দৌলতখানে প্রভাবশালীর ইন্ধনে ভিক্ষুককে ভিটা ছাড়া করার পায়তারা

রাশেদা বেগম বয়স (৫০)। তার একটি মানসিক ভারসাম্যহীন বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা সন্তানও রয়েছে। সংসারের খরচ মিটাতে বেছেঁ নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি পেশা। সূর্য্যরে আলো জলার সঙ্গে সঙ্গে সাংসারিক খরচ মিটাতে চলেযান এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে।

আশ্রয় নেয়ার মত কোন রকম একটা ঝুপড়ি ঘর রয়েছে। তাও বৃষ্টি পড়লে মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে থাকতে হয়। তার বাড়ী দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের আসকর পাটোয়ারী বাড়ী নামক এলাকায়।

সম্প্রতি স্বামী আবুল কালাম আজাদ প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তার (প্রথম) স্ত্রী রাশেদা বেগমকে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে তালাক নামা পাঠিয়ে রাশেদা বেগম ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ঘর ছাড়া করার পায়তারায় নেমেছেন।

স্থানীয়রা জানান, তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ নেশা- এবং জুয়ার টাকা যোগাতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে একাধিক বিয়ে করেন । মূলত আবুল কালাম আজাদের সম্পত্তি দখলের জন্যেই একটি প্রভাবশালী মহল তার স্ত্রী রাশেদা বেগমকে তালাক নামা পাঠিয়ে নাটক করে যাচ্ছেন। এছাড়াও এই বৃদ্ধাকে কারণে অকারণে বিভিন্ন সময় মারধর করেন ।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা রাশেদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোন রকম ভিক্ষাকরে বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি । আমাকে ঘরবাড়ী ছাড়া করার জন্য মিথ্যা অনৈতিক সম্পকের অভিযোগ এনে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে আমাকে তালাক নামা পাঠিয়েছে আমার স্বামী আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় বৃদ্ধা রাশেদা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি ভিক্ষা করে জীবনযাপন করায় ভোলা-২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে আমাকে ঘরছাড়া করলে এই বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার দাবী করছি। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বজলার রহমান জানান,এ বিষয় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।