ভোলায় বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ ॥ জনমনে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা

(আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার সময়কার তোলা ছবি)

দেশে যখন ক্রান্তিকাল, চারদিকে করোনার ভাইরাসে মানুষ দিশেহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে ভোলায় বাণিজ্যিক ব্যাংগুলো আর্থিক লেন-দেন বন্ধ করে দিয়েছেন। টাকা উত্তোলন করতে পারেছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। অনেকেই টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। আবার অনেকে ফ্যামিলির খরচ মিটানোর অর্থটাও ব্যাংক থেকে তুলতে পারছেন না। সরকার যখন ১০টাকার কেজিতে চাল ও আটা দিচ্ছে, কিন্তু ডিলাররা করতে পারছেন না কোন ব্যাংকিং লেন-দেন। সরকারের সময় বেঁধে দেওয়া কাঁচা বাজার, মুদিসহ ঔষধ ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না কোন ব্যাংকিং সুবিধা। এদিকে দু’একটা ব্যাংক খোলা থাকলেও তারা ব্যাংকিং সেবা দিতে হিমসীম খেতে হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনালী, অগ্রনী, জনতা, স্যোসাল ইসলামী, ন্যাশনাল এবং ইসলামী ব্যাংক ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক-ই খোলা নেই। অন্যান্য সকল ব্যাংক বন্ধ। বন্ধ ওইসব ব্যাংকের গ্রাহকরা পড়েছেন বিপাকে। তারা নিরুপায় হয়ে যে সমস্ত ব্যাংক খোলা রয়েছে সেখানে হুমরি খেয়ে পড়ছেন। আর তখনই ঘটে বিপত্তি।


এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জনসাধারণের সুবিধার্তে সকাল ১০টা থেকে ১২ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে খোলা রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আরো ৩০ মিনিট বাড়িয়ে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেন। কিন্তু স্থানীয় ব্যাংকগুলো নানান অজুহাতে বন্ধ রাখছেন। আবার কোন কোন ব্যাংক নোটিশ টানিয়ে ঘোষণা দিয়ে ব্যাংক বন্ধ করে দেন। এমনই একজন হলেন উত্তরা ব্যাংক এর ব্যবস্থাপক। তার ০১৯৯১১৪৪৪১৮ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের উপর নির্দেশ আছে ব্যাংক বন্ধ রাখার। তথাপি আমরা ভাগ করে ব্যাংক খোলা রেখেছি। ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভোলা, তারপর দক্ষিণে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোলার গ্রাহকরা দক্ষিণে গিয়ে লেন-দেন করবে।
অপরদিকে, ভোলা সদর উপজেলা ছাড়া বাকি অন্যসব উপজেলাগুলোতে সরকারী দু’একটি ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংক ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক ছাড়া কোন ব্যাংকই খোলা নেই।
মুদি ব্যবসায়ী জামাল মিয়া জানান, আজ ১২ এপ্রিল রবিবার সকালে ৬ লাখ টাকার চেক নিয়ে ইউসিবিএল ব্যাংক এ পাঠিয়েছিলাম। গিয়ে দেখে ব্যাংক-এ তালা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঔষধ ব্যবসায়ী বলেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে আমার একাউন্ট। ব্যাংক বন্ধ থাকায় টাকা উত্তোলন করতে পারছি না। দোকানে ঔষধও উঠাতে পারছি না। এমআর’রা নগদ টাকা ছাড়া ঔষধ বিক্রি করছে না।


এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী নেসার উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এই মুহূর্তে ব্যাংক বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘন। জনসাধারণ এর টাকা ব্যাংক-ই থাকে। প্রয়োজনের সময় না পেলে যে কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন এর দায়ভার ব্যাংকগুলোকেই নিতে হবে।
ভোলা ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক এর ম্যানেজার জামাল হোসেন জানান, যত বিপদই আসুক জনগণের দুঃখ, দুর্দশার দিকে তাকিয়ে আমি ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাবো। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আমার হেড অফিসের নির্দেশ মোতাবেক খোলা রেখেছি।
তিনি আরো বলেন, বড় ধরনের ক্রাইসিস বা বিপদ হলে তখন এটা কে সামলাবে ? যারা ব্যাংক বন্ধ রাখছেন তাদেরকে অনতিবিলম্বে এই দুর্যোগ মূহুর্তে ব্যাংকিং সেবা জনগণের দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
ব্যাংক বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, যারা ব্যাংক বন্ধ রেখেছে তাদের ব্যাপারে আমি তদন্ত করে দেখবো। প্রমানিত হলে ওই সকল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যাংক খোলা রাখার ব্যবস্থা করবো।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।