শতাব্দীর মহানায়ক অনন্য মুজিব : পর্ব-১৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত সংখ্যার পর), অসহায় নারীর ক্রন্দন, রিক্ত নিরন্নের পদ দলিত হওয়া করুণ আর্তনাদ, যে দেখেনি সে হয়তো বিস্ময়বোধ করবে। তারা লাখো মানুষকে হত্যা করলো, যুবতীদের ইজ্জত নষ্ট করলো, বুদ্ধিজীবীদের ওদের নীল নকশা অনুযায়ী চোখ বেধে বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে মারল।

বঙ্গবন্ধুকে ২৫শে মার্চ রাতেই করাচী বন্দী করে নিয়ে গেল। আমি সেদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী সাহেবের বাসায় গিয়েছিলাম। মনসুর আলী সাহেব আমাকে বললেন, রশীদ সাহেব কোথায় ? আমি বললাম, উনি তো মাস খানেক আগেই ভোলায় চলে গেছেন। ভোলায় গিয়েও আমি থেমে থাকিনি ভোলায় মহিলা আওয়ামীলীগ গঠন করে মেয়েদের ট্রেনিং দেই হাসপাতালে নার্সিং ট্রেনিং দেই।

নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে হাজার হাজার লাখো লাখো ছেলে বঙ্গবন্ধুর আদেশে ভারত গিয়ে, তদনীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি কাছে আশ্রয় ভিক্ষা করে ওয়েস্ট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ট্রেনিং প্রাপ্ত হবার জন্য প্রার্থনা জানাল। জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে আমাদের বাংলাদেশের ছেলেরা ট্রেনিং প্রাপ্ত হল ও দারুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরী হল। আমরা গোপনে গোপনে সন্ধ্যাবেলা রেডিও-র কাছে কান পেতে সব খোজ খবর পেতাম। বুকটা গর্বে আনন্দে দুলে উঠত নিজ দেশের ছেলেদের কৃতিত্বে।

২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করে করাচীর কারাগারে আটক রাখল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী পরিষদ, সংসদ সদস্যরা সকলেই ভারতে আশ্রয় নিয়ে জীবন বাচাতে লালগল।

আমিও শিশু মেয়টিকে নিয়ে সেই ২৫শে মার্চ ভোলায় গেলাম। ভাগ্যিস মনসুর আলী সাহেবের সাথে দেখা হওয়াতে কিছুটা আচ পেলাম। উনি বললেন, আস্তে করে বললেন, আমরা আর থাকছি না, শীঘ্রই চলে যান। আমি বললাম বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দেবার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী সাহেবের সাথে আমার স্বামীর পাবনায় মেজিষ্ট্রেট থাকাকালীন বেশ উনার বাসায় আসা যাওয়া ও গভীর আলাপ ছিল। উনি তখন পাবনায় একজন আওয়ামীলীগের নেতৃস্থানীয় লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজ্ঞ ছিলেন।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।