সর্বশেষঃ

ঘন বসতি এলাকায় ইটভাটা, রাস্তা নেই, নেই সাইনবোর্ড, ভ্যাট-আয়কর সনদ

ভোলার চরফ্যাশনে জমি দখল করে ইটভাটা

পরিবেশ বান্ধব দ্বীপজেলা ভোলার আকাশ-বাতাশ নিমিশেই বিশাক্ত করে তুলছে একশ্রেণীর অবৈধ ইটভাটার মালিকরা। তারা অনুমোদন ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক ইটেরভাটা তৈরী করছে। কয়লার পরিবর্তে পুড়ছেন জ্বালানী কাঠ। নেই কোন নীতিমালা। এমনকি জেলা প্রশাসনসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই কোন অনুমোদন। ভ্যাট-আয়কর তো দূরের কথা।
সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, ভোলার সদর উপজেলাসহ সকল উপজেলায় সর্বমোট ২শতাধিকের মত ইটভাটা রয়েছে। যার অনুমোদন আছে মাত্র ৭০টির। তাও আবার অনেকের কাগজ-পত্র পুরোপুরি নেই। কারো কারো সাইনবোর্ড পর্যন্তও নেই। বাকি সবগুলো পরিচালিত হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে। তারা কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা-ই করছেন না। এসব ইটভাটাগুলোর মধ্যেই সবচেয়ে বেশী হচ্ছে চরফ্যাশন উপজেলায়। এখানে বৈধ’র চেয়ে অবৈধ-ই বেশী। এখানে কারো জমিতে সামান্য সমস্যা থাকলেই জোড়-জুলুম আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তুলছেন ইটভাটা। চরফ্যাশন উপজেলার এমন-ই এক ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন রিয়াদ মাহমুদ নামের এক ভুক্তভোগী। যার কপি ভোলার গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে এসেছে।
ওই অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ চরমঙ্গলের ৯নং ওয়ার্ডের খলিফা বাড়ী সংলগ্ন (চর কলমি)-তে তার বাবা ১৯৫২ সনে ৫ একর জমি সরকার বাহাদুর থেকে বন্দোবস্ত নেন। ৬০ বছরের মত ভোগ দখলের পর হঠাৎ ফারুক সিকদার ও খতিয়ান ফারুক নামের দুই ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমিটি দখল করেন। রিয়াদ মাহমুদ গং দখলদারের কাগজের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে দো-কর কাগজ বাতিল হয়। পরবর্তীতে খতিয়ান ফারুক গংরা জয়নাল খতিয়ান নামে এক ভূমিদস্যুকে উক্ত জমিতে ভুয়া তৃকর কাগজ বানিয়ে দিয়ে ইটভাটা করার সুযোগ করে দেন। যার কোন সাইনবোর্ড নেই। নেই কোন অনুমোদন। অথচ এই জমিটির চারদিকে রয়েছে বাড়ী-ঘর। নেই কোন রাস্তা এবং খাল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ জমির সীমানা কোল ঘেসে খলিফা বাড়ীর বসবাসকারী এক বৃদ্ধ জানান, আমার জন্মের পর থেকেই দেখেছি ভোলাইয়্যারা এই জমির মালিক। মাঝে দিয়া ফারুক সিকদার, খতিয়ান ফারুক এরা দখল করছিলো। এহন দেহি হেরাই আরেক ভূমিদস্যু জয়নাল খতিয়ানের কাছে ভুয়া কাগজ বানাইয়্যা ইটের ভাটা বানাইতে দিছে।
স্থানীয় একাধিক লোকের সাথে আলাপ করলে জানা যায়, জমিটা পুরোপুরি কৃষি জমি। চারদিকে ঘন বসতি এলাকা। স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগীতায় জয়নাল খতিয়ান জুলুম করে ইটভাটা দেয়। পুলিশ আসলেই লেবার সহ তারা সকলেই পালিয়ে যায়। তারা চলে গেল আবার শুরু করে কাজ। জয়নাল খতিয়ান, ফারুক সিকদার ওরফে খতিয়ান ফারুক এদের কাজই হলো ভূমি অফিস ম্যানেজ করে পরের জমি দখল করা।
ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে জেলা ব্যাপী। এদিকে গত এক মাস যাবত বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন মিডিয়ায় অবৈধ ইটভাটার কিছু চিত্র ফুটে উঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এমন অনেক অবৈধ ইটভাটার চিত্র।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের কাছে ভোলা জেলায় ৭০টির মত বৈধ ইটভাটার অনুমোদন রয়েছে। বাকিগুলোর কোন হদিস নেই।
অভিযুক্ত জয়নাল খতিয়ানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাটি যেহেতু কেটেছি, ইট তৈরী করবো-ই। বিক্রি করার পর চিন্তা করবো জমিটা কার। আমাকে এখান থেকে উৎখাত করার মত কারো ক্ষমতা নেই। সকল ঘাট ম্যানেজ করেই ইট তৈরী করছি।
ভোলা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশারেফ হোসেন দুলাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভোলার বাণীকে বলেন, বৈধ-অবৈধ মিলে অনেক ইটভাটা আছে। এদের মধ্যে কিছু কিছু আমাদের সমিতির আওতাভুক্ত। এগুলোর ভাল-মন্দ দেখার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের কিছুই করার নাই।
ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের এডি জানান, আমরা খুব শীঘ্রই এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে নিনি বলেন, আমি ভূমি কর্মকর্তা পাঠিয়েছি, তারপরও যেহেতু ইটভাটা বন্ধ করেনি। তাই আমি নিজে গিয়েই তা বন্ধ করে দিবো। যেহেতু তার কোন কাগজ নেই, সেহেতু ওই জমিতে সে কিছুতেই ইটভাটা করতে পারবে না।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।