শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-১৫

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত সংখ্যার পর), কিন্তু কত মায়ের ছেলে হারাবার ব্যথা। কত বোনের ভাই হারাবার কান্না, কত স্ত্রী স্বামী হারাবার ব্যকুলিত হাহাকার। কত বুদ্ধিজীবী, প্রফেসর, জার্নালিস্টদের ওরা মেরে ফেলল। এসব কথা ভেবে আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। কি ব্যথার আর্তি সেদিন আমার বুকে জমে ছিল তা আজ আমি বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার সেই করুন চোখের চাহনি দিয়ে সকলের পরে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের মত তাকিয়ে দেখছিলাম কে ফিরে এল, কে ফিরে এল না। কত মা কাতর নয়নে তার মুক্তিযুদ্ধের হারানো ছেলেকে খুজছিল, কত জন কত জনকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কবে, কখন, কোনদিন, কোন মাসে তার ছেলে মুক্তিযুদ্ধের আন্তানা থেকে ফিরে আসবে।

যুদ্ধ শেষ হলে, দেশ স্বাধীণ হল, বাংলাদেশে স্বাধীন পতাকা ওড়াচ্ছে। মা বলছে, আমার ছেলে ? আমালে ছেলে কই ? কেউ বলছে আসবে, আসবে, এই এল বলে। আর এসেছে কি না আমার জানা নেই, কিন্তু তাদের চোখের জলের ইতিহাস আমার হৃদয়ের পাতায় পাতায় গেঁথে আছে করুন আগুনতি ব্যথার কাতরতা হয়ে।

আমার সোনার বাংলা, বাংলাদেশ স্বাধীন হল, স্বাধীনতার লাল পতাকা নিয়ে আমার আনন্দে ঘোরাফেরা করছি। কিন্তু কি যেন এক হিরকখন্ড মহামূল্য রত্ন, মহামানব, আমাদের মাঝে এখনও ফিরে আসেনি। সে বাংলাদেশের একমাত্র মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেনি।

যেদিন তিনি করাচীর কারাগার থেকে ঢাকায় ফিরে এলেন ? সেদিন বাংলাদেশের বুক জুড়ে আনন্দের ঢেউ খেলে ছিল। আনন্দের জোয়ারের ফুলঝুড়ি ফুল হয়ে ফুটেছিল সে এক আনন্দ ধ্বনি বেজেছিল। বাংলার আনাচে কানাচে, নগরে-মহানগরে, জেলায়, বিভাগে, থানায় মহকুমায়, শাখায়, প্রশাখায়, কোটি কোটি নর-নারী ঢল নেমেছিল ঢাকার বিমান বন্দরে, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। এত লোক যে ঢাকায় আছে তা আমার জানা ছিল না। বঙ্গবন্ধু আসছে শুনে আমি একটা কবিতা লিখে ফেললাম-

তুমি আসছো, তুমি আসছো

শুনছি ক’দিন ধরে,

কল্পনার জাল বিছিয়েছি আকি,

রচনায় বাসনার ঘরে।

আজ তুমি সত্যি আসছো ?

আনন্দে ঘুমোতো পারি না,

ছন্দে ছন্দে, গানে গানে,

বাজছে শুধু বীণা।

 

(চলবে—————)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।