সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত

ভোলার মনপুরায় কর্মস্থলে না থেকে বাড়িতে আরাম আয়েশে রয়েছেন ১৪ সরকারি কর্মকর্তা

( মনপুরার উপজেলা পরিষদের সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অফিসে তালা ঝুলিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থা করছে।)

ভোলার মনপুরা উপজেলার নিজ নিজ কর্মস্থলে নেই ১৪ সরকারি কর্মকর্তা। মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সবাই অফিসে তালা দিয়ে যার যার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে তিন সরকারি দপ্তরের প্রধান রয়েছেন উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটিতে। ওই কর্মকর্তারাও নিজ নিজ বাড়িতে আরাম আয়েশে রয়েছেন।

জনগণের এই দূর্যোগ মুহূর্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তাদের অফিস ও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছেনা। ওই সমস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকার কারণে উপজেলার সবস্থানে করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে সচেতনামূলক প্রচারনা ও প্রশাসনের তদারকি না থাকায় গ্রামের মানুষ সকাল-বিকাল হাট বাজারে আড্ডা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গ্রামের মানুষের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও উপজেলার চারটি ইউনিয়নে উপস্থিত ওই পাঁচ কর্মকর্তার সাথে থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন সকাল-বিকাল ত্রান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশীমে পড়ে গেছেন।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। এছাড়াও মুদি দোকান, ঔষধের দোকান,ফল দোকান ও কাঁচা বাজারের দোকান ছাড়া সকল দোকান-পাঠ বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে গণপরিবহনসহ সকল প্রকার যাত্রীবাহি নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। এছাড়াও তিনি গত ১৭ মার্চ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রধান শিক্ষদের নিয়ে ১৫ সদস্যের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেন।

সরেজমিনে গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ গিয়ে দেখা গেছে, শুনশান নিরবতা। ওই ১৪ সরকারি দপ্তর অফিসে কোন কর্মকর্তা নেই। অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্মস্থলে উপস্থিত নেই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্লা কুমিল্লা নিজ বাড়িতে, কৃষি অফিসার আকাশ বৈড়াগী পিরোজপুর নিজ বাড়িতে, তথ্য কর্মকর্তা আসমা হক ভোলা সদরে নিজ বাড়িতে, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ বরিশালের নিজ বাড়িতে, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস খুলনায় নিজ বাড়িতে, সমবায় কর্মকর্ত ফয়েজ আহম্মদ ঢাকায় নিজ বাড়িতে, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্বে তজুমুদ্দিনে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ( অতিরিক্ত দায়িত্বে) রুপকুমার পাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ অতিরিক্ত দায়িত্বে তজুমুদ্দিনে কর্মস্থলে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিপু সুলতান, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা দায়িত্বে মোঃ তারেক, খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা আবু সাইদ (অতিরিক্ত দায়িত্বে), হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ ইমতিয়াজ (অতিরিক্ত দায়িত্বে) লালমোহনে, ইউআরসি কর্মকর্তা সাইদ মোঃ রেজাউল করিম, সাবরেজিস্টার নিহার রঞ্জন বিশ্বাস, উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মোঃ মোকাম্মেল হক তজুমুদ্দিনে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। এদের সবার সাথে মুঠোফোনে আলাপ করে এই সমস্ত তথ্য জানা যায়।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, বেশিরভাগ কর্মকর্তা না থাকায় ত্রান পরিচালনা ও সচেতনতা কার্যক্রমে হিমশীম পড়ে গেছি। সরকারি নির্দেশনা না মেনে যারা কর্মস্থলে উপস্থিত নেই তাদের সবার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।

 

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।