর্ণ স্মৃতি, সংগ্রামের, গৌরবের, বিরত্তের, কষ্টের, আনন্দের এবং অনেক কিছু হারিয়ে অনেক প্রাপ্তির স্মৃতির।
আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাল্গ্ন থেকেই ভোলায় আমাদের পরিবার এর সাথে সংশ্লিষ্ট। ৬০ এবং ৭০ এর দশকে আমরা আমাদের বাসায় বঙ্গবন্ধু, ভাষনী, সোহরাওয়াদী সাহেবদের থেকে শুরু করে তৎকালীণ সময়ে অনেক জাতীয় নেতাদের দেখেছি। সাধারণ বেশ-ভুশার ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন জ্ঞানী, ত্যাগী এই সকল নেতাদের প্রতি আমাদের পরিবার এবং সমাজের বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা, সম্মান প্রদর্শন আমাদের মধ্যে তাদের প্রতি আগ্রহের জন্ম দেয়। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের ঢেউ আমাদের মফস্বল শহর ভোলাতেও ছুয়ে যায়। মাঝে মাঝে বেঁেজ উঠা সাইরেনের শব্দ, রাতের ব্লাক আউট এক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় জনমনে। ভারত বিরোধী সমাবেশ, ছাত্র জনতার মিছিল, লালবাহাদুর শাস্ত্রী’র (তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী) রক্ত চাই শ্লোগানের তেজ তার কুশপুত্তলীকা দাহ করা আমাদের মনজগতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমরা তখন থেকে রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।
এই যুদ্ধ পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের বৈশম্য প্রকট ভাবে দৃষ্টি গোচর হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু মুজিব ১৯৬৬ সালে জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা পেশ করেন।
সারাদেশে এই ৬ দফা নিয়ে ঘুরে বেড়ান আওয়ামী ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এবং রাজনীতির আকাশে এক নতুন দিগন্তের সুচনা করেন। শুরু হয় দমন পীড়ন, জেল ঝুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন। ফলশ্রুতিতে আগড়তোলা ষড়যন্ত্রের মামলার সুত্রপাত হয় এবং মুজিবসহ নেতাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয়। তাই রাজপথ উত্তাল হতে শুরু করে। এর দীর্ঘ পরিক্রমায় ১৯৬৯ সালে ছাত্র জনতার আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে এবং এক গণঅভূত্থানে পতন হয় সৈরশাসক আয়ুইব ও মোনায়েম খানের। কিন্তু থেমে যায় না মানুষের উদ্দিপন। চলতে থাকে মিছিল, সমাবেশ। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভোলায় বাংলাা স্কুল মাঠে গণসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, উন্মুক্ত মঞ্চে মানুষের মনে শোসনের বিরুদ্ধে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলে উঠে।
আমার কাকা সোলামান মোল্লা ভোলার আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন। আরেক চাচা চৌধুরী মোল্লা বাপ্তা ইউনিয়নের দীর্ঘ ৩০ বছরকাল চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজনীতি, মানুষ এবং ব্যবসা ছিল আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের বড় ভাইয়েরাও রাজনীতির পথে হাটা শুরু করেন। আমাদের বাসা তাই আওয়ামী রাজনীতির সুতিকাগার হয়ে উঠে।
প্রতিদিনের পত্রিকা ইত্তেফাক, সংবাদ, পূর্বদেশ পড়া, রাজনৈতিক বইপত্র পড়া আমাদের অভ্যাশে দাড়িয়ে যায়। ১৯৭১ সালে ভোলা মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন চাচাতো ভাই ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রী শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক পরবর্তিতে ফজলুল হক হল ও জুলজি ডিপাটমেন্টের ভিপি ছিলেন আরোক ভাই ওবায়দুল হক বাবুল মোল্লা। বাবুল মোল্লা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভোলা মুজিব বাহিনীরও কামান্ডার ছিলেন। কাজেই তখন থেকে আমাদের মধ্যে রাজনীতির চেতনার বীজ অঙ্গুরিত হয়। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। সরকারী হিসেবে মোতাবেকই ৩ লক্ষের অধিক লোক মারা যায়। পৃথিবীতে আজ কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে একসঙ্গে মাত্র কয়েকঘণ্টায় এত প্রাণহানির কথা জানা যায় নি। চারদিকে লক্ষ লক্ষ ক্ষুধার্ত মানুষ, হাজার হাজর গবাদী পশুর মৃতদেহ পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে, সে এক করুন মর্মান্তিক অবর্ননীয় অকল্পনীয় অবস্থা। গৃহহারা লক্ষ লক্ষ মানুষ, সহায় সম্বলহীন, অনাহারি, আহত স্বজন হারানোর বেদনায় মৃয়মান। অথচ পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের কোন খবর নাই। বঙ্গবন্ধু মুজিব, মাওলানা ভাসানীসহ দেশ-বিদেশের অনেক সাহায্য সংস্থা, মানব দরদি মানুষ, মানুষের কষ্ট দূর করতে সাহাহ্য করতে ছুটে আসে ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে। আমরা দল বেঁধে রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে বড় ভাইদের সাথে রিলিফ সংগ্রহ করি। আমাদের মধ্যে এক নতুন রাজনীতিক চেতনার আগুন ছড়িয়ে পরে।
এরপর জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামীলীগের ভূমি ধ্বস নিরঙ্কুশ বিজয়, শুরু হয় তালবাহানা। বাঙ্গালীদের প্রতি তাদের উদাসিনতা, বৈরিতা, অত্যাচার, দমন-পীড়ন গোটা জাতিকে বিক্ষুব্দ করে তোলে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষের অবিচল আস্থা মানুষকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে চলতে শুরু করে। অত্যাচারের তীব্রতা, নির্মমতা আরো বৃদ্ধি পায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের মিছিলে গুলিতে প্রতিদিন মানুষ মরতে থাকে। চলতে থাকে গ্রেফতার, শুরু হয় স্বাধীনতা অর্জনের কার্যক্রম। ৩’রা মার্চ জাতীয় সংসদ অধিবেশন বন্ধ করে দিলে শুরু হয় স্বাধীনতা অর্জনের কার্যক্রম। চলতে থাকে অসহযোগ আন্দোলন। কার্যত তখনই পাকিস্তানের মৃত্যু ঘটে। ৩’রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে স্বতন্ত্র বাংলাদেশে পতাকা উত্তোলন করে। সবকিছু বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই হচ্ছিল। ৭-ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এর প্রভাব ছড়িয়ে পরে সারাদেশের মত ভোলায়ও। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির সূচনা। এরপর সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং। আমি তখন কেবল ক্লাস নাইনে উঠেছি। ২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাকবাহিনী তাদের সমস্ত শক্তি নিয়ে ঢাকায় এবং বড় বড় বিভাগীয় শহরগুলিতে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। হত্যাযঙ্গে মেতে উঠে, চলতে থাকে বাঙ্গালী নিধন, শুরু হয় প্রতিরোধ।
২’রা মার্চ ভোলায় পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মজনু মোল্লা স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। শুরু হয় ছাত্রজনতার যুদ্ধ প্রস্তুতি। আমাদের বাড়ীর উঠানেও মেয়েদের ট্রেনিং শুরু হয়। প্রতিদিন মিছিল, বাংলা স্কুলের মাঠে জনসভা, গণসংগীত, মানুষকে ইসপাত কঠিক দৃঢ় করে তোলে।
আমাদের বন্ধু মহলের মধ্যে আমরা জিন্নাহ, কিরন, বাহালুল, বড় তরিক, মোস্তফা, আমির হোসেন বাচ্চু, আব্দুল কাদের, ডাক্তার নজরুল, রাজ্জাকসহ অনেকেই নানা রকম প্লান করতে থাকি। কি করে পাকবাহিনী ভোলায় এলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে। কিভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করা যায়, বোমা বানানো যায়, কোন কূল-কিনারা খুজে পাচ্ছিলাম না। বয়স কম হওয়ার কারণে আমাদেরকে বড়রা তাদের সাথে সম্পৃক্ত হতে দিচ্ছিল না। এ সময় আমার সাথে পরিচয় হয় স্বরূপকাঠীর নিজামের সাথে। নিজাম বলে তাদের দেশ থেকে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভারত যাচ্ছে। কেউ জীবন বাচানোর জন্য সরনার্থী হিসেবে, কেউ ট্রেনিং নিয়ে দেশে এসে যুদ্ধ করার মানষে। আমি চাচাতো ভাই বাহালুল সিদ্ধান্ত নেই আমরাও যাব ভারত এবং ট্রেনিং নিয়ে এসে দেশে যুদ্ধ করবো।
মে মাসের ৬ তারিখ ভোলায় পাকবাহিনী উপস্থিত হয়। চারদিকে শুরু হয় ধরপাকর, লুট-পাট, হত্যা। আমাদের বাসায় কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩বার লুট-পাট হয়। একবার আমার উপস্থিতিতেই বাসায় তখন আমাদের জায়গির (লজিন) মাস্টার মাওলানা মোহাম্মদ নূরুল্লাহ, কর্মচারী অজিউল্লাহ এবং বৃদ্ধ আমিনির বাপ ছাড়া কেউ আমাদের পরিবারের কেউ তখন ছিল না। মাটি খুরে লুকানো মা-চাচীদের সোনা-গয়না যা ছিল সব নিয়ে ঘর-দোড় তছনস করে চলে যায়। নির্যাতন, অত্যাচার, লুট-পাট, হত্যা চলছিল। মনে তীব্র ক্ষোব ও অসন্তোস নিয়ে ঘুরে চলি।
কি করবো, কোথা থেকে শুরু করবো প্রতিরোধ, প্রতিশোধ ? বয়স আমাদের কম, মাত্র ১৪ বছর। কেউ আমাদের পাত্তা দিচ্ছে না। অবশেষে নিজামের সাথে পরামর্শ করে বাহালুলসহ ভারত যাওয়ার সিদ্ধান্তে দু’জনে মিলে ১০০ টাকা সংগ্রহ করি। নিজামের কাছে কোন টাকা-পয়সা ছিল না। সে আমাদের পথ প্রদর্শক। অবশেষে জুন মাসের ৮ তারিখ দুপুর বেলা যাত্রা শুরু করি ভারতের পথে। খেয়াঘাট গিয়ে বরিশালের লঞ্চে উঠি দুপুর ১২টায়। লঞ্চে আমার এক মামা, মিলন মামার সাথে দেখা। উনি কেন বরিশাল যাচ্ছি তার জন্য নানা রকম প্রশ্ন করেন। আমরা বলি মা-বাবা বরিশালে আমাদের ফুফাতো বোন রেনু আপার বাসায় গিয়ে যেন থাকি। বরিশাল পৌছে লঞ্চ ঘাটে হোটেল ইসলামিয়ায় উঠি। রাতে কারফিউ চলছে। ভয় আর সংকায় রাত যায় না। এমনকি হোটেলের বারান্দার একপাশে টয়লেটেও কেউ যায় না। যদি আর্মিরা দেখে গুলি করে দেয়। সারারাত অজানা ভয়ে পার করে সকালে রওয়ানা দেই স্বরূপকাঠীর উদ্দেশ্যে। প্রথমে রিক্সা, কিছুটা বাস, তারপর পায়ে হেটে বানরি পাড়া। অবশেষে নৌকায় স্বরূপকাঠী গিয়ে নিজামের বন্ধু শাহে আলমের বাসায় উঠি। এর আগে অভিভাবক ছাড়া ভোলার বাইরে যাইনি কখনো, কোন দিন। মা-বাবা, ভাই-বোনদের, বন্ধুদের মুখগুলো ভেসে উঠলো মানষপটে। বিশেষভাবে মা-বাবার জন্য মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমাদের জন্য তাদের নিশ্চয়ই ঘুম চলে গেছে বুঝতে পারছি। কিন্তু দেশে মুক্তির শপথ নিজের সাথে নিজে কোন ভাবেই মন খারপ করা যাবে না, মানষপটে ভেসে উঠে পৃথিবীর যে সমস্ত দেশ শস্বস্ত্র বিপ্লবোর মাধ্যমে নিজেদের স্বাধীন করেছে তাদের কথা।
শাহে আলমের বাসায় দুই দিন থেকে কালু নামে আরেক জনের বাসায় আরো দুই দিন আমরা পার করি। আমরা একই পথের যাত্রী। ক’দিনের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করে অবশেষে ১৩ জুন স্বরূপকাঠী থেকে রাতের অন্ধকারে একটা বড় গয়নার নৌকায় ভারতে উদ্দেশ্যে যাত্রা করি আমরা ১৯ জন। সে আরেক যুদ্ধ, অজানা-অচেনা পথ পদে পদে বিপদ, লক্ষ ভারতের মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং কেম্প। যেতে হবে মুক্তির লড়াইয়ে সামিল হতে। দিনের বেলা নৌকা নদীর কোন বাকে আড়ালে রেখে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থাকার চেষ্টা, রাতে পথ চলা। যে এলাকায় ভয় বেশি রাজাকার-শান্তি বাহিনীর, সেই এলাকায় আমরা দিনেও ঝুকি নিয়েও নৌকা চালাতে থাকি। এভাবে পয়সার হাট, ভেন্না বাড়ীর গেইট, সিএন্ডবি রোড নানান চড়াই উথরাই পেড়িয়ে সপ্তম দিনের বিকেলে আমরা পৌছি যশোরের তালা নামক স্থানে।
এখানে পৌছে দেখি হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক, ফরিদপুর, মদারিপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চলেরই অধিকাংশ মানুষ দলে দলে যাচ্ছে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। সে এক অবর্ননীয় কষ্ট। নারী ও বৃদ্ধদের নিয়েই কষ্ট বেশি। যারা সক্ষম এবং যোয়ানদের সাথে সমান তালে চলতে পারছেন না, আছে খাদ্যের সংকট, তবুও ক্লান্তিহীন পথ চলা। পেছনে আছে রাজাকার, আল বরদ, পাকবাহিনী তো আছেই, কখন হামলে পরে কে জানে ? এর মধ্যেই আছে কিছু অমানুষ সুবিধাবাদী লুটেরা। তারা পাকবাহিনী আসতেছে বলে নিজেরা দৌড়নো শুরু করে, তখন জীবনের মায়ায় সঙ্গের মালপত্র ফেলে বাকি সবাইও দৌড়াতে শুরু করে। সুবিধা বুঝে স্থানীয় গুন্ডা-তস্কররা ওই মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। নিজেদের ঘর-বাড়ী সহায় সম্বল ফেলে জীবন বাঁচাতে যে সকল পরিবার দেশান্তরি হচ্ছে তাদের কষ্ট ঐ লুটেরার দল কিভাবে বুঝবে ?
তালা থেকে রাত্রে নৌকায় গঙ্গারাম নামক একটা জায়গায় পৌছি ফজরের সময়। ইতিমধ্যে একদল লুটেরা যারা নিজেদের পূর্ববঙ্গ সর্বহারা পার্টি বলে দাবী করে আমাদের সঙ্গে যে সামান্য টাকা-পয়সা ছিল লুট করে নিয়ে যায়। গত রাতে খাবার জোটেনি, টাকাও নেই যে খাবো, এখান থেকে ভারতের বর্ডার ৫০ মাইল বলে কেউ কেউ বলছেন।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।