সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-১২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত সংখ্যার পর), এর মাঝে আমার কাছে আবারও অর্ডার আসল বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দিতে হবে। এবার ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ, ব্যান্ড বিউগল, স্যালুটিং ব্যাজ, সবকিছুই থাকবে। আমি অগ্রনী গার্লস স্কুল, ধানমন্ডি গার্লস স্কুল, আজিমপুর গার্লস স্কুল, এই তিন স্কুলের মেয়েদের নিয়ে আজিমপুর, স্কুলে ড্রাম বিউগল ও রাইফেল দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার জানাই। তার দুই দিন পর বঙ্গবন্ধুর বাসায় গেলে তিনি আমাকে “কমান্ডার ইন চীফ অব বাংলাদেশ” উপাধি দেন। আমি খুব হাসতে লাগলাম। বঙ্গবন্ধু হাসতে হাসতে বললেন, আজকের অবজারভারে দেখুন আপনার আর মেয়েদের বিরাট আকারে ছবি বেরিয়েছে। সেই দিনটির কথা আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

আর বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু তার স্মৃতি অহরহ আমাকে ধ্বংস করে। তার স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলাদেশ গড়ার। ৭ কোটি বাঙ্গালীর জন্য কতই না স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। এ দেশকে নিজের সন্তানের মত ভালবাসতেন। আমাদের সুযোগও ছিল এই মহান নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে গড়ে তোলাল। কিন্তু এক কুচক্রী মহল বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। তার কানে এ কথা আসলেও তিনি বিশ্বাস করেন নি। তার বিশ্বাস ছিল বাঙ্গালী তাকে মারতে পারে না। কিন্তু হায় ! বিশ্বাসের এই পরিণতি ! শেষ পর্যন্ত কিনা আর্মিদের হাতেই এই মহান নেতার সপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছে। দেশ যেন দেশের প্রাণই ঝড়ে পড়ল।

সেদিন সন্ধ্যায় আমি তার বাসায় গিয়েছিলাম। তার পরদিন ভোরেই শুনি এ ঘটনা । আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম খবরটা শুনে। আমাদের বাসার কেউ আওয়ামীলীগ না করলেও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সংবাদে সবাই আঘাত পেল। এমনকি কয়েকদিন বাসায় রান্নাবান্নাও বন্ধ ছিল। তখন আমি বুঝলাম অনেকে রাজনীতি পছন্দ না করলেও বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা এ দেশের মানুষের কাছে ছিল। কারণ তিনি ছিলেন এক অদ্বিতীয় নেতা। তার মত নেতা এ দেশে হয়নি আর হবেও না।

কত কষ্টের কত ত্যাগের আমাদের এই স্বাধীনতা, কত স্বপ্ন ছিল, আমরা আমাদের দেশকে সোনার বাংলা গড়ে তুলব। কিন্তু আমরা কি তা সত্যিই পেরেছি। আমি ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সবগুলো মুহূর্তই প্রত্যক্ষ করেছি। আমি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু এই গর্ব আর গর্ব থাকে না । যখন দেখি দেশদ্রেহী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সহ্য করতে পারি না, যখন শুনি বঙ্গবন্ধুর খুনিরা সগৌরবে দেশে বিদেশে জীবন কাটাচ্ছে। তখন, নিজেই ভিতরে ভিতরে ক্ষোভে রাগ ধরে রাখতে পারি না। কি লাভ হলো বঙ্গবন্ধুর জীবন দিয়ে। এ দেশে তো এখন আর শান্তি-স্বাধীনভাবে বাস করার সুযোগ নেই। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা অসহায়ভাবে পথ্যহীন হয়ে মরে আর দেশদ্রোহীরা থাকে রাজার হালে। এই কি আমাদের স্বপ্নের বাংলা। প্রশ্নগুলো যেন দেয়ালে বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে। কার কাছে এ প্রশ্নের উত্তরের ন্যায় বিচারের আশা করা যায়। কে দেবে এর জবাব ?

 

(চলবে————)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।